Alexa

রাজশাহীর জয়ে শেষ ওভারে নায়ক মুস্তাফিজ

রাজশাহীর জয়ে শেষ ওভারে নায়ক মুস্তাফিজ

মুস্তাফিজের বোলিংয়ে জিতল রাজশাহী

শেষ ওভারে জিততে চাই ১৩ রান। টি-টুয়েন্টিতে এটি তেমন বড় কোন টার্গেট নয়। তবে বোলার যদি থাকেন মুস্তাফিজুর রহমান তাহলে অবশ্যই সেটা অনেক কঠিন টার্গেট! সেই সত্যতা আরেকবার প্রতিষ্ঠা করলেন মুস্তাফিজ। শেষ ওভারে ৭ রানে ম্যাচটা জিতলো রাজশাহী কিংস। দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচের শেষ ওভারটা পুরোদুস্তর নিজের করে নিলেন মুস্তাফিজ। দুটোই বোল্ড! এই ওভারে রান দিলেন মাত্র ৪।

এই জয়ের সঙ্গেই রাজশাহী কিংস টুর্নামেন্টের প্লে’অফে খেলার দৌড়ে টিকে রইলো বেশ জোরেসোরে। আর টুর্নামেন্টে তৃতীয় হার সত্তেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই থাকছে চিটাগং ভাইকিংস। নিজ মাঠে টানা দুই ম্যাচই হারলো স্বাগতিক চিটাগং। শেষ ওভারে এমন লক্ষ্যের ম্যাচ রাজশাহী আগেও জিতেছে। কিন্তু এই ম্যাচে যে তাদের রোবি ফ্রাইলিঙ্ক ছিলেন না। ইনজুরির কারনে এই ম্যাচে খেলেননি চিটাগংয়ের প্রভাবী এই অলরাউন্ডার।

১৯৯ রানের বিশাল লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে নেমে চিটাগং ভাইকিংসের শুরুটা হয়েছিলো স্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম ওভারেই চিটাগং তুলে নিলো ২২ রান। কামরুল ইসলাম রাব্বীকে মেরে কেটে এই ২২ রান একাই নিলেন মোহাম্মদ শাহজাদ। ২২ বলে ৪৯ রান করে শাহজাদের আউটের পর ম্যাচ জেতানোর ব্যাটন তুলে নিলেন ইয়াসির আলী ও অধিনায়ক মুশফিক রহিম। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইয়াসির আলী খেললেন ৩৮ বলে ৫৮ রানের ইনিংস। মুশফিকও ছক্কা-চারে চিটাগং ভাইকিংসকে বেশ ভালভাবেই ম্যাচে রেখেছিলেন। ২২ রান করে মুশফিকের আউটের পর চিটাগং কিংসকে জেতানোর দায়িত্ব পড়ে দুই বিদেশি সিকান্দার রাজা ও নাজিবুল্লাহ জাদরানের কাঁধে।

কামরুল ইসলাম রাব্বী তার ফিরতি স্পেলে দুই উইকেট নিয়ে শুরুর ধাক্কা বেশ ভালই ভাবে সামাল দেন। আর শেষ ওভারে মুস্তাফিজ তো পুরো আনপ্লেয়েবল! ৪ ওভারে ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রাজশাহীর জয়ের নায়ক মুস্তাফিজই।

রাজশাহী কিংস ১৯৮ রানের ভিত্তিটা পায় মুলত দলের ওপেনিং জুটিতে। পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই প্রথম উইকেটে ৫০ রান তুলে রাজশাহী। একাদশে ফেরা সৌম্য সরকার ৫ বাউন্ডারিতে ২০ বলে ২৬ রান করে আউট হন। তবে অপর প্রান্তে জনসন চার্লস দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই মারকাটারি ভঙ্গিতে হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেললেন। ২২ বলে ৫ ছক্কা ও ৩ বাউন্ডারিতে ৪৯ রান করে দলকে বড় স্কোরের রাস্তা দেখিয়ে গেলেন এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান। লরি ইভান্স ২৯ রান করে ফিরে গেলেন শেষের দিকে ব্যাট হাতে ছোটখাটো ঝড় তোলেন ক্রিশ্চিয়ান জংকার। ৩ ছক্কা ও ১ বাউন্ডারিতে জংকার ম্যাচের শেষ বলে যখন আউট হলেন তখন তার নামের পাশে ১৭ বলে ৩৭ রান ঝলমল করছে। ইনিংসের ১৬ নম্বর ওভারে অফস্পিনার নাঈম হাসানকে টানা তিন ছক্কা হাঁকান রায়ান টেন ডেসকাট। সেই ওভারে আসে সবশুদ্ধ ২৩ রান।

শুরুর এবং শেষের এই ঝড়ো ব্যাটিংয়েই রাজশাহী কিংস টুর্নামেন্টে নিজেদের সর্বোচ্চ ১৯৮ রান তুললো। ম্যাচ জিতলো। যে জয় তাদের প্লে’অফের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: রাজশাহী কিংস: ১৯৮/৪ (২০ ওভারে, চার্লস ৫৫, সৌম্য ২৬, ইভান্স ৩৬, ডেসকাট ২৭, জংকার ৩৭, খালেদ ২/৩২)। চিটাগং ভাইকিংস: ১৯১/৮ (২০ ওভারে, শাহজাদ ৪৯, ইয়াসির ৫৮, মুশফিক ২২, সিকান্দার রাজা ২৯, মুস্তাফিজ ৩/২৮, মিরাজ ২/২৫, কামরুল ২/৪৪)। ফল: রাজশাহী কিংস ৭ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: মুস্তাফিজুর রহমান।

আপনার মতামত লিখুন :