Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

শুরুতে সৌম্য, শেষে সৈকতে সুন্দরতম সমাপ্তি

শুরুতে সৌম্য, শেষে সৈকতে সুন্দরতম সমাপ্তি
ফাইনালে বাংলাদেশের দুই জয়ের নায়ক সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত- ছবি: বিসিবি
এম. এম. কায়সার
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নেতাকে সামনের সময়টা দেখতে হয় খুব স্পষ্ঠ করে। বাস্তবতার নিরিখে। এই ফাইনালের সামনের সেই সময়কে অধিনায়ক মাশরাফি একটু আগেভাগেই দেখতে পেয়েছিলেন তাহলে?

শুনি ফাইনালের আগে মাশরাফি কি বলছিলেন-‘সাকিবকে ছাড়াও এই ম্যাচ জয়ের সামর্থ্য আমাদের আছে। সাকিব না খেললে তার জায়গা যে খেলবে, সেও পেশাদার, তারও সামর্থ্য আছে ভালো করার।’

-তো সাকিবের পরিবর্তে ফাইনালে কে খেললেন?

কম্বিনেশন জানাচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। নিশ্চিত জানুন একাদশে সাকিব আল হাসান থাকলে এই ফাইনালে মোসাদ্দেকের খেলা হতো না। ম্যাচে সাকিবের ১০ ওভারের স্পিন কে করে দেবে- সেই পরিকল্পনা সফল করতেই মুলত ফাইনালের একাদশে চলে এলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558163412838.jpg

কিন্তু সেই তিনিই ম্যাচের শেষভাবে ব্যাট হাতে যা করলেন তাতেই প্রমাণিত তার পেশাদারিত্ব। তার সামর্থ্য। যে পেশাদারিত্বের কথা, যে সামর্থ্যরে কথা ফাইনাল শুরুর ২৪ ঘন্টা আগে ঠিকই দেখেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি!

ট্রফি জিততে চাই ২৪ ওভারে ২১০ রান। যে কোনো ফরম্যাটেই এটি অনেক বড় টার্গেট। মোসাদ্দেক হোসেন যখন ব্যাট করতে এলেন উইকেটে তখন জেনুইন ব্যাটসম্যান শুধু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যাটিং অর্ডারে এরপরই লেজের সারির শুরু। স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান তখন ৫ উইকেটে ১৪৩। ম্যাচ জিততে চাই ৫০ বলে ৬৭ রান। এই অবস্থান থেকে আরেকটি উইকেট হারানো মানেই পাহাড় সমান চাপে পড়বে দল। একেই তো ফাইনাল ম্যাচ। তাছাড়া মাঠ ভেজা থাকায় বলও দ্রুত বাউন্ডারিতে যাচ্ছে না। ভেজা ঘাসে আটকে যাচ্ছে। তাই মোসাদ্দেক-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জুটি সিদ্ধান্ত নিলেন খেলাটা তারাই শেষ করে ফিরবেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558163445562.jpg

যেই চিন্তা সেই কাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোসাদ্দেকের শুরুটা হলো অনেক বেশি সাবধানী। নিজের খেলা প্রথম ১১ বলে মোসাদ্দেক করলেন মাত্র ৬ রান। তখনো লক্ষ্য থেকে বেশ দুরে বাংলাদেশ। চাই ৩৬ বলে ৫৫ রান। পরের ওভারে হোল্ডারকে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে উড়িয়ে ফ্লিক শটে ম্যাচে নিজের প্রথম ছক্কা মোসাদ্দেকের। সেই ওভারে বাংলাদেশের স্কোরে যোগ হলো ১০ রান। স্পিনার অ্যালেনের করা পরের ওভারে দেখেশুনে ব্যাটিং। এই ওভারে মিললো মাত্র ৬ রান। টার্গেট তখনো বেশ দুরে। ২৪ বলে করতে হবে ৩৯ রান। খেমার রোচের করা ম্যাচের ২১ নম্বর ওভারের দ্বিতীয় বলে ফের মোসাদ্দেকের দুর্দান্ত ছক্কা। এক্সট্রা কাভারের ওপর দিকে বল গ্যালারিতে! ওভারে সবশুদ্ধ মিললো ১২ রান। জিততে প্রয়োজন তখন আরো ২৭ রান। বল বাকি ১৮টি।

এখান থেকেই গিয়ার বদলে ফেললেন মোসাদ্দেক। তার ব্যক্তিগত রান তখন ১৫ বলে ২৬। স্পিনার ফ্যাবিয়েন অ্যালেনকে আক্রমণে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন যা করার এই ওভারেই করতে হবে।

