দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার জাবি উপাচার্যের



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
চলমান ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন জাবি উপাচার্য, ছবি: সংগৃহীত

চলমান ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন জাবি উপাচার্য, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ‘শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে’ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমন অভিযোগকে ‘মিথ্যা গল্প’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্দোলন ও সংকট সমাধানে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আগামী বুধবার আলোচনায় বসবেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন জাবি উপাচার্য। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম রাব্বানীর তোলা অভিযোগের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

এছাড়া উপাচার্য নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এ অভিযোগের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন।

আরও পড়ুন: জাবির উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ৬ শতাংশ চাঁদা দাবি শোভন-রাব্বানীর

উপাচার্য বলেন, ‘গত ৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার বাসভবনে আলোচনার জন্য আসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তারা উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে চাঁদা দাবি করেছিলেন।’

উপাচার্য এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আর এতেই শোভন-রাব্বানী হতাশ হয়েছিলেন। সে কারণেই এখন তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় সেখানে শোভন-রাব্বানী গিয়ে প্রকল্পের ২-৩টি টেন্ডারের শিডিউল দাবি করেছিল বলেও জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা এক চিঠিতে রাব্বানী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টানেন। সেখানে রাব্বানী উল্লেখ করেন, ‘জাবি প্রশাসন (বিশ্ববিদ্যালয়) শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছে।’

আরও পড়ুন: দুর্নীতির বিষয় অমিমাংসিত রেখেই শেষ হলো আলোচনা সভা

রাব্বানীর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শাখা ছাত্রলীগ রাব্বানীর এ বক্তব্যকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অপরিকল্পনার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। উপাচার্য প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে দুই কোটি টাকা জাবি শাখা ছাত্রলীগকে দিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে তিন দফার দুটি মেনে নেয় প্রশাসন। আর দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে আইনি যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার আবার বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তারা।