Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

নেট বোলার থেকে ম্যাচে নেমে হ্যাটট্রিক!

নেট বোলার থেকে ম্যাচে নেমে হ্যাটট্রিক!
আল ইসলাম, অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব!
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই হ্যাটট্রিক! ভাবছেন বিস্ময়ের এখানেই শেষ। আরে নাহ্, এই প্রথম মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলেছেনও আল ইসলাম। এর আগে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। কিন্তু কখনো কোনো ম্যাচে খেলেননি!

বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের ড্রাফটেও ছিলেন না তিনি। ছিলেন নেট বোলার! তো, নেটে তার বোলিং দেখে তাকে ডেকে নিলেন ঢাকা ডায়নামাইটের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। সেই প্রসঙ্গে আল ইসলাম বলছিলেন, `নেট বোলিং করার সময় সুজন ভাই আমাকে দেখেন। আমার বোলিং দেখে ওনার পছন্দ হয়। আমাকে দলে নিলেন। ওনার বিশ্বাস হয় যে আমি পারবো। পুরো টিম ম্যানেজমেন্টও আমাকে সমর্থন দেয়। এই যে সবাই আমাকে সমর্থন দিয়েছে এটাই আমার সাফল্যের মূল কারণ।’

হঠাৎ করে নেট বোলার থেকে একেবারে বিপিএলের বড় মঞ্চে নেমে পড়ার শুরুর পর্বটা খুব একটা সুখের কিছু ছিল না আল ইসলামের। ম্যাচের সাত নম্বর ওভারের সময় তার হাতে বল তুলে দেন সাকিব। সেই ওভারে ৭ রান খরচা হয় তার। পরের ওভারেই অন্যভাবে ম্যাচে আলোচিত হন তিনি। শুভাগত হোমের করা ম্যাচের অস্টম ওভারে এক বলের ব্যবধানে দুই দুটো সহজ ক্যাচ ছাড়েন আল ইসলাম! তাও আবার একই জায়গায় দাড়িয়ে, শর্ট ফাইন লেগে। ব্যাটসম্যানও একই, মোহাম্মদ মিঠুন। এই দুটো ক্যাচ মিসের দৃশ্যই জানিয়ে দেয় পুরোপুরি নার্ভাসনেস পেয়ে বসেছে তাকে! ক্যাচ মিস করে হাসছেন, কিন্তু সেই হাসিতে ফ্যাকাশে হাসি!

এক ওভারে দুটো ক্যাচ মিসের সেই ‘দুর্ঘটনা’ প্রসঙ্গে আল ইসলাম বলছিলেন, ‘এটা বিপিএলে আমার প্রথম ম্যাচ। আরেকটু বলতে গেলে এই স্টেডিয়ামে এটাই আমার প্রথম ম্যাচ! শুরুতে আমি একটু বেশিই নার্ভাস ছিলাম। এমন অবস্থায় আমি আবার দুটো ক্যাচও মিস করে ফেলি। তবে সেই কঠিন সময়ে আমার টিমমেটরা আমাকে সমর্থনই দিয়েছে। কোচও আমাকে সমর্থন দিয়েছে। মানষিক শক্তি যুগিয়েছে। এই সাহস পাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে আমি যদি আবার ভাল বল করতে পারি তাহলে ভাল কিছু হতেও পারে। আমি সেটা মেনেই বল করে গেছি।’

আরও পড়ুন

ম্যাচের বাকি সময় আল ইসলাম যা করেছেন সেটাই তৈরি করলো নতুন ইতিহাস। বিপিএলে হ্যাটট্রিকের ঘটনা আরও আছে। কিন্তু অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক এই প্রথম দেখলো বিপিএল। একেবারে অজানা-অপরিচিত অফস্পিনার আল ইসলাম তার অভিষেক ম্যাচের জন্য এত রোমাঞ্চ জমিয়ে রেখেছিলেন কে জানতো?

