আন্দোলনকারী জাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন

জাবি করেসপন্ডেন্ট
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন | ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন | ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলনকারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য বিরোধী বলে পরিচিত একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা শিক্ষকদের তালিকায় আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরিফ এনামুল কবীরসহ বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামিমা সুলতানা, অধ্যাপক তারেক রেজা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রনু।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, সহ-সভাপতি নিয়ামুল হোসেন তাজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্ল্যা।

এ বিষয়ে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কণ্ঠরোধ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর যথপোযুক্ত প্রতিক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানাবেন।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘যাদের মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একগুয়েমিতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই অপরাধে রাষ্ট্র কখনও নাগরিকের কণ্ঠরোধ করতে পারে না। রাষ্ট্র তখনই কণ্ঠরোধ করতে পারে যখন সেটা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। আমার জানা মতে যাদের মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে তারা কেউই এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত না।‘

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের গেস্ট রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা জানান শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

সংবাদ সম্মেলনে সাদ্দাম হোসাইন দাবি করেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ২৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করা এবং এ দুর্নীতির সাথে উপাচার্য, তার ছেলে ও স্বামী, ব্যক্তিগত সচিব ও প্রকল্প পরিচালকের সংশ্লিষ্টতার কথা বলায় আমাদের মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।’

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাবির অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা দুর্নীতির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও জাবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তরের ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। ওই অডিও রেকর্ডে প্রকল্পের টাকা থেকে শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি টাকা চাঁদা দেওয়ার কথা বলা হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্দোলন ও তিন দফা দাবির মধ্যে উপাচার্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যাপারে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে বুধবার আলোচনায় বসার কথা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসবেন কিনা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীরা মিটিং করছেন। যা এখনও চলমান বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার।