Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

আবাহনীর ট্রফি জেতার ম্যাচটা কিন্তু সৌম্যের!

আবাহনীর ট্রফি জেতার ম্যাচটা কিন্তু সৌম্যের!
প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

হিসেবটা সহজ ছিলো আবাহনীর জন্য। শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে এই ম্যাচে জিততেই হবে। তখন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ দিনের অন্য ম্যাচে জিতলেও তাতে আবাহনীর কোন সমস্যা হবে না। শিরোপা আবাহনীরই থাকবে। পয়েন্ট রূপগঞ্জের সমান হলেও উন্নততর রান রেট আবাহনীকে টেবিলের শীর্ষে রাখে।

শেষ পর্যন্ত সেই রানরেটই আবাহনীকে এনে দিলো ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের ২০ নম্বর শিরোপা। তবে আবাহনীর চ্যাম্পিয়নশিপের এই ম্যাচটা বিখ্যাত হয়ে থাকবে সৌম্য সরকারের কীর্তির জন্য।

ব্যাট হাতে এই ম্যাচে নিজের সব ইচ্ছে পুরো করেছেন আবাহনীর এই ওপেনার। ১৫৩ বলে অপরাজিত ২০৮ রান। ১৪ বাউন্ডারি ও ১৬ ছক্কা। লিস্ট-এ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে কোনো ব্যাটসম্যানের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এটাই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। এক ইনিংসে এটাই সবচেয়ে বেশি ছক্কা। যে কোনো উইকেট জুটিতে ৩১২ রান-সর্বোচ্চ জুটিরও রেকর্ড।

একদিনে তিন রেকর্ডের সবকটিতে সৌম্য সরকারের নাম! এই ম্যাচ, এই রেকর্ডের ডাবল সেঞ্চুরি, ছক্কার ঝড়-ক্রিকেট নিয়ে গল্প করার মতো এক ম্যাচে অনেককিছু পেয়ে গেলেন সৌম্য সরকার।

মঙ্গলবার সকালে সাভার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টসে জিতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ব্যাটিং বেছে নেয়। শুরুতেই সমস্যায় পড়ে তারা। মাশরাফির বোলিং তোপের মুখে পড়ে ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারায় শেখ জামাল। কিন্তু তানভীর হায়দারের সেঞ্চুরির সুবাদে শেষ পর্যন্ত ৩১৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে শেখ জামাল। লিগের শেষ ম্যাচে মাশরাফি চার উইকেট পান।

ম্যাচ জিততে আবাহনীর চাই ৩১৮ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনশ’র ওপর যে কোন রান তাড়া করা কঠিন কাজ। উইকেট তা সে যতোই ব্যাটিং সহায়ক হোক না কোনো? তবে আবাহনীর দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও জহুরুল ইসলাম যেভাবে শুরু করলেন তাতে আবাহনীর জন্য এই ম্যাচ জেতাটা হয়ে দাড়ায় ‘দুধ-ভাত’!

৮ ওভার দলের ৫০ রান পুরো। নিজের প্রথম ৫২ বলে সৌম্য সরকার হাফসেঞ্চুরির আনন্দে ব্যাট তুললেন। ইনিংসের বাকি সময়জুড়ে সৌম্যের ব্যাটে বিদ্যুৎ চমকালো! ৭৮ বলে পেলেন সেঞ্চুরি। ১০৪ বলে করলেন ১৫০ রান। ততক্ষনে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১ ছক্কার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। হাঁকিয়েছেন ১৫ ছক্কা। নিজের রান দেড়শ হওয়ার পর বুঝলেন ইচ্ছে করলেই ডাবল সেঞ্চুরি সম্ভব। সেই চিন্তায় নিজের খেলা কিছুটা বদলে ফেললেন। নিরাপদে ডাবল সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে চললেন। আর আবাহনী সামনে বাড়লো ট্রফি হাতে নিয়ে উৎসবের আলো ছড়িয়ে। সঙ্গী ওপেনার জহুরুল ইসলামও তুলে নিলেন চলতি লিগে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ১৪৯ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পুরো করার আনন্দে দু’হাত তুলে উৎসবে মাতলেন।

জয়ের জন্য ৩১৮ রানের বড় লক্ষ্য আবাহনী টপকে গেলো অনায়াস ভঙ্গিতে প্রায়। জিতলো ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। তখনো ম্যাচের ১৭ বল বাকি!