বড় মঞ্চের ক্রিকেটে খেলতে এসেই হ্যাটট্রিক এবং ম্যাচ জয়ী পারফরমেন্স দেখানো ২৩ বছর বয়সি এই তরুণ নিজেই তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের কাহিনী বলছিলেন, ‘কাঠাঁল বাগান গ্রীন ক্রিসেন্ট ক্রিকেট ক্লাব থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করি। তারপর আমি কয়েকবছর দ্বিতীয় বিভাগে খেলার পর প্রথম বিভাগে খেলি ডিওএইচএসে। তারপর এই বিপিএলে খেলছি। আমি আসলে ঢাকার বাইরের কেউ না। সাভাররের বলিয়ারপুরে আমার বাসা।’

নাটকীয় হ্যাটট্রিকের সেই ওভার প্রসঙ্গে আল ইসলাম বলছিলেন, ‘সাকিব ভাই তখন আমাকে শুধু বলছিল ভাল বোলিং হচ্ছে, তুই শুধু ভাল জায়গায় বল করতে থাক। আমি সেটাই করে গেছি।’

জীবনের প্রথম বড় ম্যাচ। সেই ম্যাচে বড় ঘটনা ঘটানোর নায়ক। সাকিব বনাম মাশরাফির হেভিওয়েট ম্যাচে সেরা হওয়া। প্রথম ম্যাচের পরেই সংবাদ সম্মেলনে আসা। বিস্ময়ের ঘোরে বাকি সবাই থাকলেও এই তরুণ সংবাদ সম্মেলন থেকে উঠে যাওয়ার সময় যা বললেন সেটাই জানান দিলো জীবনের প্রথম বড় ম্যাচ খেলতে নামলেও সামনের সময়ে আরও অনেক বড়কিছু করার অপেক্ষায় আল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে আল ইসলামের শেষ কথাটা ছিল, ‘আসলে হ্যাটট্রিক করা যায় না। হ্যাটট্রিক হয়ে যায়!’

গুড শো ইয়াং ম্যান

আপনার মতামত লিখুন :

ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটছেন মাহমুদউল্লাহ

ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটছেন মাহমুদউল্লাহ
ইনজুরিতে কাবু মাহমুদউল্লাহ। ক্র্যাচে ভর করে হাটতে হচ্ছে তাকে- ছবি: ফেসবুক

মন বিষণ্ন করা এক ছবি! সাউদাম্পটনের গ্র্যান্ড হারবার হোটেলের সামনে ক্র্যাচে ভর করে হাঁটছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ! লাগেজ হাতে সামনেই তার স্ত্রী। এই স্থিরচিত্রটা দেখেই মন খারাপ টাইগার ভক্তদের। দলের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবেন তো?

প্রশ্নের উত্তর এখনই মিলছে না। বিশ্বকাপে বিরাট কোহলিদের সঙ্গে ম্যাচটি ২ জুলাই। হাতে লম্বা সময়। ডান পায়ের কাফ মাসলের চোট কাটিয়ে উঠতে কম করে হলেও সাতদিন সময় পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। এরমধ্যে সেরে উঠতেও পারেন তিনি।

বাংলাদেশ দলের দলের ফিজিও থিলান চন্দ্রমোহন জানিয়ে রেখেছেন, ‘মাহমুদউল্লাহর পায়ের পেশিতে অল্প মাত্রার (লো গ্রেডের) চোট লেগেছে। আগামী কয়েকদিন তার শারীরিক উন্নতিটা পর্যবেক্ষণ করব। তারপরই বুঝতে পারবো পরিস্থিতি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561461168799.jpg

বিশ্বকাপে কাঁধের চোট নিয়েই খেলতে গিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এজন্য বোলিং করতে পারছিলেন না। সঙ্গে যোগ হয়েছে পেশিতে চোট। এই আঘাত নিয়েও সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নামেন তিনি। উইকেটে যাওয়ার একটু পরই খোঁড়াতে শুরু করেন। তারপর ফিজিও এসে প্রাথমিক চিকিৎসা খেলে যান। আর ৩৮ বলে করেন ২৭ রান।

আপাতত মাহমুদউল্লাহর বিকল্প ভাবছে না টিম ম্যানেজম্যান্ট। হাতে সময় আছে আবার বিকল্প হিসেবে মোহাম্মদ মিথুনও আছেন।

