Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

ফাইনালে সাকিবের খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি!

ফাইনালে সাকিবের খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি!
পিঠে চোট পাওয়ার পর মাঠে সাকিব, ছবি: টিভি
এম. এম. কায়সার
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাকিব আল হাসানের ইনজুরি সম্পর্কে বিসিবির আপডেট এমন, সাকিব বৃহস্পতিবার বিশ্রামে কাটিয়েছেন। ডাবলিনের সময় বিকেল বেলা বাংলাদেশ দলের ফিজিও থিলান চন্দ্রমোহন তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন।

বিকালে চন্দ্রমোহন সেই পরীক্ষা শেষে একটা রিপোর্ট দিলেন। তার সেই রিপোর্টের পুরোটাই এমন, ‘বুধবার আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সময় সাকিব বাম পিঠে পেশির খিঁচুনির চোটে পড়েছেন। তার ইনজুরি নিয়ে পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চলছে। শুক্রবারের ফাইনাল ম্যাচে সাকিব খেলতে পারবেন কিনা তা সেটা ম্যাচ শুরুর সকালে জানা যাবে।’

সাকিবের ইনজুরি সম্পর্কে বিসিবির আনুষ্ঠানিক এই সিদ্ধান্তই জানান দিচ্ছে-ইনজুরির ধরনে তেমন বড় আশঙ্কার কোনো কিছু নেই। আর তাই স্ক্যান বা এক্সরে করানোর প্রয়োজন হয়নি।

লম্বা সময় ধরে ক্রিকেট খেলছেন এমন ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে সাইড স্ট্রেইন বা পিঠের এই চোট খুব নতুন কোন ইনজুরি নয়। বাংলাদেশ দলের পেস বোলার রুবেল হোসেনেরও এই চোটের অভিজ্ঞতা আছে। সেই চোটের কারণে রুবেল হোসেন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে খেলেননি। তবে চলতি তিনজাতি ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে রুবেল হোসেন খেলেছেন।

স্পোর্টসের ফিজিওরা বলছেন-পিঠের এমন চোট নিয়েও অনেক ক্রিকেটার খেলে থাকেন। যারা একটু মানসিকভাবে শক্তপোক্ত তারা এসব চোট নিয়েও মাঠে ঠিকই নেমে পড়েন। তবে এসব ক্ষেত্রে পুরো ব্যাপারটা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সেই ক্রিকেটারের ওপর। তিনি যদি মনে করেন এই চোটের চাপ নিয়েও আমি খেলতে পারব তাহলে দলের ফিজিও তাকে খেলার অনুমতি দেন।

সেই সূত্রে বলা ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবারের ফাইনালে খেলার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ এককভাবে নির্ভর করছে সাকিবের সিদ্ধান্তের ওপর। ব্যথাটা আছে সাকিবের এখনো। তবে সৌভাগ্যের বিষয়টা হলো তার এই ইনজুরি বড় কোনো সমস্যার তৈরি করছে না। স্নায়ুর কোনো তন্তু ছিড়ে যায়নি। সাকিব যদি খেলার দিন ফিট থাকেন তবে খেলতে পারবেন। ম্যাচের দিন সকাল পর্যন্ত সাকিবের জন্য দল অপেক্ষা করবে। এই সময়ের মধ্যে সাকিব যদি নিজে জানান তার কোনো সমস্যা নেই, তাহলে তাকে রেখেই একাদশ ঠিক হবে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুমও ভাঙ্গে সাকিবের ব্যথা নিয়েই। তবে সাধারণত টানা কয়েক ঘণ্টা বিশ্রামে থাকলে এরকম ব্যথা কমে যেতে পারে। এমনও হতে পারে ম্যাচের দিন সকালেও সাকিবের ব্যথা থাকতে পারে। তবে সাকিব যদি মনে করেন সেই ব্যথা সয়ে তিনি খেলতে পারবেন তাহলে তো সমস্যার সমাধান। আর যদি মনে করেন, খেললে তার ব্যথা আরও বাড়তে পারে এবং সেটা ম্যাচের মাঝপথে তার দলের জন্য আরও বড় সমস্যার তৈরি করবে-তখন সাকিব হয়তো ফাইনাল থেকে নিজেকে সরিয়েও নিতে পারেন। এই দুটি বিষয়কে সিদ্ধান্তের পরিমাপক মানলে বলা যেতে পারে ফাইনালে সাকিবের খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি!

