Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-২)

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-২)
হতাশাতেই মিশন শেষ টাইগারদের
এম. এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
লন্ডন
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

৩ জয়। ৫ হার। বৃষ্টিতে বাতিল একটি ম্যাচ। বিশ্বকাপের দশ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দল হিসেবেই খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ। ফিরে গেলো সেই একই অবস্থানে থেকে। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশ ফিরছে সেমিফাইনালের আগে। মাঠের ক্রিকেটে ভাল-মন্দ দুই সময়ই দেখেছে বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে। ভুলও করেছে বেশ। সেই ভুলের খোঁজ এই ধারাবাহিক রিপোর্টে-

ভুল একাদশ:

সতেজ বাতাস। বৃষ্টি স্নাত মাঠ। দুদিনের ঢাকা উইকেট। সুইং। সব অনুষঙ্গ প্রমাণ দিচ্ছে-কার্ডিফের উইকেটে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন। সেই উইকেটে বাংলাদেশ টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সুযোগটা নিলো। কিন্তু তিন পেসার ও তিন স্পিনারের আগের ম্যাচের একাদশ নিয়েই কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও নামলো বাংলাদেশ।

এমন উইকেটে বোলিং করতে না পারার দুঃখ নিয়েই রুবেল হোসেন আরেকটি ম্যাচে শুধু বসে কাটালেন। রুবেল হোসেন খেলতে নামলেই যে বাংলাদেশকে জিতিয়ে আনতেন, সেই নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু পরিস্থিতি, আবহাওয়া এবং মাঠের আনুষাঙ্গিকতা জানাচ্ছে ইংল্যান্ড ম্যাচে একজন পেসার কম নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ।

কার্ডিফের এই ম্যাচে শুরু থেকে বাংলাদেশের বোলিংকে নিয়ে স্রেফ খেললো ইংল্যান্ড! দুই ইংলিশ ওপেনারের জুটিতেই জমা হলো ১২৮ রান।

অথচ এই ম্যাচেই ইংল্যান্ড তাদের মুল স্পিনার মঈন আলীকে বসিয়ে রেখে একাদশে নিয়ে এলো বাড়তি পেসার হিসেবে লিয়াম প্লাঙ্কেটকে। কার্ডিফের বৃষ্টিতে ভেজা উইকেটে পাঁচ পেসার খেলিয়ে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিলো ইংল্যান্ড মাত্র ২৮০ রানে। বাংলাদেশের ১০ উইকেটের ৯টি উইকেটই তুলে নিলেন ইংল্যান্ড পেসাররা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/06/1562427973382.jpeg

বামিংহ্যামের এজবাস্টনেও মাঠের আকৃতি নিয়ে ম্যাচের আগে অনেক চর্চা চলে বাংলাদেশ দলে। মাঠের একপাশ ছোট-এটা জেনে একাদশ থেকে স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজকে বাদ দেয়া হলো! অথচ পুরো বিশ্বকাপে মিরাজ তার ১০ ওভারের বোলিংয়ে রান আটকে রাখার জন্য দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করছিলেন। ভারত ম্যাচে মিরাজকে বাদ দেয়া হলেও সেই ম্যাচে স্পিনার সাকিব রানের খরচ হলো মাত্র ৪১। দলের সবচেয়ে ইকোনোমি বোলার তিনিই।

নিশ্চিতভাবে এই ম্যাচে মিরাজের অফস্পিন মিস করে বাংলাদেশ।

শুরুর সংকট:

ভালো শুরু যে কোনো দলকে এগিয়ে দেয়। কিন্তু এই বিশ্বকাপে তামিম- সৌম্যের ওপেনিং জুটির সর্বোচ্চ রান ৬০। বাকি ম্যাচগুলোতে কখনো সৌম্য আগে, কখনো তামিম ফিরেছেন আগেভাগে। ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রায় সব ম্যাচেই ওয়ানডাউন পজিশনে সাকিবকে নামতে হয়েছে প্রথম পাওয়ার প্লে’তে।

অন্যদিকে যে চার দল সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে, তাদের ওপেনাররা দলের সেরা পারফর্মার। রোহিত শর্মা ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন। ইংল্যান্ডের ওপেনার জনি বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরির সংখ্যা ৩টি। ডেভিড ওয়ার্নারের এই বিশ্বকাপে রান পাঁচ শ’র উপরে।

বাংলাদেশের ওপেনাররা দক্ষিণ আফ্রিকার যে ম্যাচে ৬০ রানের জুটি গড়েন, সেই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতে। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে দলের ওপেনাররা উইকেটে সেট হওয়ার পর আউটের বাজে নজির গড়েন। তামিম ইকবাল এই ভুলে পড়েন পুরো বিশ্বকাপেই!

যখনই তার ইনিংস বড় করার কথা, তখনই আউট! তামিম শুধুমাত্র একটি হাফসেঞ্চুরি পান এই বিশ্বকাপে। আর সৌম্য সরকার ব্যাট হাতে ৮ ম্যাচে করলেন মাত্র ১৬৪ রান। ম্যাচ প্রতি রান গড় ২০.৫! শুরুর ব্যাটিংয়ের এই সঙ্কট শেষ ম্যাচ পর্যন্ত এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/06/1562427996777.jpg

ফিল্ডিংয়ে পিচ্ছিল হাত:

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ দিক কোনটা?

শেষ ম্যাচে এই প্রশ্নের উত্তরে অধিনায়ক মাশরাফির স্পষ্ঠ উচ্চারণ-‘বোলিং এবং ফিল্ডিং ছিলো আমাদের নেভেটিভ দিক। এই বোলিং এবং বাজে ফিল্ডিং-ই বিশ্বমানের দলগুলোর সঙ্গে আমাদের পার্থক্য বুঝিয়ে দিচ্ছে। ব্যাটিংয়ে আমরা ভালো ফাইট দিয়েছি। কিন্তু বোলিং আমাদের আপ টু দ্য মার্ক ছিলো না।’

৮ ম্যাচে সহজ-কঠিন সবমিলিয়ে বাংলাদেশ আটটি ক্যাচ মিস করেছে। ওয়ার্নারের ক্যাচ মিস হয়েছে ট্রেন্টব্রিজে। সেই ম্যাচ ওয়ার্নার শেষ করেন ১৪৪ রানে। রোহিত শর্মার ক্যাচ পড়েছে এজবাস্টনে। সেই ম্যাচে রোহিত শেষ পর্যন্ত করেন ১০৪ রান। লর্ডসে ৫৭ রানে ক্যাচ পড়ে বাবর আজমের। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান সেই ম্যাচে করলেন ৯৬ রান! শুধু ক্যাচ মিসই নয়। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংও কখনো কখনো হাস্যকর হয়েছে বাংলাদেশ দলের। নিশ্চিত রান আউট মিস হয়েছে। ম্যাচ জিততে হলে হাফ চান্সকে ফুল চান্স করতে হয়। বাংলাদেশ দল ফিল্ডিংয়ে ফুল চান্সকেই জিরো চান্স করেছে!

আরো পড়ুন-

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-১)

আপনার মতামত লিখুন :

শ্রীলঙ্কায় গরম, তাই জাতীয় দলে শফিউল

শ্রীলঙ্কায় গরম, তাই জাতীয় দলে শফিউল
শ্রীলঙ্কা সফরে জাতীয় দলে শফিউল ইসলাম

হঠাৎ করেই জাতীয় দলে ডাক পেয়ে গেলেন শফিউল ইসলাম। আনুষ্ঠানিকভাবে সফর শুরু হওয়ার পর তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দলে অন্তর্ভুক্ত হলেন এই পেসার। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার কলম্বোতে টাইগার শিবিরে যোগ দেবেন তিনি।

কেউ ইনজুরিতে পড়েনি, তারপরও হঠাৎ কেন দলে শফিউল? এমন প্রশ্নের মুখে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানালেন, ‘দেখুন, শ্রীলঙ্কা থেকে টিম ম্যানেজমেন্ট আরও একজন পেসার চেয়েছে। ওরা জানাল-সেখানে নাকি বেশ গরম। হাতে বিকল্প বোলার রাখতে চাইছে। দল তো ১৪ জনের ছিল। শফিউল যোগ দিলে ১৫ জনে দাঁড়াবে।’