বার্মিংহামে ২ জুলাই ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ। তার আগে টাইগার ক্রিকেটাররা রয়েছেন ছুটির মেজাজে। সপরিবারে প্যারিসে বেড়াতে যাচ্ছেন সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসান। পাঁচদিন ছুটিতে স্কোয়াডে থাকা অন্য ক্রিকেটাররাও খোশ মেজাজে। কিন্তু বার্মিংহামে হোটেলেই বিশ্রামে কাটাতে হচ্ছে মাহমুদউল্লাহকে।

যুবরাজের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছেন সাকিব

যুবরাজের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছেন সাকিব
যুবরাজের মতোই ব্যাটে-বলে দাপট দেখাচ্ছেন সাকিব

৬ ইনিংসে ব্যাট হাতে খেললেন- ৭৫, ৬৪, ১২১, ১২৪*, ৪১ ও ৫১ রানের ইনিংস। আর বল হাতে নিয়েছেন মোট ১০ উইকেট। সন্দেহ নেই সাকিব আল হাসান এবারের বিশ্বকাপে এখন অব্দি সেরা ক্রিকেটার। প্রায় প্রতি ম্যাচেই মাঠে নেমে গড়ছেন বিরল রেকর্ড। এই যেমন সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে দাপটের পর অনন্য উচ্চতায় পা রেখেছেন এই অলরাউন্ডার।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে হাজার রান ও ৩০ উইকেটের মাইলফলকে পা রাখা প্রথম খেলােয়াড় সাকিব। তার দাপুটে পারফরম্যান্স ফিরিয়ে এনেছে ২০১১ বিশ্বকাপের স্মৃতি। যেখানে এভাবেই চমক দেখিয়েছিলেন যুবরাজ সিং।

বাংলাদেশ যে তিন ম্যাচ জিতেছে, প্রতিটিতেই সাকিব ম্যাচসেরা। ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থাকা এই ক্রিকেটাররের ব্যাট-বলে ঝড় দেখে মুগ্ধ বিশ্লেষকরা। ২০১১ বিশ্বকাপ এমন পারফম্যান্সে ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন যুবি। টুর্নামেন্ট-সেরা এই তারকা ব্যাট হাতে করেন ৩৬২ রান। আর বল হাতে নেন ১৫ উইকেট।

আফগানদের বিপক্ষে হাফ-সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট শিকার করে যুবিকে ছুঁয়ে ফেললেন সাকিব। ২০১১ বিশ্বকাপে এভাবেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৫০ রানের ইনিংসের সঙ্গে তিনি নেন ৫ উইকেট। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফিফটির সঙ্গে ৫ উইকেট জেতার রেকর্ডটা এবার স্পর্শ করলেন সাকিব।

সাকিবের এমন পারফরম্যান্সে চলছে বন্দনা। সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন জহির খানও। ভারতীয় সাবেক এই তারকাই ফিরিয়ে তুলনাটা করলেন যুবির সঙ্গে। বলেন, ‘টুর্নামেন্টে সাকিব মনে হচ্ছে যুবরাজ সিংয়ের মতো খেলে যাচ্ছে। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে যুবরাজ প্রতি ম্যাচেই ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব এমনটাই করছে। ও প্রতি ম্যাচেই ভালো খেলছে। নিজেকেই যেন একটু একটু করে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’

সবকিছু ঠিক থাকলে সাকিবের হাতেই হয়তো বিশ্বকাপের ‘প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট’ ট্রফি উঠতে পারে। যদিওসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার চালুর পর একটি অলিখিত নিয়মও আছে। যেটি হলো ন্যূনতম সেমি-ফাইনাল খেলেছে এমন দলের পারফরমারই জেতেন সেরা ট্রফি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সেমিতে উঠার সম্ভাবনা আছে। সেটি না হলেও সাকিবকে সেরা ঘোষণা করলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না!

এবারের বিশ্বকাপে বাকী দুই ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ভারত ও পাকিস্তান। সেই ম্যাচ দুটিতে ভাল খেলে রান ও উইকেটসংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে সাকিবের সামনে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র