Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাজশাহীর জয়ে শেষ ওভারে নায়ক মুস্তাফিজ

রাজশাহীর জয়ে শেষ ওভারে নায়ক মুস্তাফিজ
মুস্তাফিজের বোলিংয়ে জিতল রাজশাহী
এম. এম. কায়সার
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

শেষ ওভারে জিততে চাই ১৩ রান। টি-টুয়েন্টিতে এটি তেমন বড় কোন টার্গেট নয়। তবে বোলার যদি থাকেন মুস্তাফিজুর রহমান তাহলে অবশ্যই সেটা অনেক কঠিন টার্গেট! সেই সত্যতা আরেকবার প্রতিষ্ঠা করলেন মুস্তাফিজ। শেষ ওভারে ৭ রানে ম্যাচটা জিতলো রাজশাহী কিংস। দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচের শেষ ওভারটা পুরোদুস্তর নিজের করে নিলেন মুস্তাফিজ। দুটোই বোল্ড! এই ওভারে রান দিলেন মাত্র ৪।

এই জয়ের সঙ্গেই রাজশাহী কিংস টুর্নামেন্টের প্লে’অফে খেলার দৌড়ে টিকে রইলো বেশ জোরেসোরে। আর টুর্নামেন্টে তৃতীয় হার সত্তেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই থাকছে চিটাগং ভাইকিংস। নিজ মাঠে টানা দুই ম্যাচই হারলো স্বাগতিক চিটাগং। শেষ ওভারে এমন লক্ষ্যের ম্যাচ রাজশাহী আগেও জিতেছে। কিন্তু এই ম্যাচে যে তাদের রোবি ফ্রাইলিঙ্ক ছিলেন না। ইনজুরির কারনে এই ম্যাচে খেলেননি চিটাগংয়ের প্রভাবী এই অলরাউন্ডার।

১৯৯ রানের বিশাল লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে নেমে চিটাগং ভাইকিংসের শুরুটা হয়েছিলো স্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম ওভারেই চিটাগং তুলে নিলো ২২ রান। কামরুল ইসলাম রাব্বীকে মেরে কেটে এই ২২ রান একাই নিলেন মোহাম্মদ শাহজাদ। ২২ বলে ৪৯ রান করে শাহজাদের আউটের পর ম্যাচ জেতানোর ব্যাটন তুলে নিলেন ইয়াসির আলী ও অধিনায়ক মুশফিক রহিম। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইয়াসির আলী খেললেন ৩৮ বলে ৫৮ রানের ইনিংস। মুশফিকও ছক্কা-চারে চিটাগং ভাইকিংসকে বেশ ভালভাবেই ম্যাচে রেখেছিলেন। ২২ রান করে মুশফিকের আউটের পর চিটাগং কিংসকে জেতানোর দায়িত্ব পড়ে দুই বিদেশি সিকান্দার রাজা ও নাজিবুল্লাহ জাদরানের কাঁধে।

কামরুল ইসলাম রাব্বী তার ফিরতি স্পেলে দুই উইকেট নিয়ে শুরুর ধাক্কা বেশ ভালই ভাবে সামাল দেন। আর শেষ ওভারে মুস্তাফিজ তো পুরো আনপ্লেয়েবল! ৪ ওভারে ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রাজশাহীর জয়ের নায়ক মুস্তাফিজই।

রাজশাহী কিংস ১৯৮ রানের ভিত্তিটা পায় মুলত দলের ওপেনিং জুটিতে। পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই প্রথম উইকেটে ৫০ রান তুলে রাজশাহী। একাদশে ফেরা সৌম্য সরকার ৫ বাউন্ডারিতে ২০ বলে ২৬ রান করে আউট হন। তবে অপর প্রান্তে জনসন চার্লস দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই মারকাটারি ভঙ্গিতে হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেললেন। ২২ বলে ৫ ছক্কা ও ৩ বাউন্ডারিতে ৪৯ রান করে দলকে বড় স্কোরের রাস্তা দেখিয়ে গেলেন এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান। লরি ইভান্স ২৯ রান করে ফিরে গেলেন শেষের দিকে ব্যাট হাতে ছোটখাটো ঝড় তোলেন ক্রিশ্চিয়ান জংকার। ৩ ছক্কা ও ১ বাউন্ডারিতে জংকার ম্যাচের শেষ বলে যখন আউট হলেন তখন তার নামের পাশে ১৭ বলে ৩৭ রান ঝলমল করছে। ইনিংসের ১৬ নম্বর ওভারে অফস্পিনার নাঈম হাসানকে টানা তিন ছক্কা হাঁকান রায়ান টেন ডেসকাট। সেই ওভারে আসে সবশুদ্ধ ২৩ রান।