দিনের অন্যম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে মিরপুরে রূপগঞ্জ হারালো ৮৮ রানে। আরেক ম্যাচে মোহামেডানকে ৩ রানে হারালো প্রাইম দোলেশ্বর। কিন্তু সেইসব ম্যাচের ফল যে সব তখন গুরুত্বহীন।

সব আলো এবং আলোচনা যে আবাহনীর জয় এবং সৌম্য সরকারের ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব: ৩১৭/৯ (৫০ ওভারে, তানভীর হায়দার ১৩২*, ইলিয়াস সানি ৪৫, মেহরাব হোসেন ৪৪, মাশরাফি ৪/৫৬)। আবাহনী: ৩১৯/১ (৪৭.১ ওভারে, জহুরুল ১০০, সৌম্য ২০৮*, ইমতিয়াজ ১/১০)। ফল: আবাহনী ৯ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: সৌম্য সরকার।

আপনার মতামত লিখুন :

সবার আগে বিশ্বকাপের সেমিতে অস্ট্রেলিয়া

সবার আগে বিশ্বকাপের সেমিতে অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটে-বলে দাপটে শেষ চারের টিকিট পেয়ে গেল অজিরা

শুরুতে ব্যাট হাতে অ্যারন ফিঞ্চের শতরান তারপর জেসন বেহরেনডর্ফ-মিচেল স্টার্কের বোলিং তোপ। দুইয়ে মিলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে রীতিমতো আত্মসমর্পনই করল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরুর পর পথ হারিয়েছে স্বাগতিকরা। এবার অজিদের সঙ্গেও লড়াই পারল না ইয়ন মরগানের দল। ইংলিশদের হারিয়ে সবার আগে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালের টিকিট পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

লর্ডসের ময়দানে মঙ্গলবার ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।

এই জয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে ফিঞ্চের দল। সাত ম্যাচে ৬ জয়ে তাদের পয়েন্ট ১২। তবে হারলেও ছিটকে যায়নি ইংল্যান্ড। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে টেবিলের চতুর্থস্থানে।

সন্দেহ নেই তাদের হারে লাভ হল বাংলাদেশের। এক পয়েন্ট কম নিয়ে পঞ্চমস্থানে আছে টাইগাররা। এখন মাশরাফি বিন মর্তুজাদের সেমিতে খেলার সম্ভাবনা আরো জোরালো হল। যদিও ভারত-পাকিস্তান দুই দলকেই হারাতে হবে তাদের। সঙ্গে একটি ম্যাচে ইংলিশদের পরাজয় কামনা করতে হবে।

মঙ্গলবার টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে অজিরা ৭ উইকেট হারিয়ে করে ২৮৫ রান। জবাব দিতে নেমে ৪৪.৪ ওভারে অলআউট হয়ে ইংল্যান্ড তুলে ২২১ রান।

চ্যালেঞ্জিং স্কোরের সামনে খেলতে নেমে নিজ মাঠে কিছুই করতে পারল না ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। শুরুতেই উইকেট পতনের মিছিল। দলীয় শূণ্য রানে ফেরেন জেমস ভিন্স। এরপর ১৫ রানের সময় তার পিছু নেন জো রুট। সম্ভাবনা জাগিয়েও ফেরেন জনি বেয়ারস্টো। ২৭ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরের পথ দেখান বাঁহাতি পেসার জেসন বেহরেনডর্ফ।

তারপর অবশ্য বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন বেন স্টোকস ও জস বাটলার। কিন্তু জুটি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে ফেরান মার্ক স্টয়নিস। ভাঙে ৭১ রানের জুটি। ২৫ রানে ফেরেন বাটলার। তারপর ক্রিস উইকস কিছুটা সঙ্গ দেন স্টোকসকে। কিন্তু পথ দেখানো হয়নি। ১১৫ বলে ৮৯ রান তুলে স্টোকস ফিরতেই সব শেষ!

