Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

দুয়ো ওয়ার্নারের প্রেরণা

দুয়ো ওয়ার্নারের প্রেরণা
কোন সমালোচনাই কানে নিতে রাজি নন ডেভিড ওয়ার্নার
স্পোর্টস ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মাঠে ব্যাট হাতে ডেভিড ওয়ার্নার। আর গ্যালারিতে বসে অস্ট্রেলিয়ার এ বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানকে দুয়ো দিচ্ছে দর্শকরা। এমন দৃশ্যপট কল্পনা করুণ তো! আপনার কল্পনার জগতের চশমায় হয়তো ওয়ার্নারের বাজে ব্যাটিং নয় তো দর্শকদের উদ্দেশে তার বাজে অঙ্গভঙ্গির দৃশ্য ভেসে উঠছে। তাই না?

বাস্তবে কিন্তু ঘটে তার উল্টো। দর্শকদের দুয়োধ্বনিকে তিনি নেন প্রেরণা হিসেবে। মাথা গরম করে অশালীন আচরণে নয় ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে দেন তার কড়া জবাব। তাই ওয়ার্নারকে দুয়ো দেওয়া ইংলিশদের বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। এমনটাই মনে করেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের ম্যানেজার জেমস এরস্কিন।

সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও টেস্ট ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফটের সঙ্গে বল টেম্পারিং কেলেংকারিতে জড়িয়ে ১২ মাস নিষিদ্ধ ছিলেন ওয়ার্নার। নিষেধাজ্ঞা শাস্তি কাটিয়ে ফেরেন জাতীয় দলে। ১ জুন বিস্টলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমে হজম করেন ইংলিশ সমর্থকদের দুয়ো।

তাতে কান না দিয়ে উল্টো ব্যাট হাতে দাপট দেখান ওয়ার্নার। অন্যতম সেরা এ অজি ব্যাটসম্যান খেলেন ৮৯ রানের হার না মানা অনন্য এক ক্রিকেটীয় ইনিংস। তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৯১ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে হেসে খেলে জিতে যায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। দুরন্ত এ জয়ে ওয়ার্নার হন ম্যাচসেরা। এতো কিছুর পরও ম্যাচ শেষে এক রকম নিরবতাই পালন করে গেছেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/04/1559649904779.jpg

বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ার্নারের দাপটে পারফরম্যান্সের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে এরস্কিন বলেন, ‘আমি একজন ইংরেজ। ব্রিটিশ দর্শকরা একেবারেই নির্বোধ। দুয়োটা ওয়ার্নার আসলে সাহস যুগিয়ে দেয়। এটা সত্যি তাকে সহায়তা করে। মূল বিষয় হল, আপনি মনোযোগী হলে দেখবেন সে ব্যর্থ হতে চায় না। যে কারণে সে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেছে।’

এরস্কিনের মতে এ থেকে শিক্ষা নেবেন ইংলিশরা, ‘তারা বুদ্ধিমানের মতো শিক্ষা নেবে। বুঝতে পারবে তারা এমন একজনের বিরুদ্ধে লেগেছে যার কীনা রয়েছে গভীর মনোযোগ শক্তি। আছে ইচ্ছাশক্তিও। যা স্টিভ ওয়াহর মানসিক শক্তির চেয়ে আলাদা নয়। ঠিক এটাই এখানে কাজ করবে।’

অস্ট্রেলিয়ার পরের ম্যাচ বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। নটিংহ্যামে দুদলের লড়াই শুরু বিকেল সাড়ে ৩টায়।

আপনার মতামত লিখুন :

নাটকীয়তা ছড়িয়ে লর্ডস টেস্ট ড্র

নাটকীয়তা ছড়িয়ে লর্ডস টেস্ট ড্র
১১৫ রানের অনবদ্য এক ইংনিস খেলেন বেন স্টোকস/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

শেষ বিকালে লর্ডস টেস্টে নাটকীয়তার আবেশ ছড়ায়। ইংল্যান্ড ম্যাচ জেতার রঙিন স্বপ্নে বিভোর ছিলো। ১৩৮ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৫ উইকেট তুলে নিয়ে শেষ সেশনে লর্ডস টেস্ট জেতার খুব কাছে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষের কয়েক ওভার ঠুকঠুক ভঙ্গিতে ব্যাট করে ম্যাচ ড্র রাখতে সমর্থ হয় অস্ট্রেলিয়া।

ঠিক যাকে বলে কানের পাশ দিয়ে গুলি চলে যাওয়া- সেভাবেই বাঁচলো অস্ট্রেলিয়া লর্ডস টেস্টে!

