রূপগঞ্জের বোলিং ঝড়ে আবাহনী অলআউট ১২২

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম
শহীদ: প্রথম স্পেলে ৭-৪-১০-২!  -ফাইল ছবি

শহীদ: প্রথম স্পেলে ৭-৪-১০-২! -ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশাখের আগমনী ঝড়ো বার্তা এখন প্রতিদিনই চলছে। তবে বোরবার সকালে কোন ঝড় ছিলো না। কিন্তু মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বল হাতে ঠিকই ‘ঝড়’ তুললেন দুই পেসার-শুভাশীষ রায় ও মোহাম্মদ শহীদ। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের এই দুই পেসারের শুরুর সেই ঝড়েই লন্ডভন্ড বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডের টপঅর্ডার ব্যাটিং! মাত্র ১২২ রানে গুটিয়ে গেলো আবাহনীর ইনিংস। চলতি লিগে এটাই আবাহনীর সর্বনি¤œ রান।

২৯ রানেই নেই শুরুর ৫ উইকেট! ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১১.৪ ওভার। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আবাহনীর ভয়াবহ ব্যাটিং ধসের নজির এই প্রথম। শুরুর পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে শুধুমাত্র সৌম্য সরকার পৌছালেন ডাবল ফিগারে। মাঝে সেই ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা চালান মোসাদ্দেক সৈকত ও মোহাম্মদ মিঠুন। সেই জুটি ভাঙ্গতেই আবাহনীর ইনিংস উড়ে গেলো রূপগঞ্জের দুরন্ত বোলিং ঝড়ে। ৩৯.১ ওভারে থেমে গেলো আবাহনী ১২২ রানে। অধিনায়ক মোসাদ্দেক শেষ পর্যন্ত রইলেন অপরাজিত ৪০ রান করে।

মিরপুরে টসে জয়ী রূপগঞ্জের দুই ডানহাতি পেসার শুভাশীষ ও মোহাম্মদ শহীদের প্রথম স্পেলটা হলো দুর্দান্ত দাপুুটে! শুভাশীষ ৭ ওভারে ৩১ রানে ৩ উইকেট। মোহাম্মদ শহীদের বোলিং সত্যিকার অর্থে ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো! ৭ ওভারে ৪ মেডেনসহ মাত্র ১০ রানে ২ উইকেট। নিজেদের ১৪ ওভারের এই স্পেলে দুজনের ডটবলের সংখ্যা সবমিলিয়ে ৬৯টি। অর্থাৎ এই দুজনের ৮৪ বলের মধ্যে থেকে ৬৯ বল থেকে কোন রানই নিতে পারেনি আবাহনীর ব্যাটসম্যানরা!

প্রথম পাওয়ার প্লে’তে সত্যিকার অর্থেই ‘পাওয়ার’ দেখান শুভাশীষ ও শহীদ।

ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট হারায় আবাহনী। শুভাশীষের করা ম্যাচের প্রথম বলেই বোল্ড হন ওপেনার জহুরুল ইসলাম। দারুণ ফর্মে থাকা এই ওপেনারকে শূন্য রানে হারানো আবাহনীর ডাগআউটে টেনশন ছড়িয়ে পড়ে। সেই ধাক্কা সামাল দেয়ার আগেই দেখা গেল ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তও আউট! সৌম্য সরকার দুই বাউন্ডারিতে সঙ্কট কাটিয়ে উঠার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু এই ম্যাচে তিনিও ব্যর্থ। জহুরুল ০, শান্ত ৬ ও সৌম্য ১৪ রানে বিদায় নিলেন। তিনটি উইকেটই শিকার শুভাশীষ রায়ের কব্জায়।

অপরপ্রান্ত থেকে মোহাম্মদ শহীদ আবাহনীর যন্ত্রণা আরো বাড়ালেন। ভারতীয় ব্যাটসম্যান পিকে পঞ্চালকে ফেরালেন শহীদ ১ রানে। সাব্বির রহমান ৮ বল খেলে কোন রান করার আগেই শহীদের বলে বোল্ড!

দুই পেসারের পর রূপগঞ্জের স্পিনার নাবিল সামাল আবাহনীর ব্যাটিংয়ে আরো ধস নামান। মিঠুন ও সাইফুদ্দিনকে ফিরিয়ে দেন নাবিল সামাদ। ৩০ ওভারে ৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানো আবাহনীর ব্যাটিংকে দিশেহারা দেখাচ্ছিলো! মাশরাফি শেষের দিকে দুই ছক্কায় ১০ বলে ১৫ রান করেন। কিন্তু আবাহনীর ব্যাটিং ধস তাতেও রক্ষা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :