বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-১)

এম. এম. কায়সার, স্পোর্টস এডিটর, বার্তা২৪.কম, লন্ডন, ইংল্যান্ড থেকে
প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির দেখা হল না বিশ্বকাপে

প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির দেখা হল না বিশ্বকাপে

  • Font increase
  • Font Decrease

৩ জয়। ৫ হার। বৃষ্টিতে বাতিল একটি ম্যাচ। বিশ্বকাপের দশ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দল হিসেবেই খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ। ফিরে গেলো সেই একই অবস্থানে থেকে। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশ ফিরছে সেমিফাইনালের আগে। মাঠের ক্রিকেটে ভাল-মন্দ দুই সময়ই দেখেছে বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে। ভুলও করেছে বেশ। সেই ভুলের খোঁজ এই ধারাবাহিক রিপোর্টে-

উইকেট মিস রিড:
 
ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছে বাংলাদেশ। ৬৮ বলে ৬৪ রান করে সাকিব আউট। স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান তখন ৩০.২ ওভারে ১৫১। মোহাম্মদ মিথুন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পঞ্চম উইকেট জুটিতে ভালই দলকে সামনে বাড়াচ্ছিলেন। ৩৪ ওভারের সময় ড্রিঙ্কস বিরতিতে এই দুজনের কাছে একটা ম্যাসেজ গেলো ড্রেসিংরুম থেকে। কোচ স্টিভ রোডস ও টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের দেয়া সম্মিলিত একটা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হলো ব্যাটিংয়ে থাকা দুই ব্যাটসম্যানকে। বলা হলো-এটা সাড়ে তিনশ’র বেশি রানের উইকেট। ম্যাচ জিততে হলে অতো বড় রানের স্কোর গড়তে হবে। মিথুন ও মাহমুদউল্লাহ উইকেট তখন প্রায় সেট। কিন্তু ড্রেসিংরুম থেকে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী দুজনেই দ্রুত রান তোলার জন্য হঠা তেড়েফুঁড়ে উঠলেন। সেই তাড়ায় দুজনেই উইকেট হারালেন। ১৯৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে সেই যে বিপদে পড়লো আর সেখান থেকে বেরুতে পারলো না। গুটিয়ে গেলো ২৪৪ রানে।

ওভালের সেই ম্যাচে উইকেট রিডিংয়ে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের তথ্যটা ভুল ছিলো। ঐ উইকেটে বাংলাদেশ ২৬০ বা ২৭০ রান করতে পারলেই ম্যাচটা মুঠোয় থাকতো।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময়েই সেই প্রমাণটা আরো স্পষ্ঠতর হলো। ২ উইকেটে সেই ম্যাচ হারের পর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতুর্জাও মেনে নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ওভালের নতুন উইকেট পড়তে ভুল করেছিলো তার দল।
 
এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভুলের শুরু সেখান থেকেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/06/1562413061816.png

মুশফিকের সেই রান আউট মিস:

রান আউটের এরচেয়ে সহজ সুযোগ আর কি হতে পারে? রানের জন্য দৌড়ালেন রস টেইলর। ননস্ট্রাইক প্রান্ত থেকে কেন উইলিয়ামসন একটু দেরিতে সাড়া দিলেন। তবুও দৌড়ালেন। মিড অন থেকে বল কুড়িয়ে তামিম দ্রুতগতিতে ছুঁড়লেন মুশফিকের দিকে। মুশফিক একটু বেশি তাড়াহুড়ো করে ফেললেন। উইকেটের পেছনে দাড়িয়ে বল ধরার চেয়ে সামনে এগিয়ে এলেন। ভুলটা সেখানেই। সেই এগিয়ে আসার সময় তার গ্লাভসের স্পর্শে উইকেট ভেঙ্গে গেলো। বল হাতে জমা হওয়ার আগেই উইকেট ভাঙ্গলেন মুশফিক! উইলিয়ামসন তখনো ক্রিজে এসেই পৌছাননি। কিন্তু ক্রিকেটীয় আইনে এটা রান আউট নয়! নিশ্চিত রান আউট মিস! ভুলের দায়ের পুরোটাই উইকেটকিপার মুশফিকের।

উইলিয়ামসনের রান তখন ৮। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক সেই ম্যাচে শেষপর্যন্ত আউট হলেন ৪০ রানে। তার দল তখন বেশ সুসংহত অবস্থায়।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি হারের জন্য মুশফিককে দায়ি করেননি। জানান-এমন কিছু তো খেলারই অংশ!

ফিনিসার বোলার কই?

ওভালে শেষ ৬ ওভারে ম্যাচ জিততে নিউজিল্যান্ডের চাই ২৫ রান। উইকেট বাকি মাত্র তিনটি। লেজের সারির এই ব্যাটসম্যানরা তখন কাঁপাকাপি করছে। কিন্তু সেই সুযোগটা নিতে পারলো না বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের লেজের সারির ব্যাটসম্যানদের বুকে আরো কাঁপন ধরিয়ে দিতে পারতো তেজি কোনো বোলার। কিন্তু এমন পরিস্থিতি প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের পেটে প্রজাপতির নাঁচন ধরানোর মতো জোরে কোনো বোলার কই বাংলাদেশ দলে?

দুই পাশ থেকে ফাস্ট বোলার দাড় করিয়ে এমন পরিস্থিতিতে ইয়র্কারে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে চুরে একাকার করে দেয়ার মতো ম্যাচ ফিনিসার বোলারই যে নেই আমাদের!

রুবেল হোসেনের নাম বলছেন? এই ম্যাচে তো রুবেল হোসেন একাদশেই ছিলেন না!

আপনার মতামত লিখুন :