Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রোবি ফ্রাইলিঙ্ক: কঠিন ম্যাচ সহজে জেতান যিনি!

রোবি ফ্রাইলিঙ্ক: কঠিন ম্যাচ সহজে জেতান যিনি!
রোবি ফ্রাইলিঙ্ককে ঘিরে আনন্দে মেতেছে চিটাগংয়ের ক্রিকেটাররা
এম. এম. কায়সার
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

তিন ম্যাচে দুটোতে জিতেছে চিটাগং ভাইকিংস। আর এই দুই জয়েই দলের হয়ে বড় ভুমিকা রেখেছেন রোবি ফ্রাইলিঙ্ক। কখনো ব্যাটে। কখনো বল হাতে। টি-টুয়েন্টির ঠিক পারফেক্ট ক্রিকেটার বলতে যা বোঝায় পুরোদুস্তর সেটাই এই দক্ষিণ আফ্রিকান।

প্রায় হিসেবের বাইরে থাকা ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছেন দলকে। বল হাতেও চমৎকার ফর্মে আছেন। ব্যাট হাতেও বিগ শট খেলে কম বলে বেশি রানের কঠিন টার্গেটকে সহজ বানিয়ে দিচ্ছেন।

খুলনার বিপক্ষে ম্যাচে শেষ ওভারে ব্যাটে এবং সুপার ওভারে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখান ফ্রাইলিঙ্ক।

খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে শেষ ওভারে চিটাগং ভাইকিংসের প্রয়োজন ছিলো ১৯ রান। সেই ওভারে আবার প্রথম বলে কোন রান হলো না। দ্বিতীয় বলে নাঈম হাসান ছক্কা মারলেন। তৃতীয় বলে তিনি আউট। পরের দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে নাটকীয়ভাবে চিটাগংয়ে জয়ের একদম কাছে নিয়ে গেলেন ফ্রাইলিঙ্ক। আরিফুল হকের করা পঞ্চম বলে যে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ফ্রাইলিঙ্ক, সেটা ছিলো কোমর সমান উচ্চতায় আসা ফুলটস। ফ্রাইলিঙ্ক ছক্কা হওয়ার পর সেই বলটা ‘নো’ কলের জন্য আম্পায়ারের কাছে ছুটে গিয়ে দাবি জানান। সেই বলটা নো হলেই ওতে ৭ রান আসে। তখনই ম্যাচ জিতে যায় চিটাগং ভাইকিংস। কিন্তু আম্পায়ার সেই বল ‘ নো’ কল করেননি। ওভারের শেষ বলে ফ্রাইলিঙ্ক কোন রান নিতে পারেননি। রান আউট হয়ে যান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে ১২ রানের টার্গেট ছুঁতে পারেনি খুলনা। ঠিক জায়গায় বল রেখে দলকে ১ রানের জয় এনে দেন চিটাগংয়ের এই বিদেশি ক্রিকেটার। নাটকীয় এই জয়ের পর ফ্রাইলিঙ্ক বলছিলেন-‘আমি এখনো বিশ্বাস করি শেষ ওভারের পঞ্চম ঐ বলটা ছিলো নো বল। কিন্তু আম্পায়ার ভিন্নমত পোষণ করেন। কি আর করার! পুরো ম্যাচটা দুর্দান্ত হয়েছে। দু’দলই ভালো খেলেছে। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো একটা দলকে হারতেই হতো!’

ব্যাটে-বলে ম্যাচ জেতানোর এমন কৃতিত্ব ফ্রাইলিঙ্কের জন্য নতুন কিছু নয়। বললেন-‘আমি সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামি। জানি ওখানে আমাকে কম বলে বেশি রান করতে হবে। কখনো কখনো শেষ ওভারে ১৫ রান নিতে হবে। আবার কখনো বল হাতে শেষ ওভারে ১০ রানও ডিফেন্ড করতে হবে। আমি এও জানি এমনসব ম্যাচে কখনো আমি পারবো। কখনো প্রতিপক্ষ পারবে। আজ এই দিনটা ছিলো আমার।’

