Alexa

শেষ ওভারে ফ্রাইলিঙ্কের তিন ছক্কায় ম্যাচ চিটাগংয়ের

শেষ ওভারে ফ্রাইলিঙ্কের তিন ছক্কায় ম্যাচ চিটাগংয়ের

হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ঢাকার সমর্থকদের

লড়াইটা ছিলো একের সঙ্গে দুইয়ের। পয়েন্টের শীর্ষে ঢাকার সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে থাকা চিটাগংয়ের।

ম্যাচের শেষে সেই হিসেবটা বদলে গেলো। সমান পাঁচ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় এখন ঢাকার সঙ্গে সমতায় চিটাগং। আর সেই হিসেব বদলে দিলো ম্যাচের শেষ ওভারে রোবি ফ্রাইলিঙ্কের তিন ছক্কা! ১ বল হাতে চিটাগং ম্যাচ জিতলো ৩ উইকেটে। শেষ ওভারে ১৬ রানের বড় লক্ষ্যকে তিন ছক্কায় মামুলি বানিয়ে দিলেন ফ্রাইলিঙ্ক। শেষ ওভারের ঢাকার বেচারা বোলার মোহর শেখ! ১০ বলে অপরাজিত ২৫ রান হাঁকিয়ে ম্যাচ সেরার মর্যাদাও পেলেন ফ্রাইলিঙ্ক।

শেষ ২৪ বলে চিটাগং ভাইকিংসের জেতার জন্য প্রয়োজন দাড়ায় ২৬ রান। সাকিব ও রুবেল হোসেনের শেষের দুর্দান্ত বোলিং চিটাগংয়ের জন্য সহজ কাজটা ক্রমশ কঠিন করে দেয়। ১৭ থেকে ১৯ এই তিন ওভারে চিটাগং মাত্র রান তুলতে পারে। হারায় দুই উইকেট। শেষ ওভারের হিসেবটা দাড়ায় এমন; ৬ বলে চাই ১৬ রান। সাকিব সম্ভবত ম্যাচে সবচেয়ে বড় ভুলটা তখনই করেন; আন্দ্রে রাসেলের হাতে বল না দিয়ে মোহর শেখকে শেষ ওভার করতে ডাকেন। সেই ওভারে দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম বলে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ফ্রাইলিঙ্ক আরেকবার চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচ জয়ের নায়ক।
একটু অন্যভাবে বললে বলা হচ্ছিলো এটি সাকিব বনাম মুশফিকের ম্যাচ। তো সেই নামের ম্যাচে ব্যাট হাতে দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করলেন সাকিব। ২ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৩৪ বলে ৩৪ রান। বল হাতেও যে দলের পারফরমেন্স তারই; ১৬ রানে ৪ উইকেট। একেবারে পারফেক্ট অলরাউন্ড নৈপূন্য।  বিপিএলে এটি সাকিবের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। অন্যদিকে মুশফিক সঙ্কটে পড়া তার দলকে ভালই টেনে নিয়ে চলছিলেন। কিন্তু ২৩ বলে ২২ রানের ইনিংস তার শেষ হয়ে গেলো অ্যাডভেঞ্চার শটে! তখনো ম্যাচ জয় থেকে তার দল বেশ পেছনে; ৪৫ রান দুরে।

শেষের সেই দুরুত্ব ঘুচিয়ে দিচ্ছিলো মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাট। কিন্তু তিনিও ফিনিসার হতে পারেননি। আরেকবার চিটাগং ভাইকিংসকে ব্যাট হাতে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতালেন রোবি ফ্রাইলিঙ্ক। ব্যক্তিগত পারফরমেন্সে মুশফিককে হারালোও ম্যাচ যে জিততে পারলেন না সাকিব।

টসে জিতে ঢাকা ডায়নামাইটস ব্যাটিং বেছে নেয়। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে সবল পেশি দেখিয়েছে ঢাকা। তবে এই ম্যাচে ঢাকার ১৩৯ রানের ইনিংসকে খুব শক্তিশালী কিছু বলার উপায় নেই। ভাল খেলতে থাকা ব্যাটসম্যানদের কেউ ফিনিশার হতে পারেননি। তাই বড় স্কোরের স্বপ্ন ছড়িয়েও ১৪০ এর নিচে আটকে গেলো ঢাকা। ওপেনিংটা আরেকবার ভাল হলো না। মিডলঅর্ডারে সাকিব আল হাসান যথারীতি হাল ধরলেন। উইকেট পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাট করে চলছিলেন সাকিব। উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান ও সাকিবের জুটিতে ঢাকা দাপট নিয়েই সামনে বাড়ছিলো। প্রায় হঠাৎ করেই এই সময় বল হাতে নিয়ে ক্যামেরন স্কট দেলপোর্ট ম্যাচের মোড় বদলে দিলেন। সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে টাইটানসের বিপক্ষে দুই উইকেট শিকারি দেলপোর্টের পারফরম্যান্স অধিনায়ক মুশফিকের সুখস্মৃতিতে তরতাজা ছিলো। এই ম্যাচেও মুলত পার্টটাইম বোলার হিসেবেই দেলপোর্টের হাতে বল তুলে দেন চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক। ছয় নম্বর বোলার হিসেবে বল হাতে নিয়ে দেলপোর্ট এবারো যে পারফরমেন্স দলের স্ট্রাইক বোলারদেরও ছাপিয়ে গেলো! ৪ ওভারে ২৫ রানে ৩ উইকেট! সাকিবকে ফেরালেন ৩৪ রানে। সোহানকে বিদায় করলেন সেই একই ওভারে। শেষের দিকে মোহাম্মদ নাঈমকে ইয়র্কারে বোল্ড করলেন!

একসময় মাত্র ৩ ওভারে ২৭ রান তোলা ঢাকা ডায়মাইটসের ইনিংস ৯ উইকেটে ১৩৯ রানে থেমে গেলো। চিটাগং ভাইকিংসের এই কৃতিত্বে দেলপোর্টের সঙ্গে দলের তিন পেসার ফ্রাইলিঙ্ক, আবু জায়েদ ও খালেদ আহমেদও পিঠ চাপড়ে দেয়ার মতো প্রশংসা পাচ্ছেন।

তবে ম্যাচ শেষে কারো এদের কারো বোলিং নয়; শেষ ওভারে ফ্রাইলিঙ্কের তিন ছক্কার ইনিংসই সব আলো ছিনিয়ে নিলো!

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ঢাকা ডায়নামইটস: ১৩৯/৯ (২০ ওভারে, নারিন ১৮, কুন ১৮, সাকিব ৩৪, সোহান ২৭, শুভগত ২৮, দেলপোর্ট ৩/২৫, ফ্রাইলিঙ্ক ২/১৯, আবু জায়েদ ২/২৬, খালেদ ১/২৭)। চিটাগং ভাইকিংস: ১৪৫/৭ (১৯.১ ওভারে, দেলপোর্ট ৩০, ইয়াসির আলী ১৫, মুশফিক ২২, মোসাদ্দেক ৩৩, ফ্রাইলিঙ্ক ২৫*, সাকিব ৪/১৬, রুবেল ১/২৪)। ফল: চিটাগং ভাইকিংস ৩ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: রোবি ফ্রাইলিঙ্ক।

আপনার মতামত লিখুন :