সাব্বিরের সেঞ্চুরি তারপরও ৩-০’র হার

এম. এম. কায়সার, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম
দল হারলেও কথা বলল সাব্বিরের ব্যাট

দল হারলেও কথা বলল সাব্বিরের ব্যাট

  • Font increase
  • Font Decrease

৩৩১ রান তাড়া করতে নেমে ১৩ বলে স্কোরবোর্ডে ২ রান উঠতেই বাংলাদেশের ৩ উইকেট নেই! ম্যাচের ফল তো ওখানেই পরিস্কার। বাকি সময়টুকু অপেক্ষায় থাকতে হলো কেবল আনুষ্ঠানিকতা পুরুণের জন্য; হারের আনুষ্ঠানিকতা! সিরিজের শেষ ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ ৮৮ রানের বিশাল ব্যবধানে। সিরিজ আগেই জিতেছিলো নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচে তারা আরেকটি ইচ্ছে পূরুণ করলো; কিউইওয়াশ!

৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হেরে নিউজিল্যান্ড থেকে ‘কিউইওয়াশ’ হয়ে ফিরছে বাংলাদেশ। আর সব ম্যাচ হারার এই সিরিজ থেকে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির আনন্দ নিয়ে ফিরছেন সাব্বির রহমান।

নিউজিল্যান্ডের ৩৩০ রানের জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ২৪২ রানে। যেখানে সাব্বির রহমানের যোগাড় ১০২ রান।

রান তাড়ায় নেমে স্কোরবোর্ডের দিকে তাকিয়েই যেন ব্যাটিংয়ের সবকিছু ভুলে গেলেন বাংলাদেশের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তামিম আউট। শূন্য রানে। স্কোরবোর্ডে জমাও তখন শূন্য! দুই বল পরে সৌম্য সরকার সিনিয়ার সঙ্গী তামিম ইকবালকে একেবারে খাতায়-কলমে অনুসরন করলেন। সৌম্যও আউট শূন্য রানে। তামিমের মতো সমান ২ বল খেলে! টিম সাউদির শুরুর সেই স্পেলেই লিটন দাসও এলবিডবøু ১ রান করে।

সিরিজে তিন ম্যাচের তিনটিতেই ঠিক ১ রান করেই আউট হলেন লিটন দাস। একেবারে হিসাব বরাবর, আর কি!

২ রানে শুরুর তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশ সামান্য সামনে বাড়ে মুশফিক ও মাহমুদুউল্লাহর ব্যাটে। তবে দলের ৬১ রানের মধ্যে এই দুজনও ফিরে এলো প্রতিরোধ গড়ার কাজে হাত দেন সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। দুজনেই আক্রমণের মিশেলে রক্ষণ-এই নীতির ব্যাটিংয়ে সামনে বাড়েন। এই জুটির ব্যাটিংয়ের সময়ে অবশ্য কখনোই মনে হয়নি যে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতবে। তবে মানরক্ষার ব্যাটিং হবে- সেই স্বস্তি ঠিকই মিললো।

সাব্বির রহমান তার ১০২ রানের ইনিংস দিয়ে বিশ্বকাপের একাদশে নিজের জায়গা নিশ্চিত করে নিলেন। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনও তাই। এই দুজনের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ হওয়া ১০১ রান বাংলাদেশের হারকে একটু দীর্ঘায়িত করে।

সাব্বির রহমান ১১০ বলে তার ক্যারিয়ার সেরা ১০২ রান করেন। সাইফুদ্দিন তিন ম্যাচের সিরিজে বোলার হিসেবে নিজেকে যত না চেনালেন তারচেয়ে বেশি ‘ভাল’ করলেন ব্যাটসম্যান হয়ে!

সিরিজের শেষ ম্যাচে সাব্বির ও সাইফুদ্দিনের ব্যাটিংটাই বাংলাদেশের প্লাসপয়েন্ট। বাকি সবকিছুই বিশাল মাইনাস!

ডানেডিনের ব্যাটিং উইকেটে নিউজিল্যান্ড ৩৩০ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। দলের বড় এই সংগ্রহে কোন সেঞ্চুরি নেই। যা আছে তার নাম মিডলঅর্ডারের সম্মিলিত ব্যাটিং শক্তি। দলের তিন-চার ও পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা হেনরি নিকোলস, রস টেইলর ও টম লাথাম প্রত্যেকেই হাফসেঞ্চুরি পান। খুব যে মারকুটো ছিলেন তারা তা কিন্তু নয়। এই তিন হাফসেঞ্চুরিয়ানের মধ্যে শুধু অধিনায়ক টম লাথামের স্ট্রাইকরেট একশ’র ওপরে। তবে দলের ছয়-সাত ও আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা জিমি নিশাম, ডি গ্রান্ডহোম ও মিচেল স্যান্টার টি-টুয়েন্টির মেজাজে ব্যাট চালান।

মাঝের পরিশ্রমী ব্যাটিং এবং শেষের দিকের ঝড়-এই পরিকল্পনার পথে হেঁটে সিরিজের শেষ ম্যাচে রান উৎসবে মাতলো নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের পুরো বোলিং বিভাগকে এক অর্থে ‘কচুকাটা’ করলো যেন কিউই ব্যাটসম্যানরা এই ম্যাচে। আর সবচেয়ে বেশি ঝড় গেলো মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর দিয়ে। ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট পেলেন মুস্তাফিজুর, কিন্তু রান খরচা হলো তার ৯৩! ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৯৩ রান। ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মুস্তাফিজুরের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিং স্পেল!

রান খরচায় দলের বাকি বোলাররাও যে খুব একটা কম গেলেন-এমনটা বলার উপায় নেই। নিউজিল্যান্ড মাঝ থেকে শেষ-ইনিংসের এই অংশে বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে যা করলো তাকে বলে-ছেলেখেলা!

খানিকবাদে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়েও সেই একই খেলায় নিউজিল্যান্ড। আর এই পর্বে মুল ক্রীড়ানক; টিম সাউদি। ম্যাচে তার বোলিং স্পেল ৯.২-১-৬৫-৬!

সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড : ৩৩০/৬ (৫০ ওভারে, গাপটিল ২৯, নিকোলস ৬৪, টেইলর ৬৯, লাথাম ৫৯, নিশাম ৩৭, গ্রান্ডহোম ৩৭*, স্যান্টার ১৬*, মুস্তাফিজুর ২/৯৩, মাশরাফি ১/৫১, রুবেল ১/৬৪, সাইফুদ্দিন ১/৪৮, মিরাজ ১/৪৩)। বাংলাদেশ: ২৪২/১০ (৪৭.২ ওভারে, তামিম ০, লিটন ১, সৌম্য ০, মুশফিক ১৭, মাহমুদউল্লাহ ১৬, সাব্বির ১০২, সাইফুদ্দিন ৪৪, মাশরাফি ২, মিরাজ ৩৭, রুবেল ৩, মুস্তাফিজুর ০*, অতিরিক্ত ২০, সাউদি ৬/৬৫, বোল্ট ২/৩৭)। ফল: নিউজিল্যান্ড ৮৮ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: টিম সাউদি। সিরিজ সেরা: মার্টিন গাপটিল।

আপনার মতামত লিখুন :