চলতি বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংস তিন ম্যাচে দুটিতে জিতেছে। এই দুই ম্যাচেই জয়ের নায়ক রোবি ফ্রানলিঙ্ক। দুটোতেও ম্যাচ সেরা তিনি। সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে যে ম্যাচে হেরেছে চিটাগং, সেখানেও ফ্রাইলিঙ্কের ব্যাটে-বলে পারফরমেন্স অনবদ্য। ২৪ বলে ৪৪ রান। এবং ২৬ বলে ৩ উইকেট শিকার। যে ম্যাচে দল জিতছে সেখানে সেরা পারফরমেন্স তার। যে ম্যাচে জিততে পারেনি, সেখানেও সেরা চেষ্টাটা তারই!

ক্যারিয়ারের লম্বা সময় জুড়ে ম্যাচে এমন জমাট মূহূর্ত দেখে এসেছেন এবং সেই সময়টা জয়ও করেছেন; সেই অভিজ্ঞতাই ফ্রাইলিঙ্ককে এমনসব কঠিন সময়েও শান্ত ও ধীরস্থির থাকতে সহায়তা করেছে।

ম্যাচের চরম উত্তেজনার সময়ও এত শান্ত ভঙ্গিতে থাকার সেই রহস্য প্রসঙ্গে ফ্রাইলিঙ্ক জানালেন-‘অনুশীলন করা। ভালভাবে অনুশীলন করা এবং দক্ষতা বাড়ানো। তাহলেই এমনসব কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়া যায়, জেতা যায়।’

কঠিন ম্যাচ জেতানোর ফ্রাইলিঙ্কের সহজ ফর্মুলা তাহলে এই!

আপনার মতামত লিখুন :

বিশ্রামেই সেরে উঠবেন সাইফউদ্দিন?

বিশ্রামেই সেরে উঠবেন সাইফউদ্দিন?
ফের চোটে পড়লেন পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

বিশ্বকাপ চলার সময়ই ইনজুরি নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন তিনি। যদিও গুঞ্জন ছিল-বড় ম্যাচের আগে ইচ্ছে করেই নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন! এনিয়ে বেশ জল ঘোলাও হয়েছে! তবে সেসব যে মিথ্যে তা ফের প্রমাণ পেলো। পিঠের চোটে এবার শ্রীলঙ্কা সফরের দল থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।

তবে এই চোটে অনেক দিন মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে না সাইফউদ্দিনকে। শুরুতে এই পেসারকে থাকতে হবে তিন সপ্তাহ পূর্ণ বিশ্রামে। তারপরই ফেরার পথ পেয়ে যাবেন তিনি।

অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই পিঠের ইনজুরিতে ভুগছেন সাইফ। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজেও ইনজেকশন নিয়ে খেলতে হয়েছে তাকে। শুরুতে শ্রীলঙ্কা সিরিজের দলে ছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার হঠাৎ করেই পুরনো চোট কাবু করে ফেলেছে তাকে।

বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী শনিবার গণমাধ্যমে জানালেন, ‘সাইফের ইনজুরির নাম- লাম্বার স্পাইনের ফ্যাসেট জয়েন্ট সিনড্রোম। অস্ত্রোপচারে এই সমস্যা থেকে ও মুক্তি পাবে না। এ অবস্থায় টেকনিক্যাল কারেকশন করলে হয়তো মুক্তি পেতে পারে। তবে বোলিং অ্যাকশন বদলানো তার জন্য সহজ হবে না।’

একইভাবে আগের মতো ইনজেকশন নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন সাইফ। তবে এটা স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। দেবাশীষ জানান, ‘ইনজেকশন আমরা বারবার দিতে চাই না। বেশি করে দিলে ক্ষতিকর কিছু হতে পারে। বিশ্বকাপের সময় দরকার ছিল বলে এটি করা হয়েছে। তখন ব্যথা কমানোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য।’