প্রথম বল ছক্কা! দ্বিতীয় বলেও তাই, ছক্কা!! তৃতীয় বলে বাউন্ডারি!!! চার নম্বর বলে আরেক ছক্কা!!!! পঞ্চম বলে দুই রান। সেই সঙ্গে মাত্র ২০ বলে মোসাদ্দেকের হাফসেঞ্চুরি পুরো। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটাই বাংলাদেশেরদ্রুততম হাফসেঞ্চুরি এটি। আগেরটি ছিলো ২১ বলের, মোহাম্মদ আশরাফুল ও আব্দুর রাজ্জাকের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558163464350.jpg

অ্যালেনের সেই ওভারের ছয়টি বলই খেলেন মোসাদ্দেক। তাতে সবমিলিয়ে রান এলো ২৫। এই ২৫ রানই মোসাদ্দেকের ব্যাটে! ১৫ বলের ২৬ রান থেকে চোখের পলকেই তার স্কোর ২১ বলে ৫১ রানে!

এই ওভারকেই ফাইনালের টার্র্নিং পয়েন্ট বলছেন মোসাদ্দেক-‘শেষ তিন ওভারে আমাদের চাই ২৭ রান। জানতাম ড্রেসিংরুমে আমাদের পরে ব্যাটিংয়ে আছেন সাইফুদ্দিন, মেহেদি ও মাশরাফি ভাই। মাশরাফি ভাই বিগ শট খেলতে পারেন। তবে আমাদের পরিকল্পনা ছিলো শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে ব্যাটিং করে যাওয়া। অ্যালেনকে আক্রমণে দেখেই তাকে টার্গেট করি। সেই ওভারে নিজেদেরকে আমরা লক্ষ্যের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছি। সেটা আমরা পেরেছিও। মুলত সেই ওভারেই কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। ঐ ওভারটাই টার্নিং পয়েন্ট।’

আসলেও তাই। ২৫ রানের সেই ওভারের পর ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন পড়ে ১২ বলে ২ রান! মাহমুদউল্লার বাউন্ডারিতে পরের ওভারেই জয় আনন্দ বল্গাহারা!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558163487721.jpg

ইনিংসের শুরুতে সৌম্যের ৪১ বলে ৬৬ রান। মাঝে দারুণ পরিকল্পনায় সাজানো মুশফিক-মিঠুনের ব্যাটিং। এবং শেষে মোসাদ্দেক-মাহমুদউল্লাহর সুন্দর মসৃণ । ট্রফি জয়ী ফাইনালের বাংলাদেশের এই ইনিংসকে দেশের সিনিয়র ক্রিকেট কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম এভাবে ব্যাখা করছেন-‘সৌম কে দিয়ে শুরু, সৈকত কে দিয়ে তার শেষ। এই প্রজন্ম বুঝিয়ে দিল তারাও দায়িত্ব নিতে জানে।’

এতদিন ক্রিকেট ফাইনালের দুঃখ-শোক, কান্না-কষ্টই দেখছিলো বাংলাদেশ। এই প্রথম দেখলো হাসি-আনন্দের সুন্দরতম সমাপ্তি। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ শুরুর আগে আগে খুব পরিশীলত কায়দায় কিন্তু আত্মবিশ্বাস ভরা গর্জন শুনিয়ে দিল বাংলাদেশ-‘আমরাও আসছি!’

আপনার মতামত লিখুন :

ভাঙল জোকোভিচের শিরোপা স্বপ্ন

ভাঙল জোকোভিচের শিরোপা স্বপ্ন
শেষ চারে হেরে হতাশ জোকোভিচ, ছবি: সংগৃহীত

শিরোপা জয়ের স্বপ্নই দেখেছিলেন নোভাক জোকোভিচ। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। তাই শিরোপা তো দূরে থাক সিনসিনাটি মাস্টার্সের ফাইনালেই উঠা হয়নি এ সার্বিয়ান তারকার। প্রতিপক্ষ দানিল মেদভেদেভের কাছে অঘটনের শিকার হয়ে ১৬ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী এ মেগাস্টার বিদায় নিলেন টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল থেকে।

শেষ চারের লড়াইয়ে প্রথম সেট ৬-৩ গেমে জিতে এগিয়ে ছিলেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর তারকা। কিন্তু পরের দুই সেটে খেই হারিয়ে ফেলেন জোকোভিচ। ৬-৩ ও ৬-৩ গেমে হার মানেন নবম বাছাই রুশ প্রতিপক্ষের কাছে।

অঘটনের এ জয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের টিকিট পেয়ে গেছেন মেদভেদেভ। আসরে পুরুষদের একক ইভেন্টের শেষ ম্যাচে তার প্রতিপক্ষ আরেক অনাকাঙ্ক্ষিত ফাইনালিস্ট ডেভিড গোফিন।