শেষদিন ম্যাচ জেতার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৭ রানের চ্যালেঞ্জ দেয় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৫৮ রান তুলে ডিক্লেয়ার্ড করে স্বাগতিকরা।

দিনের শেষ দুই সেশনে ৪৮ ওভারে ম্যাচ জিততে অস্ট্রেলিয়া পায় ২৬৭ রানের কঠিন টার্গেট। মাত্র দু’সেশনে এই রান তোলার চ্যালেঞ্জের পথে ছুটেনি অস্ট্রেলিয়া। তবে শুরুটা হয় তাদের ভীষণ বাজে। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার লর্ডসের উভয় ইনিংসে ফিরলেন সিঙ্গেলস ডিজিটে। ওয়ানডাউনে ওসমান খাজা আর্চারের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরলেন মাত্র ২ রান তুলে। দলের আরেক ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফটও ব্যর্থ ব্যাটসম্যানদের একজন। ১৬ রান করে ব্যানক্রফট যখন ফিরছেন অস্ট্রেলিয়ার স্কোরবোর্ডে রান তখন মাত্র ৪৭।

চা বিরতির আগে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষতি আর বাড়েনি। ম্যাচের শেষ সেশনে অস্ট্রেলিয়ার মিডলঅর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান মার্নাস লাবাসুঙ্গে ও ট্রাভিস হিড কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে অস্ট্রেলিয়া যোগ করে ৮৫ রান। এই জুটিই মূলত অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ বাঁচানোর পুঁজির যোগাড় এনে দেয়।

দিনের খেলা শেষ হতে ১২ ওভার বাকি থাকার সময় ৫৯ রান করা মার্নাস লাবাসুঙ্গে ফিরলেন বিতর্কিত ক্যাচের এক সিদ্ধান্তে। জ্যাক লিচের বলে জোরালো সুইপ শট খেলেন লাবাসুঙ্গে। বল শর্টলেগে থাকা ফিল্ডারের শরীরে লেগে লেগ আম্পায়ারের দিকে যায়। সেখানে ফিল্ডিং করছিলেন অধিনায়ক জো রুট। ইংলিশ অধিনায়ক সামনে ঝাঁপিয়ে সেই ডিফ্লেকটেড ক্যাচটা নিলেন। ক্যাচটা মাটিতে পড়ে হাতে জমা হলো কিনা- সেই সিদ্ধান্ত জানতে টিভি আম্পায়ারের সহায়তা চাইলেন ফিল্ড আম্পায়ার। সফট সিগন্যাল দিলেন আউট। টিভি আম্পায়ার বেশ কয়েকবার রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত জানালেন। তবে টিভি রিপ্লে’র এক পাশের ক্যামেরায় বোঝা গেলো বল মাটিতে আগে পড়েছে। তারপর হাতে জমা হয়েছে। কিন্তু আরেক পাশের ক্যামেরায়  বোঝা যাচ্ছিলো বৈধ ক্যাচই ধরেছেন জো রুট। এমন দোটানা পরিস্থিতিতে টিভি আম্পায়ার মার্নাস লাবাসুঙ্গেকে আউট ঘোষণা করলেন। এই আউটে বিস্মিত হয়ে নারাজি প্রকাশের ভঙ্গিতে মাথা নাড়তে নাড়তে ড্রেসিংরুমে ফিরলেন মার্নাস লাবাসুঙ্গে।

পরের দুই ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েড এবং অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক টিম পাইন দ্রুত ফিরে এলে অস্ট্রেলিয়া বড় বিপদে পড়ে। সেই সংকট কাটিয়ে দলের হার বাঁচিয়ে দেন ট্রাভিস হেড ও প্যাট কামিন্স।