এই বিষয়ে বার্তা২৪.কম-কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্পোর্টস ফিজিও জানিয়েছেন, ‘এমনসব ইনজুরি নিয়ে খেলা ক্রিকেটাররা অনেক সময় ব্যথা থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যথানাশক ইনজেকশন নেন। তবে সাকিব যদি এই ম্যাচে ইনজেকশন নিয়ে খেলেন তাহলে সেটা পরবর্তীতে তার জন্য আরও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সামনে বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে পুরোদুস্তর ফিট সাকিবকে পাওয়াটা বেশি জরুরি। তাই সাকিব যদি এই ম্যাচে খেলেনও তবে তাকে যেন ইনজেকশন না নিতে হয়।’

-সাইড স্ট্রেইন হওয়ার কারণ কি?

এটা আসলে পেশিতে টান পড়া যাকে বলে, খিঁচুনি, তাই। রাতে ঘুমালেন ঠিকই কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন সাইড স্ট্রেইনের যন্ত্রণায় পিঠের পেশিতে ব্যথা হচ্ছে। এমনও হতে পারে শটস খেলতে গিয়ে একটু বেশি শক্তি খরচ হওয়ায় পেশিতে টান পড়ল। সাকিবও সম্ভবত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে এমন সমস্যায় পড়েন।

আপনার মতামত লিখুন :

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার টেস্ট জিতলো ইংল্যান্ড! নায়ক বেন স্টোকস

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার টেস্ট জিতলো ইংল্যান্ড! নায়ক বেন স্টোকস
ইংল্যান্ডের নাটকীয় জয়ের নায়ক বেন স্টোকস

আহ্ টেস্ট ম্যাচ! কি দুর্দান্ত ম্যাচ! টান টান লড়াই! ব্যাট-বলের জমাট লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জিতলো ইংল্যান্ড। তাও আবার মাত্র ১ উইকেটে! ন্যূনতম ব্যবধানে ইংল্যান্ডের এই জয়ই জানান দিচ্ছে কি দারুণ জমেছিলো এই ম্যাচ!

জয়ের জন্য ইংল্যান্ড শেষ রান না নেয়া পর্যন্ত বোঝাই যাচ্ছিলো না এই টেস্ট কে জিতবে- ইংল্যান্ড নাকি অস্ট্রেলিয়া?

বেন স্টোকসের ব্যাটে সব সন্দেহ, দ্বিধা দূর করে ইংল্যান্ড জিতলো তাদের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ম্যাচ। স্টোকসের অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস হেডিংলির মাঠে ইয়ান বোথামের ১৯৮১ সালের অ্যাশজের হার না মানা ১৪৯ রানের সেই ম্যাচ জয়ী ইনিংসের কথাই মনে করিয়ে দিলো। বোথামের মতো এই টেস্টও পুরোপুরি একা হাতে ইংল্যান্ডকে জেতালেন বেন স্টোকস।

শেষ উইকেটে হার না মানা ৭৬ রানের ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য জুটিই সব হিসেবের সমাধান করে দিলো। এই ৭৬ রানের মধ্যে মাত্র ১ রান করলেন শেষ ব্যাটসম্যান জ্যাক লিচ। বাকি সব স্টোকের কৃতিত্ব।

ম্যাচ জিততে শেষ ইনিংসে ইংল্যান্ডের সামনে টার্গেট ছিলো ৩৫৯ রানের। শেষ ইনিংসে এরচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড আছে ইংল্যান্ডের। কিন্তু সেই ম্যাচ তারা জিততে পারেনি। ড্র করেছিলো। এই প্রথম চতুর্থ ইনিংসে এতো বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জিতলো ইংল্যান্ড। তাও আবার যে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তারা গুটিয়ে গিয়েছিলো ৬৭ রানে!