শুরুর এবং শেষের এই ঝড়ো ব্যাটিংয়েই রাজশাহী কিংস টুর্নামেন্টে নিজেদের সর্বোচ্চ ১৯৮ রান তুললো। ম্যাচ জিতলো। যে জয় তাদের প্লে’অফের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: রাজশাহী কিংস: ১৯৮/৪ (২০ ওভারে, চার্লস ৫৫, সৌম্য ২৬, ইভান্স ৩৬, ডেসকাট ২৭, জংকার ৩৭, খালেদ ২/৩২)। চিটাগং ভাইকিংস: ১৯১/৮ (২০ ওভারে, শাহজাদ ৪৯, ইয়াসির ৫৮, মুশফিক ২২, সিকান্দার রাজা ২৯, মুস্তাফিজ ৩/২৮, মিরাজ ২/২৫, কামরুল ২/৪৪)। ফল: রাজশাহী কিংস ৭ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: মুস্তাফিজুর রহমান।

আপনার মতামত লিখুন :

শচীনের বিশ্বকাপ একাদশেও সাকিব

শচীনের বিশ্বকাপ একাদশেও সাকিব
এক ফ্রেমে শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে সাকিব -ফাইল ছবি

পারফরম্যান্সই এগিয়ে দিয়েছে সাকিব আল হাসানকে। তাকে অবজ্ঞা করার কোন সুযোগই নেই। সদ্য শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৮ ইনিংসে দুই সেঞ্চুরি আর পাঁচ হাফ-সেঞ্চুরিতে করেছেন ৬০৬ রান। ৩টিতে ম্যাচসেরার সঙ্গে টুর্নামেন্টে সর্বাধিক গড় ৮৬.৫৭। সঙ্গে নিয়েছেন ১১ উইকেট। এই সাফল্যের পর আইসিসি থেকে শুরু করে প্রতিটি সেরা একাদশেই জায়গা পেয়েছেন সাকিব। এবার ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের বিশ্বকাপ একাদশেও আছেন এই টাইগার অলরাউন্ডার। তাকে ছাড়া বিশ্বকাপ একাদশ সাজাবেন কি করে শচীন?

আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯-এর সেরা একাদশে শচীন অধিনায়ক করেছেন কেন উইলিয়ামসনকে। অবশ্য বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসিও তাদের একাদশের নেতৃত্বে রাখেন নিউজিল্যান্ডের দলনেতাকে।

আইসিসির দলে না থাকলেও শচীনের একাদশে আছেন বিরাট কোহলি। তবে নেই মহেন্দ্র সিং ধোনি। সব মিলিয়ে ৫ ভারতীয়কে দলে রেখেছেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়।

রেকর্ড পাঁচটি সেঞ্চুরি করা রোহিত শর্মা শচীনের একাদশের অটোমেটিক চয়েজ। এবারের বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান করেছেন তিনি। তাকে তো রাখতেই হবে। ওপেনিংয়ে তার সঙ্গে আছেন ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো। তবে জায়গা পেলেন না বিশ্বজয়ী দলের সদস্য- জেসন রয়। তিনি অবশ্য ছিলেন আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে।

তার বুদ্ধিমত্তা আর পারফরম্যান্সে কিউইরা পেয়েছে ফাইনালের টিকিট। কেন উইলিয়ামসন হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার। শান্ত-ধীর এই ক্রিকেটারটিকেই নেতা করেছেন শচীন। তবে তেমন একটা ভাল খেলতে না পারলেও বিরাট কোহলিকে দলে রেখেছেন শচীন! আইসিসির দলে অবশ্য ছিলেন না ভারত অধিনায়ক।