ম্যাচের শেষ তিন বল বাকি থাকতে উভয় দল ড্র মেনে হ্যান্ডশেক করে। দারুণ কষ্টে লর্ডস টেস্ট ড্র রাখতে সমর্থ হয়ে অস্ট্রেলিয়া যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ৯২ রান করা স্টিভেন স্মিথ পেসার জোফরা আর্চারের বাউন্সারে আহত হয়ে পরে আর ব্যাট করতে পারেননি।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া এজবাস্টনে প্রথম টেস্টে জিতে এগিয়ে আছে ১-০ তে। সিরিজের তৃতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট, লিডসে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড ২৫৮ ও ২৫৮/৫ ( স্টোকস ১১৫)। অস্ট্রেলিয়া ২৫০ ও ১৫৮/৬। ফল: ম্যাচ ড্র।

ব্যাটে-বলে বিবর্ণ শান্তর এইচপি দল

ব্যাটে-বলে বিবর্ণ শান্তর এইচপি দল
প্রথম ম্যাচেই ব্যর্থ বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল--ফাইল ছবি

সিরিজের প্রথম ম্যাচেই পথ হারাল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল (এইচপি)। ঘরের মাঠে ব্যাট-বল দুটোতেই ব্যর্থ! অবশ্য অন্যভাবে বলা যায়- ভানিদু হাসারাঙ্গার কাছেই হার মানল স্বাগতিকরা। শুরুতে ব্যাটে ঝড় তুললেন এই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। এরপর লেগ স্পিনে সর্বনাশ করে দিলেন তিনি!

হাসারাঙ্গার দাপটেই হাসিমুখ শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দলের। তার সাফল্যে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে হার দেখেছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল। ১৮৬ রানের বড় জয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।

রোববার সাভারের বিকেএসপিতে বড় লক্ষ্যের সামনে ব্যাট করতে নেমে কিছুই করতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৩০৪ রানের জবাবে নেমে ভয়াবহ ব্যর্থ দল। ২৮.৩ ওভারে অলআউট ১১৮ রানে!

সকালে টস ভাগ্যটাও সঙ্গে ছিল না বাংলাদেশ দলের। সফরকারী শ্রীলঙ্কান দল ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুতেই হারায় দুই ওপেনার পাথুম নিসানকা ও সাদুন বিরাক্কডিকে। বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলামের শিকার তারা। কিন্তু এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় ইমার্জিং দল। ৭৯ বলে ৭১ রান করে ফেরেন অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কা।

শেষদিকে টাইগার বোলারদের হতাশ করেন হাসারাঙ্গা ও আশেন বান্দারা। ৭ ওভারে ঝড় তুলে করেন ৭৮। এরমধ্যে ৪৬ বলে ৭০ রান তুলেন হাসারাঙ্গা। ১৭ বলে অপরাজিত ২৯ বান্দারার ব্যাটে। ২২ রানে ২ উইকেট শিকার করেন শফিকুল। সমান উইকেট নেন শহিদুল ইসলাম।

বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে চেনাই যায়নি শান্ত-ইয়াসিরদের।বিস্ময়কর হলেও সত্য দলের আট ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের দেখা পেলেন না। যা একটু লড়াই করেন সাইফ হাসান। করেন ৭০ বলে ৫০ রান। ১২ রানে ৪ উইকেট হাসারাঙ্গার। ম্যাচসেরা তিনি ছাড়া আবার কে?

সিরিজে ফেরার সুযোগটা বুধবারই পাবে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল। বিকেএসপিতেই এদিন শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দলের সঙ্গে লড়বেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দল: ৫০ ওভারে ৩০৪/৭ (নিসানকা ১৮, বিরাক্কডি ৩১, আসালঙ্কা ৭১, আশান ৩৩, মেন্ডিস ২৮, হাসারাঙ্গা ৭০, বান্দারা ২৯*, ড্যানিয়েল ৮, ফার্নান্দো ২*; শহিদুল ২/৭১, ইয়াসিন ১/৮৯, শফিকুল ২/২২, আফিফ ১/২৮, আমিনুল ১/৪৩)
বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল: ২৮.৩ ওভারে ১১৮/১০ (সাইফ ৫০, নাঈম ৫, শান্ত ৮, ইয়াসির ০, আফিফ ১৯, আমিনুল ০, মাহিদুল ১০, নাঈম ১, শহিদুল ০, ইয়াসিন ১, শফিকুল ০*; ফার্নান্দো ২/২৮, তুষারা ২/২১, আপন্সো ২/২৫, হাসারাঙ্গা ৪/১২)
ফল: শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দল ১৮৬ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: ভানিদু হাসারাঙ্গা

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র