Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

তামিম-সৌম্যর সেঞ্চুরিতে বিশাল জয়

তামিম-সৌম্যর সেঞ্চুরিতে বিশাল জয়
প্রস্তুতি ম্যাচে শতরান পেলেন তামিম-সৌম্য
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যাচ শেষে একজন বললেন-ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি এই ম্যাচে ৫০০ রানও করতো, তাও বিসিবি একাদশই জিততো!

বিসিবি একাদশ পুরো ম্যাচে এমন দাপুটে ব্যাটিং করেছে, যা দেখে এই মন্তব্য। ৩৩২ রানের টার্গেটকে ৫০ ওভারের ম্যাচে বিশাল টার্গেট মানতেই হবে। কিন্তু সেই বিশাল টার্গেটও ও যে বিসিবি একাদশের সামনে একেবারে ‘মামুলি’ হয়ে গেল! ৯ ওভার হাতে রেখে ৫১ রানে বিসিবি একাদশের ম্যাচ জয়ী স্কোরকার্ড যে সেই প্রমাণই দিচ্ছে! আলোর স্বল্পতায় দিনের শেষভাগে আম্পায়াররা যখন খেলা শেষ করেন তখন ডার্কওয়ার্থ লুইস মেথেডে বিসিবি একাদশ অনেক এগিয়ে। সেই ডিএল মেথেডে বিসিবি একাদশ ম্যাচ জেতে ৫১ রানের বড় ব্যবধানে।

তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি করে বিসিবি একাদশকে ম্যাচ জয়ের পথ দেখান। আর খানিকবাদে সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরিতে জয়ের বাকি কাজটা সহজেই সেরে ফেলে বিসিবি একাদশ। তামিম করেন ৭৩ বলে ১০৭ রান। সৌম্যর ব্যাট থেকে আসে ৮৩ বলে অপরাজিত ১০৩ রান। অর্থাৎ জয়ের টার্গেট ৩৩২ রান। এই দুজনেই মিলে করলেন ২১০ রান!

হোক না প্রস্তুতি ম্যাচ। তাতে কি? বিকেএসপিতে এই প্রস্তুতি ম্যাচে ডিএল পদ্ধতিতে ৫১ রানের বিশাল জয়ে মাশরাফির দল জানিয়ে দিলো তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন সময়।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে সকালে টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৩১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাড় করায়। ওপেনার সাঁই হোপ এবং মিডলঅর্ডারে রোস্টন চেজের হাফসেঞ্চুরিতে এই বড় যোগাড় দাড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষের দিকে ফ্যাবিয়েল অ্যালেনের ৩২ বলে ৪৮ রানের ইনিংসও বিকেএসপির মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটিংয়ের দ্যুাতি ছড়ায়।

তবে জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই বিসিবি একাদশের মারমার কাটকাট ব্যাটিংয়ের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং চুপসে পড়ে। প্রথম পাওয়ার প্লেতে সত্যিকার অর্থেই ‘পাওয়ার’ দেখান তামিম ইকবাল। ওপেনিং জুটিতে ৮১ রান উঠলো মাত্র ৯ ওভারে। ইমরুল কায়েস ২৫ বলে ২৭ রান করে ফিরলেও তামিম ইকবার সেঞ্চুরি তুলেই মাঠ ছাড়লেন। ১৫ সেপ্টেম্বর ইনজুরিতেতে পড়ার পর এই প্রথম মাঠে নামলেন তামিম। আর নেমেই সেঞ্চুরি! মাত্র ৭০ বলে সেঞ্চুরি পুরো হয় তার। ১৩ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৭৩ বলে ১০৭ রান তামিম যখন ফিরে আসছেন বিসিবি একাদশ তখন ম্যাচ জয়ের শক্ত ভিত পেয়ে গেছে। সৌম্য সরকার অপরাজিত সেঞ্চুরি করে সেই ফিনিসিংটা পুরো করেন।

সকালে ৮ ওভার বল করে সৌম্য সরকার কোন সাফল্য ছাড়াই ৭২ রান খরচা করেছিলেন। ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ধুমসে পিটিয়ে সেই ক্ষোভ যেন মিটিয়ে নিলেন!

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগামী ৯ ডিসেম্বর মিরপুরে মুখোমুখি হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৩১/৮ (৫০ ওভারে, সাঁই হোপ ৮১, পাওয়েল ৪৩, ব্রাভো ২৪, হেটমায়ার ৩৩, চেজ ৬৫, অ্যালেন ৪৮, অতিরিক্ত ২০, ওয়াইড বল ১৩, রুবেল ২/৫৫, মাশরাফি ১/৩৭, মেহেদি হাসান রানা ২/৬৫, অপু ২/৬১, শামীম পাটোওয়ারি ১/১৬)। বিসিবি একাদশ: ৩১৪/৬ (৪১ ওভারে, তামিম ১০৭, ইমরুল ২৭, সৌম্য ১০৩*, মিঠুন ৫, আরিফুল ২১, তৌহিদ ০, শামীম ৯, মাশরাফি ২২*,  চেজ ২/৫৭)। ফল: ডার্কওয়ার্থ লুইস মেথেডে বিসিবি একাদশ ৫১ রানে জয়ী।

আপনার মতামত লিখুন :