হোঁচট খেয়েও কিভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়? কিভাবে ফিরে আসতে হয়? কিভাবে প্রায় শূন্য অবস্থান থেকে জিততে হয়? সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিলো ইংল্যান্ড হেডিংলি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে।

১১ বাউন্ডারি ও ৮ ছক্কায় ২১৯ বলে বেন স্টোকসের হার না মানা ১৩৫ রান অ্যাশেজের ইতিহাসে সেরা ইনিংসের একটি হয়ে রইলো। এই জয়ের সুবাদে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এখন ১-১ ড্র। সিরিজের চতুর্থ টেস্ট শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর, ওল্ড ট্রাফোর্ডে।

চতুর্থদিনে জস বাটলার আউট হওয়ার পর এই ম্যাচের পাল্লা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। দলের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্টুয়ার্ট ব্রড যখন আউট হলেন তখন ইংল্যান্ডের স্কোর ২৮৬ রান। ম্যাচ জিততে তখনো তাদের চাই ৭৩ রান। প্রায় অসম্ভব সেই কাজ শেষ উইকেটে করে ফেললো ইংল্যান্ড। আসলে বলা উচিত করে দিলেন বেন স্টোকস। একপ্রান্ত আঁকড়ে রেখে অন্যপ্রান্তের ব্যাটসম্যানকে বাঁচিয়ে খেলার যে দুর্দান্ত ব্যাটসম্যানশিপ উপহার দিলেন বেন স্টোকস এই টেস্টে-তা হেডিংলির দর্শকরা অনেক অনেকদিন মনে রাখবে।

শেষের দিকে এসে অবশ্য কিছুটা ভাগ্যেরও সহায়তা পায় ইংল্যান্ড। জয়ের জন্য ১৭ রান দুরে থাকতে বেন স্টোকের ক্যাচ মিস করেন মার্কাস লাবুসানে। ইংল্যান্ড যখন জয় থেকে ৯ রান দুরে তখন নাথান লায়নের এক ওভারে জোড়া আফসোসে মন ভাঙ্গলো অস্ট্রেলিয়ার। জ্যাক লিচকে রান আউটের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন নাথান লায়ন। পরের বলেই বেন স্টোকস এলবিডব্লু ছিলেন। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সম্মত হলেন না। অস্ট্রেলিয়া তাদের রিভিউ আগেই নষ্ট করে ফেলেছে! রিপ্লেতে পরিস্কার দেখা গেলো বেন স্টোকস এলবি। কিন্তু রিভিউ যে নেই!

শেষের এই টেনশনের মধ্যে কামিন্সের বলে এক রান নিয়ে স্কোর সমান করে দিলেন লিচ। সম্ভবত তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মুল্যবান সিঙ্গেল রান নিলেন লিচ। পরের বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বেন স্টোকস ইংল্যান্ডকে এনে দিলেন অবিস্মরণীয় এক জয়!

সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিং: ১৭৯/১০ (৫২.১, ওয়ার্নার ৬১, লাবুসচাঙ্গে ৭৪, পাইন ১১, আর্চার ৬/৪৫, ব্রড ২/৩২)। দ্বিতীয় ইনিংস: ২৪৬/১০ (৭৫.২ ওভারে, খাজা ২৩, লাবুশানে ৮০, হেড ২৫, ওয়েড ৩৩, স্টোকস ৩/৫৬, আর্চার ২/৪০, ব্রড ২/৫২)।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৬৭/১০ (২৭.৫ ওভারে, জো ডেনলি ১২, হ্যাজেলউড ৫/৩০, কামিন্স ৩/২৩, প্যাটিসন ২/৯)। দ্বিতীয় ইনিংসে: ৩৬২/৯ (১২৫.৪ ওভারে, জো রুট ৭৭, জো ডেনলি ৫০, বেয়ারস্টো ৩৬, স্টোকস ১৩৫*, হ্যাজেলউড ৪/৮৫)। ফল: ইংল্যান্ড ১ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: বেন স্টোকস।

আগুয়েরো ম্যাজিকে সিটির জয়

আগুয়েরো ম্যাজিকে সিটির জয়
ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের পর আগুয়েরোর বিশেষ উদযাপন, ছবি: সংগৃহীত

সার্জিও আগুয়েরোর জোড়া গোলে এফসি বোর্নমাউথকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।

ভিটালিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৫তম মিনিটেই আগুয়েরোর গোলে এগিয়ে যায় কোচ পেপ গার্দিওলার সিটি। ৪৩তম মিনিটে গোল ব্যবধান ২-০ তে নিয়ে যান অতিথি দলের তারকা প্লেমেকা রাহিম স্টারলিং।

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে (৪৫+৩ মিনিটে) বোর্নমাউথের হয়ে একটি গোল শোধ করেন হ্যারি উইলসন।

বোর্নমাউথের মাঠে ৬৪তম মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন তারকা স্ট্রাইকার আগুয়েরো।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র