এমন বৃষ্টির টেস্ট ‘একদিন’ হেরেছিলো বাংলাদেশ!

এম. এম. কায়সার, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম
কোচ স্টিভ রোডসের সঙ্গে তামিম, শনিবার ওয়েলিংটনে -বিসিবি

কোচ স্টিভ রোডসের সঙ্গে তামিম, শনিবার ওয়েলিংটনে -বিসিবি

  • Font increase
  • Font Decrease

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ পার্কের উইকেট কেমন হবে সেটা প্রায় সবার জানা। এমন সবুজ উইকেটে যে কোন দলই আগে এখানে বোলিং করতে চাইবে। আর পেছনের দুদিনের বৃষ্টিতে এই উইকেটে আগে বোলিং করার যুক্তিটা আরো বেশি দৃঢ় হয়েছে। তৃতীয়দিনেও বৃষ্টিতে খেলা শুরু হবে কিনা-তা এখনো নিশ্চিত নয়, কিন্তু এই ম্যাচের একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশ কোচ; টস!

টসে জিতে এখানে বোলিং করার স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ কোচ। আকাশে মেঘ। সবুজ উইকেট। চারধারের বাতাস। ঢাকা থাকা উইকেটের আর্দ্রতা। সুইং বোলারদের জন্য পুরোদুস্তর আদর্শ ক্ষেত্র আর কি!

টানা দ্বিতীয়দিনের মতো বৃষ্টিতে খেলা বাতিল হওয়ার পর তৃতীয়দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস বলছিলেন-‘জানি না তৃতীয়দিন আবহাওয়ার কি মতিগতি থাকবে। তবে যদি খেলা শুরু করার মতো অবস্থায় হয় তবে আামি চাইবে এই উইকেটে টসে জিতে বোলিং করতে।’

খুব যে শক্তিমান কোন পেস বোলিং নিয়ে বাংলাদেশ এই টেস্ট সিরিজে খেলছে তাও কিন্তু নয়। তবে মুস্তাফিজের এই টেস্টে ফিরে আসার মধ্যেই অনেক ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ। বৃষ্টিতে দ্বিতীয়দিনের খেলা বাতিল হলেও এদিন মাঠ পরিদর্শনে এসেছিলেন ক্রিকেটাররা। কাছ থেকে গিয়েও উইকেট দর্শন করে এলেন।

পাঁচদিনের ম্যাচের দুদিন বাতিল। প্রথমদিন তো পুরোটাই হোটেলে বসে কাটলো। খেলোয়াড়দের জন্য নিশ্চয়ই এমন সময়টা খুবই হতাশার। বাংলাদেশ কোচ একমত হলেন-‘ খেলা না হওয়ায় একটা হতাশা তো সবার মধ্যেই আছে। তাও ভালো যে দ্বিতীয়দিন খেলোয়াড়রা মাঠে আসতে পেরেছে। ব্যাট-বল হাতে নিতে পেরেছে। মাঠকর্মীরা অবশ্য মাঠ খেলার উপযোগী করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাক তৃতীয়দিন হয়তো খেলা হতে পারে।’

ওয়েলিংটনের আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে এই ম্যাচের বাকি তিনদিনও বৃষ্টি হবে। তবে সেই বৃষ্টির তেজ হয়তো প্রথম দুদিনের মতো এত বেশি থাকবে না। সিরিজে পিছিয়ে থাকায় থাকা বাংলাদেশ কোচ আরো জানাচ্ছেন-‘এখনো এই টেস্টে ফল নির্ণয় সম্ভব। তিনদিনের খেলায়ও অনেক ম্যাচে ফল হয়েছে।’

বাংলাদেশের নতুন এই কোচ হয়তো জানেন না-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এমন পরিস্থিতিতেও ম্যাচ হারার ইতিহাস আছে বাংলাদেশের। ২০০১ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ যে টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলো হ্যামিল্টনে সেই ম্যাচও এমন বৃষ্টির কবলে পড়েছিলো। সেই ম্যাচের প্রথম দুদিন বৃষ্টিতে বাতিল হয়ে যায়। তৃতীয়দিন টস হয়। বাংলাদেশ টসে জিতে বোলিং বেছে নেয়। নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৭৭.১ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। মার্ক রিচার্ডসন ও ক্রেইগ ম্যাকমিলান সেঞ্চুরি করেন। বাংলাদেশ চতুর্থদিন ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৮.১ ওভার খেলে অলআউট ২০৫ রানে। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে বাংলাদেশ ৪৬.২ ওভারে গুটিয়ে যায় ১০৮ রানে। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ জেতে ইনিংস ও ৫২ রানে!

তখনো পঞ্চমদিনের খেলার প্রায় পুরোটাই বাকি!

বৃষ্টি। তৃতীয় দিনে খেলা শুরু। এমনসব কিছুতে গৌরবগাঁথার পুরোটাই যে নিউজিল্যান্ডের। দলের সেই গৌরব কাহিনী বেশ ভালো মনে থাকার কথা ক্রেইগ ম্যাকমিলানের। ২০০১ সালের ডিসেম্বরের সেই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বর্তমান দলের ব্যাটিং কোচ।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বৃষ্টিতে অগৌরবের সেই রেকর্ড বাংলাদেশেরও একজনের খুব করে মনে থাকার কথা-খালেদ মাসুদ পাইলটের! ২০০১ সালের সেই টেস্টের অধিনায়ক বর্তমান দলের ম্যানেজার!

ওয়েলিংটনে তৃতীয়দিনের খেলা শুরুর আগে মাসুদের সঙ্গে দেখা হলে নিশ্চয়ই ১৮ বছর আগের সেই সময়টা মনে করে স্মিথ হাসবেন ক্রেইগ ম্যাকমিলান!