এরপর আদিল রশিদের ২৫ রান শুধু হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। কাজের কাজ হয়নি। পুরো ওভারও খেলতে পারেনি ইংলিশরা।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে দাপট দেখালেন অ্যারন ফিঞ্চ। ফের তুলে নেন শতরান। অবশ্য শুরুটাই দুর্দান্ত ছিল অস্ট্রেলিয়ার। তৃতীয় শতরানের জুটি গড়েন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ১২৩ রানের জুটি ভাঙেন মঈন আলি। ওয়ার্নার তুলেন ৬১ বলে ৫৩ রান। এরপর শুরুতেই প্রাণ পেয়ে উসমান খাজা বেশিদূর যেতে পারেন নি। ২৩ রানে ফেরেন তিনি।

১১৫ বলে এই বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৫তম শতরান তুলে নেন ফিঞ্চ। কিন্তু এরপরই ভুল করে ফেরেন সাজঘরে। স্টিভেন স্মিথ লডর্সের দর্শকদের দুয়োধ্বনির মধ্যেই তুলেন ৩৮ রান। আর শেষদিকে ২৭ বলে অপরাজিত ৩৮ রান করেন অ্যালেক্স কেয়ারি।

তবে ম্যাচের সেরা অ্যারন ফিঞ্চই। ওপেনিংয়ে নেমে তার অসাধারণ শতরানেই তো বড় সংগ্রহ গড়তে পেরেছে অজিরা। তারই পথ ধরে দল দুই ম্যাচ আগেই পেয়ে গেছে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালের টিকিট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৮৫/৭ (ফিঞ্চ ১০০, ওয়ার্নার ৫৩, খাজা ২৩, স্মিথ ৩৮, ম্যাক্সওয়েল ১২, স্টয়নিস ৮, কেয়ারি ৩৮*, কামিন্স ১, স্টার্ক ৪*; ওকস ২/৪৬, আর্চার ১/৫৬, উড ১/৫৯, স্টোকস ১/২৯, মঈন ১/৪২)
ইংল্যান্ড: ৪৪.৪ ওভারে ২২১/১০ (ভিন্স ০, বেয়ারস্টো ২৭, রুট ৮, মর্গ্যান ৪, স্টোকস ৮৯, বাটলার ২৫, ওকস ২৬, মইন ৬, রশিদ ২৫, আর্চার ১, উড ১*; বেহরেনডর্ফ ৫/৪৪, স্টার্ক ৪/৪৩, স্টয়নিস ১/২৯)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৬৪ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: অ্যারন ফিঞ্চ


স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাশরাফির ‘চড়ুইভাতি’

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাশরাফির ‘চড়ুইভাতি’
ছুটির আনন্দে মেতেছেন মাশরাফি। সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান- ছবি: ফেসবুক

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছুটির আমেজে ক্রিকেটাররা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাঁচদিনের টানা ছুটি কাটাতে শুরু করেছেন অনেকেই। বিশ্বকাপে পরের ম্যাচ ২ মার্চ, তার আগে মিলল ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি। এ সুযোগে সাকিব আল হাসান স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গেলেন প্যারিসে।

তবে ইংল্যান্ডেই আছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। একদিন আগে তার স্ত্রী সুমনা হক সুমী ঘুরে আসলেন সাউদাম্পটনের একটি স্ট্রবেরি বাগানে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561478781022.jpg

মঙ্গলবার মাশরাফির স্ত্রীর ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা গেল পিকনিকে মেতেছেন তারা। সাউদাম্পটনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোটখাটো চড়ুইভাতি করলেন টাইগার ক্যাপ্টেন। যেখানে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী ও ছোট ভাইকে নিয়ে কাটল দারুণ সময়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561478799423.jpg

সুমনা হক সুমির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা মঙ্গলবারের (২৫ জুন) ছবিতে দেখা যায়, সবুজ ঘাসের বুকে পিকনিকে মেতেছেন তারা। পুরো পরিবার নিয়ে আনন্দে মেতেছেন মাশরাফি।

তাদের সামনেই আছে নানা খাবার- জুস, স্যান্ডউইচ আর ফলমূল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561478815490.jpg

দুই সন্তান ছাড়াও মাশরাফির সঙ্গে আছেন তার ছোট ভাই মোরসালিন বিন মুর্তজা।

আফগানিস্তানকে হারানোর পর এখন খোশ মেজাজে আছে দল। মঙ্গলবার থেকে দল পেয়েছে ৫দিনের ছুটি। ২ মার্চ লড়াই ভারতের সঙ্গে। ৩০ জুন ফের অনুশীলনে যোগ দেবেন টাইগাররা। তার আগে এভাবেই আনন্দে সময় কাটবে তাদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561478835769.jpg

দলের সামনে এখনো আছে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলার হাতছানি। এজন্য অবশ্য পরের দুই ম্যাচে ভারত-পাকিস্তানকে হারাতে হবে টাইগারদের!

আরো পড়ুন-

ছুটির মেজাজে টাইগাররা, সপরিবারে প্যারিসে সাকিব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র