Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

স্মিথের কাছে ক্ষমাও চাইলেন কোহলি

স্মিথের কাছে ক্ষমাও চাইলেন কোহলি
ভারতীয় সমর্থকদের বাজে আচরণের জন্য স্মিথের কাছে ক্ষমা চাইলেন কোহলি
স্পোর্টস ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বল টেম্পারিংয়ের দায়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সদ্যই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলে ফিরেছেন স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়িয়ে খেলছেন বিশ্বকাপেও। তবে মাঠে ফেরার পর থেকেই দর্শকদের দুয়োধ্বনি শুনে যাচ্ছেন প্রতি ম্যাচেই।

রোববার ওভালে ছিল ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ। ঘটলো ভিন্ন এক ঘটনা, স্মিথ দেওয়া দর্শকদের দুয়োধ্বনি থামাতে বললেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ভারতের ইনিংস চলাকালে ঘটে এ ঘটনা।

বিরাট কোহলি তখন ব্যাট করছিলেন। স্টিভেন স্মিথকে তার অধিনায় ফিল্ডিং করতে পাঠান ডিপ মিড উইকেটে। বাউন্ডারি লাইনের কাছে আসতেই ভারতীয় সমর্থকরা ক্রমাগত তার উদ্দেশে মন্তব্য ছুড়তে থাকেন। কিছু দর্শক স্মিথকে উদ্দেশ্য করে ‘প্রতারক’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। বিষয়টি বিরাটের চোখে পড়তেই ক্রিজ ছেড়ে দর্শকদের দিকে এগিয়ে গিয়ে হাত নেড়ে নিষেধ করেন। দুয়োর বদলে স্মিথকে সম্মান জানাতে বলেন তিনি। এরপরই দুজনের হাত মেলানোর দৃশ্যও দেখা যায়।

রোববার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এনিয়ে কোহলি জানান স্মিথের সঙ্গে যেটা হয়েছে সেটা অতীতের ঘটনা। ম্যাচে ভারতীয় সমর্থকদের আচরণের জন্য ক্ষমাও চাইলেন বিরাট। বলেন, ‘অনেক ভারতীয় সমর্থক খেলা দেখতে এসেছিলেন। আমি চাইনি ওরা কোনো বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক। দেখুন, স্মিথ এমন কিছু করেনি যে, তাকে এভাবে বিদ্রুপ শুনতে হবে। দর্শকদের হয়ে আমি স্মিথের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।’

স্মিথের জায়গায় থাকলে কোহলি নিজেও কষ্ট পেতেন বলে জানান। কোহলি বলেন, ‘ও ফিরে এসেছে, তার দলের জন্য ভালো খেলার চেষ্টা করছে। সেটা আমি আইপিএলেও দেখেছি। এটা ঠিক এর আগে মাঠে আমাদের দুজনের মধ্যে কিছু তর্কের ঘটনা ঘটেছে। তবে একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে সমর্থকদের এমন আচরণ কেউ দেখতে চাইবে না।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বিরাট কোহলির এমন বন্ধসুলভ আচরণ বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

‘ভাগ্য আর আল্লাহ’ ছিলেন মরগান-আদিলদের পাশে

‘ভাগ্য আর আল্লাহ’  ছিলেন মরগান-আদিলদের পাশে
ভিন্ন জাতিসত্তা আর সংস্কৃতি কোন বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি আদিল-মরগানদের সামনে

অবিশ্বাস্য এক ফাইনাল শেষে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে ইংল্যান্ড। রোববার লর্ডসের ফাইনালে স্বাগতিকদের শিরোপা জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, বার্বাডোস ও আয়ারল্যান্ড বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা।

ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান নিজেই একজন আইরিশ। তাই ফাইনাল শেষে বিশ্ব জয়ে ভিন দেশীদের অবদান স্বীকার করে মরগান জানান, নখ কামড়ানো ও হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচে আইরিশ ভাগ্য আর আল্লাহ উভয় তাদের সঙ্গে ছিলেন।

ফাইনালে ইংল্যান্ড চরম সৌভাগ্যের ছোঁয়া পেয়েছে কী না? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডাবলিনে জন্মানো মরগান বলেন, “আমি আদিল রশিদের সঙ্গে কথা বলেছি। সে বলেছে, ‘আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সঙ্গে ছিলেন।’ বিশ্ব জয়ের নেপথ্যে কাজ করেছে ভিন্ন জাতিসত্তা আর সংস্কৃতি। এটাই মূলত দলের ক্রিকেটারদের একই সূরে বেঁধেছে।”

মরগানের প্রত্যাশা, ক্রিকেটের জন্মস্থানে বিশ্বকাপের গৌরব ছিনিয়ে নেওয়ার পথে তার দলের ‘অবিশ্বাস্য অভিযাত্রা’ নতুন প্রজন্মকে প্রেরণা যোগাবে।

শুধু লেগ স্পিনার আদিল রশিদই নন। ইংল্যান্ড দলে রয়েছেন আরো একজন মুসলিম ক্রিকেটার। তিনি অলরাউন্ডার মঈন আলি। দুজনই পাকিস্তান বংশোদ্ভূত। তাই তো বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ইংল্যান্ডের শ্যাম্পেন ছিটানোর উৎসব থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন দুজনে। জনি বেয়ারস্টো শ্যাম্পেইন ছিটানো শুরু করতেই রশিদ-মঈন দুজনেই দূরে সরে দাঁড়ান।

ইংলিশ দলে তাদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের আছেন বেন স্টোকস, বার্বাডোসের পেসার জোফরা আর্চার আর ওপেনার জেসন রয় এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

‘খলনায়ক’ থেকে মহানায়ক বেন স্টোকস!