অবসরের সিদ্ধান্ত জানাতে দু’মাস সময় চেয়েছেন মাশরাফি

অবসরের সিদ্ধান্ত জানাতে দু’মাস সময় চেয়েছেন মাশরাফি
মাশরাফির অবসর নিয়ে রহস্য কাটছেই না

মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার বিষয়টা নিয়ে আর লুকোছাপা করছে না বিসিবি। এই বিষয়ে মাশরাফির নিজস্ব সিদ্ধান্ত কি সেটা বিসিবি জানতে চায়। শনিবার বিসিবির কার্যালয়ে এসে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে গেছেন মাশরাফি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে আরো দু’মাস সময় চেয়েছেন। তখনই জানাবেন নিজের অবসর নেয়ার তারিখ।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের জানান-‘মাশরাফিকে আমরা এখানে ডেকেছিলাম। নতুন কোচ আমরা নিচ্ছি, সে বিষয়েও তার সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাছাড়া তার অবসরের বিষয়টিও প্রসঙ্গ ছিলো। মাশরাফি জানিয়েছে- সে মাস দুয়েকের পরে তার সিদ্ধান্ত আমাদের জানাবে।’

সামনের মাসে তিনজাতি টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে আসছে বাংলাদেশ সফরে। সেই সফরে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটি ওয়ানডে ম্যাচের আয়োজন করে বিসিবি মাশরাফিকে বিদায় জানানোর প্রাথমিক একটা পরিকল্পনা করেছিলো। তবে আপাতত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বিসিবি।

নাজমুল হাসান বলছিলেন-‘মাশরাফি যখন সময় চেয়েছে তখন আমরা সেটা মেনে নিয়েছি। তাছাড়া চলতি বছর আমাদের আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ নেই। তাই আমরা অপেক্ষায় থাকতেই পারি।’

লম্বা সময় ধরে ক্রিকেট খেলে যাওয়া অনেক ক্রিকেটারের ভাগ্যেই মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার সৌভাগ্য হয়নি। মাশরাফির অন্তত যাতে সেই সৌভাগ্য হয়, সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে বিসিবি।

২১ আগস্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিচ্ছেন কোচ ডোমিঙ্গো

২১ আগস্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিচ্ছেন কোচ ডোমিঙ্গো
টাইগারদের নতুন হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো

বাংলাদেশ কোচের সম্ভাব্য তালিকায়  বেশ কয়েকজনের নামই ছিলো। তবে এদের মধ্যে একজন বাদে বাকি সবাই স্কাইপে বা টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দেন। ব্যতিক্রম ছিলেন শুধুমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকার রাসেল ডোমিঙ্গো। চলতি মাসের শুরুর সপ্তাহে ঢাকায় এসে স্ব-শরীরে কোচের পদে সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন রাসেল। সেই তাকেই সামনের দু’বছরের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে বিসিবি।

জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে আগামী ২১ আগস্ট ঢাকায় আসছেন নতুন কোচ। সেদিন থেকেই তিনি কাজ শুরু করতে চান। কোচের এই রেসে অনেকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তালিকাটা একেবারে ছোট করে আনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। টিকে থাকেন নিউজিল্যান্ডের মাইক হেসন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রাসেল ডোমিঙ্গো।

লড়াইটা জিতলেন ডোমিঙ্গো।

মুলত বেশিসময় ধরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন এই বিবেচনায় ডোমিঙ্গোকে বেছে নিয়েছে বিসিবি। সাক্ষাৎকার পর্বেই ডোমিঙ্গো জানিয়ে দেন-তার কোনো ছুটিছাঁটা লাগবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু সিরিজ চলাকালে নয়, বাকি সময়টুকুও কাটাতে তার কোনো সমস্যা নেই।

রাসেল ডোমিঙ্গোকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিতে পেরে বিসিবি সভাপতিও বেশ সন্তুষ্ঠ-‘খুব অভিজ্ঞ একজন কোচ পেয়েছি আমরা। তার ক্রিকেট কোচিংয়ের দর্শন এবং ভালবাসা দেখে আমরা মুগ্ধ। বাংলাদেশের মতো একটা দলকে সামনে টেনে নিয়ে যেতে হলে সত্যিকার অর্থেই কিসের প্রয়োজন সেই সম্পর্কে তার ধারনাটা বেশ পরিস্কার।’

বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোও ভীষণ খুশি-‘বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় একটা সন্মানের বিষয়। আমি ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রগতি বেশ ভালো ভাবে লক্ষ্য করে আসছি। এই দলকে তাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে সহায়তা করতে আমি খুবই আগ্রহী। লক্ষ্য পুরুনের সমস্ত যোগ্যতা আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের।’

ক্রিকেটার হিসেবে তেমন নামি দামি কেউ না হলেও কোচিং ক্যারিয়ারে রাসেল ডোমিঙ্গো খুব হাই প্রোফাইল। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ছিলেন। ২০১০ সালে ডোমিঙ্গো দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের কোচের দায়িত্ব পান। ২০১১ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের সহকারি কোচের পদে নিয়োগ পান। একবছরের মধ্যেই তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচের চাকরিটা পেয়ে যান। ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাসেল ডোমিঙ্গো দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র