Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (শেষ পর্ব)

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (শেষ পর্ব)
বিশ্বকাপটা মনে রাখার মতো হলো না বাংলাদেশের
এম. এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
লন্ডন
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

৩ জয়। ৫ হার। বৃষ্টিতে বাতিল একটি ম্যাচ। বিশ্বকাপের দশ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দল হিসেবেই খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ। ফিরে গেলো সেই একই অবস্থানে থেকে। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশ ফিরছে সেমিফাইনালের আগে। মাঠের ক্রিকেটে ভাল-মন্দ দুই সময়ই দেখেছে বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে। ভুলও করেছে বেশ। সেই ভুলের খোঁজ এই ধারাবাহিক রিপোর্টে, আজ শেষ পর্ব-

ব্যয়বহুল বোলিং:

৮ ম্যাচে বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যয় ২৪৯৫ রান। প্রতি ম্যাচে হিসেবটা দাড়াচ্ছে ৩১১ রানের কিছু বেশি। এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই বলা হচ্ছিলো এটি হবে বড়ো স্কোরের বিশ্বকাপ। এখানে তিনশ রান উঠবে। আবার সেই রান তাড়া করে জেতাও যাবে। তবে তিনশ প্লাস রান দেয়ার ক্ষেত্রে যে বাংলাদেশ বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে সেটা কে ভেবেছিলো?

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের ৮ ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিংই সবচেয়ে বেশি খরুচে। তিনশ’ প্লাস রান খরচা দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু (ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ৩০৯)। আবার ঠিক একই কায়দায় তিনশ রানের ব্যয়ে বিশ্বকাপ শেষও (লর্ডসে পকিস্তান, ৩১৫)।
৮ ম্যাচের ছটিতেই বাংলাদেশ তিনশর বেশি রান খরচ করেছে। আফগানিস্তান ছাড়া আর কোনো প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশ ম্যাচে অলআউট করতে পারেনি। এই পরিসংখ্যানই জানাচ্ছে বোলিংয়ে বিশ্বকাপটা মোটেও ভালো কাটেনি বাংলাদেশের।

অধিনায়ক মাশরাফির ব্যাখাও মিললো সেই সত্যতা-‘আমি মনে করি বোলিং আমাদের আপ টু দ্য মার্ক ছিলো না। আমার থেকে শুরু করে বাকিদেরও। বিশেষ করে প্রথম ১০-১৫ বা ২০ ওভার পর্যন্ত আমাদের বোলিং ভালো হয়নি। সেই সময়ে আমাদের অবশ্যই উইকেট পেতে হতো।’

পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশের বোলিং তেমন ‘পাওয়ার’ দেখাতে পারেনি। মাত্র একটি ম্যাচে শুরুর দশ ওভারে বাংলাদেশ দুটি উইকেট পায়। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে শুরুর বোলিং ভালো হলেও শেষের বোলিংয়ে ম্যাচের হিসেব মেলাতে পারলো না বাংলাদেশ!
এই বোলিং নিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা যায়। একটা-দুটো ম্যাচে লড়াই করা যায়। সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া যায় না-এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের বোলিংয়ের ফুটনোট এটাই!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/07/1562503676985.JPG

মাশরাফির ম্রিয়মান পারফরমেন্স:

বোলিংয়ে বাজে সময় নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা বোলার মাশরাফির আর সুসময় এলোই না! ৮ ম্যাচে অর্জন মাত্র ১টি উইকেট! লম্বা ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত পারফরমেন্সে এতো বাজে সময় কাটেনি মাশরাফির।

ছন্দ ফিরে পেলে ম্যাচে মানিয়ে নেয়াটা মাশরাফির জন্য নেহাতই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে সেই ছন্দের দেখাই যে পেলেন না অধিনায়ক। অনুশীলনে চেষ্টা করেছেন বেশ। ম্যাচের আগের দিন লম্বা সময় নেটে কাটিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে বিস্তর গবেষণাও চলেছে। বোলিং কোচ কোটর্নি ওয়ালসের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে নিজের ফর্ম এবং পারফরমেন্সের শুরুর সঙ্কট শেষ পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেননি মাশরাফি।