শঙ্কার কথা সাইফউদ্দিন পুরোপুরি সেরে উঠবেন না। দেবাশীষ চৌধুরী জানান, ‘দেখুন, ওর মূল সমস্যা ব্যথা। ব্যথা না থাকলে কোনো সমস্যা নাই। এখন আমরা ওকে তিন সপ্তাহের বিশ্রাম দিয়েছি। এই সময়টাতে ওর পুনর্বাসন চলবে। ব্যায়াম চলবে। তবে রানিং ও বোলিং নিষেধ।’

এদিকে বিশ্রামে থাকবেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক জানাচ্ছিলেন, ‘মাশরাফির জন্যও একই টিপস-বিশ্রাম! ৭২ ঘণ্টা পার হলেই ওর পরিস্থিতি জানা যাবে। বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ই অবসরের গুঞ্জন ছিল মাশরাফির। তবে সেই খবর উড়িয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইনজুরিতে যাওয়া হলো না। তার বদলে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তামিম ইকবাল।

অ্যাশেজের জন্য অজিরা নিজেরাই নিজেদের মুখোমুখি

অ্যাশেজের জন্য অজিরা নিজেরাই নিজেদের মুখোমুখি
নতুন মিশনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন স্মিথ-ওয়ার্নাররা

আসন্ন অ্যাশেজ সিরিজের জন্য এখনো দল ঘোষণা করেনি অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তাতে থেমে নেই অজিদের প্রস্তুতি। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা দুই দলে ভাগ হয়ে নিজেরাই নিজেদের বিপক্ষে খেলবে চার দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ।

মঙ্গলবার সাউদ্যাম্পটনে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটিতে হিক দ্বাদশ–হ্যাডিন দ্বাদশের নেতৃত্বে থাকবেন টিম পেইন ও ট্রেভিস হেড। দুদলের কোচ হিসেবে কাজ করবেন গ্রায়েম হিক ও ব্রাড হ্যাডিন।

কোচ হিক তার দলের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেন অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট অধিনায়ক টিম পেইনকে। আর হ্যাডিন তার দলের নেতৃত্বভার তুলে দেন ট্রাভিস হেডের কাঁধে।

অ্যাশেজ স্কোয়াডে জায়গা পেতে যাওয়া প্যাট কামিন্সের বিশ্বাস, একে অন্যের বিপক্ষে খেলে শারীরিক ও মানসিক শক্তি বাড়িয়ে নিতে পারবেন তারা, ‘টেস্ট ম্যাচের আমেজে খেলাটা ক্রিকেটারদের অবশ্যই উজ্জীবিত করবে।‘’

গ্রায়েম হিক নিজের ১২ জনের দলে বেছে নেন স্টিভেন স্মিথ, নাথান লায়ন ও পিটার হ্যান্ডসকম্বের মতো ক্রিকেটারদের। অন্য দিকে ব্রাড হ্যাডিনের দলে জায়গা করে নিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার, জস হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্কের মতো খেলোয়াড়।
 
বামিংহামে বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে নামছে অস্ট্রেলিয়া। ১ আগস্ট থেকে মাঠে গড়াচ্ছে পাঁচ ম্যাচের এ টেস্ট সিরিজ। তার আগে এ ম্যাচে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স বিচার করে বেছে নেওয়া হবে অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত অ্যাশেজ টিম। সন্দেহ নেই ডাক পাবার আশায় মরিয়া হয়ে ভালো খেলার চেষ্টা করবেন সবাই।

গ্রায়েম হিক দ্বাদশ: জো বার্নস, ক্যামেরুন ব্যানক্রফট, স্টিভেন স্মিথ, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, ম্যাথু ওয়েড, মিচেল মার্শ, টিম পেইন (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), মাইকেল নেসের, জেমস প্যাটিনসন, জ্যাকসন বার্ড, ক্রিস ট্রেমেইন ও নাথান লায়ন।

ব্রাড হ্যাডিন দ্বাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, মার্কাস হ্যারিস, কার্টিস প্যাটারসন, ট্রাভিস হেড (অধিনায়ক), মার্নাস লেবুচাঙ্গে, উইল পুকোভস্কি, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, পিটার সিডল, জস হ্যাজেলউড ও জন হল্যান্ড।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র