২৯ বছর বয়সী এই পেসার ২০১৬ সালে খেলেন তার সবশেষ ওয়ানডে। ৫৬ ওয়ানডে খেলা শফিউল ২০১৭ সালের পর থেকেই আছেন জাতীয় দলের বাইরে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলে অবশ্য আলোচনাতেই ছিলেন তিনি। গত মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে নেন ১৯ উইকেট। এছাড়া আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৯ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট।

শুক্রবার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি। পরের দুটি ওয়ানডে ২৮ ও ৩১ জুলাই।

ওয়ানডের বাংলাদেশ দল-
তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, তাসকিন আহমেদ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, ফরহাদ রেজা, মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ইসলাম, এনামুল হক, শফিউল ইসলাম।

ওয়ানডে ছাড়লেও টি-টুয়েন্টিতে থাকছেন মালিঙ্গা

ওয়ানডে ছাড়লেও টি-টুয়েন্টিতে থাকছেন মালিঙ্গা
ভক্তদের হতাশই করলেন লাসিথ মালিঙ্গা

অনেক দিন ধরেই লাসিথ মালিঙ্গার অবসর নিয়ে নানা গুঞ্জন উড়ে বেড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান আসান্থা ডি মেলের পর তার অবসরের খবরটা দিয়ে ভক্তদের হতাশ করেছেন লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। তবে এবার খবরটা নিশ্চিত করলেন মালিঙ্গা নিজেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলেই একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিচ্ছেন শ্রীলঙ্কার এ তারকা পেসার। তবে খেলে যাবেন টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট।

২৬ জুলাই শুক্রবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টাইগারদের বিপক্ষে খেলেই ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসরে চলে যাচ্ছেন মালিঙ্গা। তাই ভক্ত-সমর্থকদের গ্যালারিতে বসে নিজের বিদায়ী ম্যাচ উপভোগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন লঙ্কান এ তারকা ক্রিকেটার, ‘শুক্রবার শেষবারের মতো আমাকে ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে দেখবেন আপনারা। যদি পারেন, দয়া করে ম্যাচটি দেখতে আসবেন।’

স্ত্রী তানিয়া পেরেরার ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তা পোস্ট করে সমর্থকদের মালিঙ্গা জানান, যে অফিসিয়াল ও খেলোয়াড়রা তাকে দল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই।

৩৫ বছরের এ বোলার জানান, ‘নির্বাচকরা তাকে সাইডলাইনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন দুই বছর আগে। কিন্তু সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের মাধ্যমে জাতীয় দলে নিজের মূল্যটা প্রমাণ করতে পেরেছি।’

এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন মালিঙ্গা। সাত ইনিংসে নেন ১৩ উইকেট।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সামনে রেখে মঙ্গলবার অনুশীলনের ফাঁকে মালিঙ্গা জানান, একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও খেলে যাবেন টি-টুয়েন্টি। তার দৃষ্টি এখন ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে।

মালিঙ্গা বলেন, ‘প্রত্যাশা করি, আগামী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে যেতে পারব।’ টুর্নামেন্টের মূল আসরে খেলার আগে বাংলাদেশের মতো লঙ্কানদেরও পার হতে হবে বাছাই পর্বের বৈতরণী।

গুঞ্জন আছে অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাবেন মালিঙ্গা। নাগরিকত্বও পেয়ে গেছেন। নতুন ঠিকানাতেই গড়বেন কোচিং ক্যারিয়ার।

২১৯ ইনিংসে ৩৩৫ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক ২০১১ সালে টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া মালিঙ্গা। তার আগে আছেন কেবল মুত্তিয়া মুরালিধরন (৫২৩) চামিন্দা ভাস (৩৯৯)।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এখন শ্রীলঙ্কা সফর করছে বাংলাদেশ। ২৬ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। একই ভেন্যুতে পরের দুটি ম্যাচ হবে ২৮ ও ৩১ জুলাই। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র