ব্যাটিংয়ের বেসিক ঠিক ছিল না: মাশরাফি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মাশরাফি বিন মর্তুজা, ছবি: সংগৃহীত

মাশরাফি বিন মর্তুজা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

৩-০ তো সিরিজ হারার মুল কারণ কি?

উত্তরটা খুঁজতে গোয়েন্দা ডাকার প্রয়োজন নেই। অথবা তদন্ত কমিটি গঠনের দরকারও নেই। এক কথায় প্রকাশের মতো বলে দেয়া যায়, সিরিজে ব্যর্থতার মুল কারণ-টপ অর্ডার ব্যাটিং ব্যর্থতা। তিন ম্যাচের একটিতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে না পারা। তিন ম্যাচই বড় ব্যবধানে হারা। কিউইওয়াশ! তিন ম্যাচেই উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে কোন রানই নেই। তিন ম্যাচেই দুই ওপেনারের যৌথ সঞ্চয় ১৩! তামিম ইকবাল ৫, ৫ ও ০। লিটন দাসের ব্যাটিংয়ে দারুণ সমতা; ১, ১ এবং ১!

এমন সিরিজের ময়নাতদন্ত করতে বসে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সাফ জানিয়ে দিলেন-‘ম্যাচ জিততে হলে টপ অর্ডার থেকে কিছু করতে হবে।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচেই বাংলাদেশ ব্যর্থ। আর এই ব্যর্থতার একেবারে ‘টপে’ দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। রান যা করার তা করেছেন ব্যাটিং অর্ডারে একটু নিচের দিকের ব্যাটসম্যানরা।

সেই প্রসঙ্গে মাশরাফি বলছিলেন, 'আমাদের মিডল অর্ডার বা লোয়ার মিডল অর্ডারে কিছু রান পেয়েছি। মিঠুন এই পজিশনে দুই ম্যাচেই রান পেয়েছে। সাব্বির তার পজিশনে সেঞ্চুরি পেয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচেও সে ভাল ব্যাট করেছিল। সাইফুদ্দিন রান করছে। শেষ ম্যাচে ভাল বোলিংও করেছে সাইফুদ্দিন। এগুলোতে ইতিবাচক বলা যেতে পারে। তবে আমরা এসব পাচ্ছি ব্যাটিংয়ের একটু নিচের দিকে। এই রানও দলের জন্য বড় কাজে লাগছে। কিন্তু ম্যাচ জিততে হলে টপ অর্ডার থেকে কিছু করতে হবে। পুরো সিরিজে যে ভুলগুলো আমরা করেছি, সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।'

টানা দুটো ম্যাচ হারের পর সিরিজের শেষ ম্যাচে ভিন্ন কিছু কৌশল নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। টসে জিতে আগে বোলিং বেছে নেয়া। ব্যাটসম্যান কমিয়ে পাঁচজন জেনুইন বোলার নিয়ে ম্যাচ খেলা। বোলিংয়ের শুরুটা খুব একটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের কিন্তু শেষের দিকে এসে খেই হারিয়ে বসে পুরো দল। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা ইনিংসের শেষের ১৫ ওভারে ব্যাট হাতে রীতিমতো বাংলাদেশের বোলিংয়ের ‘সুতো খুলে’ ফেলে!

মাশরাফি সেই ব্যাখ্যায় বলছিলেন, 'নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ৩৫ ওভার পর্যন্ত কিন্তু আমরা বেশ ভাল অবস্থানে ছিলাম। সেসময় যদি আরেকটু ভালো বোলিং বা ভালো ফিল্ডিং করতে পারলে হয়তো বা ওদের স্কোরকে তিনশ’র নিচেও রাখা সম্ভব হতো। তেমন করার একটা সুযোগ ছিল আমাদের সামনে। ওদের তখন চার উইকেট পড়ে গেছে। কিন্তু আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি। ওরা সেসময় যে ঝুঁকি নিয়েছে প্রায় সবগুলোতেই সাফল্য পেয়েছে। ওরা সফল হয়েছে আর আমরা পারিনি। এই উইকেটে বল একটু বেশি সুইং করবে বাউন্সও হবে, সেটা জানা ছিল। তবে এখানে ব্যাটিং করতে হলে বেসিক ঠিক রাখাটা অবশ্যই জরুরি ছিল। সেই বেসিকে আমরা থাকতে পারিনি। আগের দুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও একই ঘটনা। এশিয়া কাপেও আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হয়েছিলো। ঐ টুর্নামেন্টে শুরুতেই আমরা তিন চার উইকেট হারিয়ে ফেলতাম। এখানেও সেটাই হয়েছে।'

৩-০ তে ওয়ানডে সিরিজ হারা মানেই যে বাংলাদেশের ক্রিকেট ধসে পড়েছে, এমন ভাবনায় হেরে বসছেন না ওয়ানডে অধিনায়ক। পরবর্তী কার্যক্রমও ঠিক করে ফেলেছেন।

জানালেন, 'জাতীয় দলের পরবর্তী টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখনো দুমাস সময় বাকি। আমাদের অবশ্যই ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। উপায় খুঁজে বের করতে হবে। আয়ারল্যান্ডেও কন্ডিশন এই নিউজিল্যান্ডের মতোই হবে। কোন উপায়ে ওখানে আমরা রান করবো, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। শুরুতে বেশি উইকেট দেয়া যাবে না। কারণ ম্যাচের ১০ ওভার পরেই উইকেট ব্যাটিংয়ে জন্য বেশ সহায়ক হয়ে যায়। ব্যাটিংয়ের এসব বেসিক ব্যাপারে একটু যত্নশীল হতে হবে।'

আপনার মতামত লিখুন :