১৬তম বাছাই এ বেলজিয়ান তারকা সেমিফাইনালে ৬-৩ ও ৬-৪ গেমে ফ্রান্সের রিচার্ড গ্যাসকুয়েটকে ধরাশায়ী করে প্রথম বারের মতো পৌঁছে গেছেন এটিপি মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে।

এ আসর থেকে বিদায় নেওয়ায় ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া ইউএস ওপেন নিয়েই এখন মনোযোগী হবেন জোকোভিচ।

 

সাকিবের সঙ্গে বিরোধ! মাহমুদউল্লাহ বললেন-আমরা এখনো বন্ধু!

সাকিবের সঙ্গে বিরোধ! মাহমুদউল্লাহ বললেন-আমরা এখনো বন্ধু!
সাকিব ইস্যুতে মুখ খুললেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ -ফাইল ছবি

ঘটনাটা বিশ্বকাপের সময়কার।

কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিং মোটেও পছন্দ করার মতো কিছু ছিলো না। ৩০ ওভারে ব্যাট করতে নেমে মাহমুদউল্লাহ সেই ম্যাচে করেছিলেন ৪১ বলে ২৮ রান। ম্যাচের ৪৫  নম্বর ওভারের শেষ বলে আউট হন। জয়ের জন্য বিশাল রান তাড়া করার জন্য সেসময় একটু দ্রুতগতিতে ব্যাট চালানোর প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর শামুক গতির ব্যাটিং, তাও আবার ইনিংসের একেবারে শেষের দিকে এসে-বিস্ময় ছড়ানোর মতোই তথ্য!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৬ রানে হারের সেই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর ধীর গতির ব্যাটিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেন সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রকাশ্যে নয়। টিম মিটিংয়ে। পরের ম্যাচের একাদশ গঠন নিয়ে সহ-অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের মতামত চাওয়া হলে তিনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বাদ দিতে বলেন।

অবশ্য সাকিবের সেই মতামত কানে নেয়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। আর তাই দল নির্বাচনে তার মতামত গুরুত্ব না পাওয়ায় সাকিবও জানিয়ে দেন- দল নির্বাচন পরিকল্পনায় পরের ম্যাচগুলোতে যেন তাকে না রাখা হয়।

সাকিবের অভিযোগ-অভিমান সবকিছুই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেই ৪১ বলে ২৮ রানের স্লো ব্যাটিং নিয়ে। 

টিম বৈঠকে সাকিবের এই অভিমানী সিদ্ধান্তের কথা মিডিয়ায়ও জানা জানি হয়ে যায়। যদিও বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট বারবারই অস্বীকার করে আসছে সাকিব-মাহমুদউল্লাহর মধ্যে এমন কিছুই ঘটেনি। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করলেন, এমন কিছু নয়। বললেন-‘আসলে বিষয়টা যেভাবে আসা উচিত ছিলো সেভাবে আসেনি। ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

রোববার, ১৮ আগস্ট মাহমুদউল্লাহ ফিটনেস অনুশীলনে একাই এসেছিলেন। সেখানেই সাকিবের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বিরোধের প্রসঙ্গ উঠতে মাহমুদউল্লাহ যা বললেন তার পুরোটাই এমন-‘আমার মনে হয় ঐ ধরনের নিউজ নিয়ে কথাবার্তা না বলাই ভালো। আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাইছি না। শুধু একটা জিনিষ বলতে চাই, কিছু কিছু জিনিষ যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সম্ভবত সেভাবে কিছু হয়নি বা ঘটেনি। ওসব ব্যাপারের উপস্থাপনটা হয়তো ভিন্নভাবে হতে পারতো। আমার মনে হয় না কোনো টিমমেটের সঙ্গে আমার কোনো গন্ডগোল বা কিছু হয়েছে। ও (সাকিব) এখনো আমার খুব ভালো বন্ধু। ড্রেসিংরুমে আপনারা চাইলে আসতে পারেন। আমরা কিভাবে কথা বলি। একজন একেক জনের সঙ্গে কিভাবে মজা করি। ভালো ভাবে সময় কাটাই সেটা দেখার জন্য আপনাদের (সাংবাদিকরা) সব সময় স্বাগত জানাই। ছোট হোক বড় হোক আমরা সবাই খুব ভালোভাবে থাকি। সবার সঙ্গে যেন ভালোভাবে থাকতে পারি সেজন্য আমি আমার দিক থেকে শতভাগ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এবং দলের জন্য যেন ভালো খেলতে পারি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র