‘অর্থলোলুপ’ জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি শিক্ষকদের

জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অর্থলোলুপ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’।

এদিকে, উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয় উপাচার্য ‘অর্থলোলুপ’ নন বরং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

উপাচার্য প্রকল্পের টাকা থেকে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে দিয়েছেন এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবি পেশ করেন।

একই দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিছিল, মিটিং, সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের চাপে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবির মধ্যে দুইটা দাবি মেনে নেন। এছাড়া আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে অর্থ কেলেঙ্কারির বিচার বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস প্রদান করেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। আর এ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী, বিএনপি ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের নেতারা।

তবে দীর্ঘ আন্দোলনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি না করলেও এবার অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের পদ হারালেন শোভন-রাব্বানী

এক বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, ‘উপাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যদের তত্ত্বাবধানে ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে’র টাকা ভাগাভাগির সংবাদ এখন সারা দেশের সবচেয়ে আলোচিত সংবাদ। উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুটপাটের ঘটনায় দেশের প্রথম নারী উপাচার্যের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে অনেকের মনে কিঞ্চিৎ সংশয় থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ‘খোলা চিঠি’ নিশ্চিত বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। এ অবস্থায় দুর্নীতিগ্রস্ত এই উপাচার্যের আর স্বপদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।’

তারা আরও বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে। উপাচার্য ও তার পরিবারের দুর্নীতির নানা খবর কারোরই অজানা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অসম্মান করা, হেয় করে রুচিবহির্ভূত ও কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডিস ক্লাবের সভানেত্রী হিসেবে উপাচার্যের স্বামীর দায়িত্ব পালন (বাংলাদেশে মহিলা ক্লাবের প্রথম পুরুষ সভাপতি হিসেবে তিনি ইতিহাস গড়েছেন), লেডিস ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে নীতি ভঙ্গ করে অর্থ লুটপাট ইত্যাদি সংবাদ জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।’

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের খোলা চিঠি উপাচার্যের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে যা জানতে পেরেছি তাতে প্রমাণিত হয় অধ্যাপক ফারজানা দুর্নীতির সাথে জড়িত।’

আরও পড়ুন: দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার জাবি উপাচার্যের

তবে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম তার বিরুদ্ধে তোলা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপাচার্য বলেন, ‘অভিযোগের তদন্তের জন্য আচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে অনুরোধ জানাবো।’

এদিকে, উপাচার্যকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেছেন, ‘তিনি যে বলেছেন আমরা তার কাছে গিয়ে চার থেকে ছয় পার্সেন্ট দাবি করেছি, এটা তিনি প্রমাণ করুন।’

আপনার মতামত লিখুন :