অধিনায়কের পারফরমেন্স ক্রিকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে বোলার মাশরাফি ছিলেন প্রভাবহীন। শুরুতে বোলিং করেন। আবার মাঝ থেকেও শুরু করেন। কোনো সময় শেষের দিকেও বল হাতে আক্রমণে নামেন। কিন্তু কোনোকিছুতেই সাফল্যের দেখা যে পেলেন না বোলার মাশরাফি। টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে কোনো উইকেট না পেলেও ৮ ওভারে ১ মেডেনসহ তার ৩৭ রানকে ‘ভালো’ পারফরমেন্স মানতেই হচ্ছে।

৮ ম্যাচে সবমিলিয়ে ৫৬ ওভার বল করেন মাশরাফি। রান খরচ ৩৬১। শিকার ১ উইকেট। তাও আবার সাত ম্যাচে নিজের বোলিং কোটা শেষ না করা- দলের স্ট্রাইক বোলারের জন্য এটা ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতোই। অধিনায়ক হিসেবে তিন ম্যাচ জিতেছেন। কিন্তু বোলার হিসেবে এই বিশ্বকাপ মাশরাফিকে যা দিলো তার নাম-দুঃস্বপ্ন!

এবং ফিটনেস সমস্যা:

বিশ্বকাপ দল ঘোষণার সময়ই শঙ্কটা জেগেছিলো-১৫ জনের দলে ইনজুরির সংখ্যাই যে বেশি! বিশেষ করে পেস বোলিং বিভাগের প্রায় সবাই চোটে ছিলেন। রুবেল হোসেনের সাইড স্ট্রেইন। সাইফুদ্দিনের পিঠে ব্যথা। গোড়ালিতে চোট ছিলো মুস্তাফিজের। আবু জায়েদ রাহীও ইনজুরিতে ছিলেন। সামান্য চোট ছিলো মাশরাফিরও। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ইনজুরি তালিকায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কাঁধে এমন চোট যে জোরে থ্রো করতেও সমস্যা হয় তার। বোলিং করা যাবে না-শুধু ব্যাটিং, এমন শর্ত মেনেই তিনি ফিটনেস পান!

বিশ্বকাপের মাঠে এসেও ইনজুরি এবং চোট নিয়ে সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ। ট্রেন্টব্রিজ ম্যাচের আগে সাইফুদ্দিন ও মোসাদ্দেক জানান- খেলার মতো ফিটনেস নেই তাদের। আফগানিস্তান ম্যাচেও চোট নিয়ে খেলায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ইনজুরির মাত্রা আরো বাড়ে। বার্মিংহ্যামে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মিস করেন তিনি।

পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ দলের নড়াচড়ায় ক্ষিপ্রতার অভাবেই স্পষ্ট ফিটনেস সঙ্কট!

আরো পড়ুন-

 

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-১)

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-২)

 

আপনার মতামত লিখুন :

শ্রীলঙ্কায় গরম, তাই জাতীয় দলে শফিউল

শ্রীলঙ্কায় গরম, তাই জাতীয় দলে শফিউল
শ্রীলঙ্কা সফরে জাতীয় দলে শফিউল ইসলাম

হঠাৎ করেই জাতীয় দলে ডাক পেয়ে গেলেন শফিউল ইসলাম। আনুষ্ঠানিকভাবে সফর শুরু হওয়ার পর তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দলে অন্তর্ভুক্ত হলেন এই পেসার। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার কলম্বোতে টাইগার শিবিরে যোগ দেবেন তিনি।

কেউ ইনজুরিতে পড়েনি, তারপরও হঠাৎ কেন দলে শফিউল? এমন প্রশ্নের মুখে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানালেন, ‘দেখুন, শ্রীলঙ্কা থেকে টিম ম্যানেজমেন্ট আরও একজন পেসার চেয়েছে। ওরা জানাল-সেখানে নাকি বেশ গরম। হাতে বিকল্প বোলার রাখতে চাইছে। দল তো ১৪ জনের ছিল। শফিউল যোগ দিলে ১৫ জনে দাঁড়াবে।’