‘খলনায়ক’ থেকে মহানায়ক বেন স্টোকস!
নতুন এক উচ্চতায় ইংলিশ ক্রিকেটার বেন স্টোকস

একটা সময় ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ‘খলনায়ক’ বনে গিয়েছিলেন বেন স্টোকস। নাইটক্লাবে গিয়ে মারামারি করে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিতর্কে। এক বছর আগে ব্রিস্টল ক্রাউন কোর্ট থেকে সেই অঘটনের দায় মুক্তি পান এ ইংলিশ তারকা অলরাউন্ডার। কিন্তু তার সত্যিকারের পাপ মোচনটা বোধ হয়ে গেল রোববার লর্ডসে। ওয়ানডে ক্রিকেটের মহাযজ্ঞের ফাইনালের মঞ্চে। ব্রিটিশ ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে তার এ দায় মুক্তির স্মৃতিটা যে অনন্য ও অসাধারণ!

ইংল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার স্বাদ উপহার দিয়ে সেই ‘খলনায়ক’ বেন স্টোকস এখন ইংলিশ ড্রেসিরুমের মহানায়ক! তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় এসেছে ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্ব শিরোপা। এক সময়ের ‘ঘৃণিত’ স্টোকস এখন তো রীতিমতো ইংলিশ ক্রিকেটের মহাবীর।

অসাধারণ এ কীর্তি গড়ে স্টোকস যেন ফুটবলার পাওলো রসিকেই মনে করিয়ে দিলেন। পাতানো ম্যাচ খেলার অভিযোগে নির্বাসন থেকে ফিরে ইতালিকে এনে দিয়ে ছিলেন ১৯৮২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ। স্টোকস যেন তেমনই মারামারির ঘটনা থেকে মুক্তি পেয়ে ইংল্যান্ডকে এনে দিলেন ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ।

৮৪ রানের হার না মানা অনন্য এক ক্রিকেটীয় ইনিংস খেলে লর্ডসের ফাইনাল টাই করেন স্টোকস। ইংলিশদের দলীয় স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ডের সমান ২৪১ রানে। সুপার ওভারে ব্যাট হাতে নেমে ফের দ্যুতি ছড়ান স্টোকস। ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে দলীয় ১৫ রানের মধ্যে ম্যাচসেরা স্টোকস একাই তোলেন ৮। পরে জোফরা আর্চারের ওভারে ১৫ রান তুলে সুপার ওভারেও টাই করে বসে কিউইরা। কিন্তু ম্যাচে বাউন্ডারি বেশি হাঁকানোর পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় ইয়ন মরগানরা।

ইংল্যান্ডের মাটিতে স্টোকস ‘খলনায়ক’ থেকে নায়ক বনে গেছেন হয়তো। কিন্তু তার জন্মভূমি নিউজিল্যান্ডে সেই ‘খলনায়ক’ই রয়ে গেলেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে তার জন্ম। কিন্তু সেই স্টোকস নিজের দেশকেই হারিয়ে দিলেন অসাধারণ ব্যাটিং নিপুণতায়।

ম্যাচে একটি ‘অঘটনের’ জন্মও দিয়েছেন স্টোকস। তবে সেটা ইচ্ছে করে নয়। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে দ্বিতীয় রানের জন্য দৌড় দেন স্টোকস। মিডউইকেট বাউন্ডারি থেকে বল ছুড়েন মার্টিন গাপটিল। বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে ছুঁয়ে ফেলে রাউন্ডারি। হতবাক হয়ে শূন্যে দুহাত তোলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। আর আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে দুহাত ওপেরে তুলে বসে পড়েন বেন স্টোকস। ইংল্যান্ড ওই বলে ছয় রান পেলে শিরোপা তখনই হাতছাড়া হয়ে যায় কিউইদের।

তাই তো ফাইনাল শেষে ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন স্টোকস, ‘আমি কেনকে বলেছি, ওই ঘটনার জন্য আজীবন ক্ষমা চেয়ে যাব।’

সন্দেহ নেই নিউজিল্যান্ডের সবাই স্টোকসকে ঘৃণাই করবে। তার বাবা জেরার্ড স্টোকস নিউজিল্যান্ডের নাগরিক হওয়ায় পড়েন উভয় সংকটে। কৌতুক করেই নিজেকে নিউজিল্যান্ডের সব চেয়ে ‘ঘৃণিত’ বাবাই মনে করছেন জেরার্ড, ‘দু-একজন বলেছে, এ মুহূর্তে আমি নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ঘৃণিত বাবা। তবে কেউ সীমা ছাড়ায়নি।’

ছেলের জয় আর নিজের দেশের হার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্টোকসের বাবা জেরার্ড, ‘ব্ল্যাক ক্যাপদের জন্য সত্যি খারাপ লাগছে। একই সঙ্গে বেনের জন্য আনন্দে আত্মহারা। তবে আমি এখনো নিউজিল্যান্ডেরই সমর্থক। এটা আমার দেখা অন্যতম সেরা ক্রিকেট ম্যাচ। নাটকীয় সব রকম উপাদানই ছিল এ ম্যাচে।’

সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই হওয়ার পর বেশি বাউন্ডারি মারার নিয়মে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। এটা মানতে পারছেন না জেরার্ড স্টোকস, ‘সিদ্ধান্ত নিতে ওই নিয়মকে (বাউন্ডারি হাঁকানোর নিয়ম) এতো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়নি। শিরোপাটা ভাগ করে দেওয়া যেত, যদিও এখন আর এসবের প্রচলন নেই।’

ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন স্টোকসের মা ডেবোরাহ, ‘খেলা শেষে খুব কেঁদেছি। ব্ল্যাক ক্যাপসের জন্য খারাপ লাগছে। এটা ড্র হলে সবচেয়ে ভালো হতো।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র