দলে আছেন বিশ্বকাপ ফাইনালে ঝড় তোলা বেন স্টোকস। ইংল্যান্ডের জয়ের কাণ্ডারি তিনিই। এ কারণেই আইসিসির পর শচীনও তার একাদশে রাখলেন এই অলরাউন্ডারকে। দলে আছেন হার্দিক পান্ডিয়াও। বিশ্বকাপে ব্যাট-বলে দাপট দেখালেও আইসিসির দলে অবশ্য ছিলেন না তিনি।

শচীন তার দলে বিস্ময়করভাবে রেখেছেন রবীন্দ্র জাদেজাকে। যার পারফরম্যান্স একেবারে সাদামাটা। তবে সেমি-ফাইনালে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিনটিতেই ভাল করেছিলেন। ধোনির সঙ্গে মিলে দলকে জয়ের পথেই নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সফল হননি।

পেস বোলার হিসেবে দলে আছেন মিচেল স্টার্ক। যিনি বিশ্বকাপ ২০১৯ বিশ্বকাপে নিয়েছেন ২৭ উইকেট। গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। গ্লেন ম্যাকগ্রার (২৬) রেকর্ড পেছনে ফেলে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট এই অস্ট্রেলিয়ান বোলারেরই। শচীনের দলে আছেন জাসপ্রিত বুমরাহ। ৯ ম্যাচে ১৮টি উইকেট নিয়ে আলোচনাতেই ছিলেন তিনি।

দলে আছেন জোফরা আর্চারও। বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ডের এই তারকা ১১ ম্যাচে নিয়েছেন ২০ উইকেট। ফাইনালে জয়েরও অন্যতম নায়ক এই পেসার। ডেথ ওভার বোলিং ক্যারিশমায় শচীনকেও মুগ্ধ করেছেন তিনি।

শচীন টেন্ডুলকারের বিশ্বকাপ একাদশ-
কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, জনি বেয়ারস্টো, সাকিব আল হাসান, বেন স্টোকস, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, মিচেল স্টার্ক, জোফরা আর্চার ও জাসপ্রিত বুমরাহ।

থেরেসা মের অতিথি হলেন বিশ্বকাপ জয়ী মরগানরা

থেরেসা মের অতিথি হলেন বিশ্বকাপ জয়ী মরগানরা
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে ইয়ন মরগানরা

৪৪ বছর অপেক্ষার পর ৫০ ওভার ক্রিকেটের বিশ্ব শিরোপা ঘরে তুলেছে ইংল্যান্ড। গর্বিত সেই দলকে সংবর্ধনা না দিলে কী হয়! ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সেটাই করলেন। ডাউনিং স্ট্রিটে নিজের সরকারি বাসভবনে আতিথ্য দিলেন দেশের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেট দলকে।

থেরেসা মে নিজে একজন ক্রিকেট ভক্ত। তাই ফাইনাল ম্যাচের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে ভুলে যাননি। প্রিয় দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজেই আনন্দে নেচেছেন। নিজের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে পোস্টও করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আগামী সপ্তাহে পদত্যাগ করতে যাওয়া থেরেসা মে নিজের বাসভবনের সামনে ক্রিকেটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিশ্বকাপ ট্রফি ও ইংলিশ ক্রিকেট টিমের সঙ্গে হন ক্যামেরার লেন্সবন্দি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563275557926.jpg

নিজের দেশের বিশ্বকাপ জয় মের কাছে, বর্তমান সময়ের অন্যতম গ্রেট ক্রীড়া প্রর্দশনী হিসেবে।

থেরেসা মে ক্রিকেটারদের প্রশংসা করে বলেন, ‘তোমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচে সম্ভাবনা যখন তোমাদের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল। তোমরা অদম্য থেকে হার মানতে রাজি হও নি। এটা সেই প্রতিজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য যা তোমাদের চ্যাম্পিয়ন করেছে। তার চেয়ে বড় কথা তোমরা ইতিহাস গড়েছো।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রোববার লর্ডসের ফাইনাল নির্ধারিত ৫০ ওভারের পর সুপার ওভারেও টাই হলে বাউন্ডারি বেশি হাঁকিয়ে শিরোপা জিতে নেয় ইংল্যান্ড।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র