২৯ বছর বয়সী এই পেসার ২০১৬ সালে খেলেন তার সবশেষ ওয়ানডে। ৫৬ ওয়ানডে খেলা শফিউল ২০১৭ সালের পর থেকেই আছেন জাতীয় দলের বাইরে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলে অবশ্য আলোচনাতেই ছিলেন তিনি। গত মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে নেন ১৯ উইকেট। এছাড়া আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৯ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট।

শুক্রবার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি। পরের দুটি ওয়ানডে ২৮ ও ৩১ জুলাই।

ওয়ানডের বাংলাদেশ দল-
তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, তাসকিন আহমেদ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, ফরহাদ রেজা, মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ইসলাম, এনামুল হক, শফিউল ইসলাম।

ওয়ানডে ছাড়লেও টি-টুয়েন্টিতে থাকছেন মালিঙ্গা

ওয়ানডে ছাড়লেও টি-টুয়েন্টিতে থাকছেন মালিঙ্গা
ভক্তদের হতাশই করলেন লাসিথ মালিঙ্গা

অনেক দিন ধরেই লাসিথ মালিঙ্গার অবসর নিয়ে নানা গুঞ্জন উড়ে বেড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান আসান্থা ডি মেলের পর তার অবসরের খবরটা দিয়ে ভক্তদের হতাশ করেছেন লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। তবে এবার খবরটা নিশ্চিত করলেন মালিঙ্গা নিজেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলেই একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিচ্ছেন শ্রীলঙ্কার এ তারকা পেসার। তবে খেলে যাবেন টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট।

২৬ জুলাই শুক্রবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টাইগারদের বিপক্ষে খেলেই ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসরে চলে যাচ্ছেন মালিঙ্গা। তাই ভক্ত-সমর্থকদের গ্যালারিতে বসে নিজের বিদায়ী ম্যাচ উপভোগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন লঙ্কান এ তারকা ক্রিকেটার, ‘শুক্রবার শেষবারের মতো আমাকে ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে দেখবেন আপনারা। যদি পারেন, দয়া করে ম্যাচটি দেখতে আসবেন।’

স্ত্রী তানিয়া পেরেরার ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তা পোস্ট করে সমর্থকদের মালিঙ্গা জানান, যে অফিসিয়াল ও খেলোয়াড়রা তাকে দল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই।

৩৫ বছরের এ বোলার জানান, ‘নির্বাচকরা তাকে সাইডলাইনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন দুই বছর আগে। কিন্তু সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের মাধ্যমে জাতীয় দলে নিজের মূল্যটা প্রমাণ করতে পেরেছি।’

এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন মালিঙ্গা। সাত ইনিংসে নেন ১৩ উইকেট।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সামনে রেখে মঙ্গলবার অনুশীলনের ফাঁকে মালিঙ্গা জানান, একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও খেলে যাবেন টি-টুয়েন্টি। তার দৃষ্টি এখন ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে।

মালিঙ্গা বলেন, ‘প্রত্যাশা করি, আগামী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে যেতে পারব।’ টুর্নামেন্টের মূল আসরে খেলার আগে বাংলাদেশের মতো লঙ্কানদেরও পার হতে হবে বাছাই পর্বের বৈতরণী।

গুঞ্জন আছে অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাবেন মালিঙ্গা। নাগরিকত্বও পেয়ে গেছেন। নতুন ঠিকানাতেই গড়বেন কোচিং ক্যারিয়ার।

২১৯ ইনিংসে ৩৩৫ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক ২০১১ সালে টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া মালিঙ্গা। তার আগে আছেন কেবল মুত্তিয়া মুরালিধরন (৫২৩) চামিন্দা ভাস (৩৯৯)।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এখন শ্রীলঙ্কা সফর করছে বাংলাদেশ। ২৬ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। একই ভেন্যুতে পরের দুটি ম্যাচ হবে ২৮ ও ৩১ জুলাই। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র