Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (শেষ পর্ব)

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (শেষ পর্ব)
বিশ্বকাপটা মনে রাখার মতো হলো না বাংলাদেশের
এম. এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
লন্ডন
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

৩ জয়। ৫ হার। বৃষ্টিতে বাতিল একটি ম্যাচ। বিশ্বকাপের দশ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দল হিসেবেই খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ। ফিরে গেলো সেই একই অবস্থানে থেকে। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশ ফিরছে সেমিফাইনালের আগে। মাঠের ক্রিকেটে ভাল-মন্দ দুই সময়ই দেখেছে বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে। ভুলও করেছে বেশ। সেই ভুলের খোঁজ এই ধারাবাহিক রিপোর্টে, আজ শেষ পর্ব-

ব্যয়বহুল বোলিং:

৮ ম্যাচে বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যয় ২৪৯৫ রান। প্রতি ম্যাচে হিসেবটা দাড়াচ্ছে ৩১১ রানের কিছু বেশি। এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই বলা হচ্ছিলো এটি হবে বড়ো স্কোরের বিশ্বকাপ। এখানে তিনশ রান উঠবে। আবার সেই রান তাড়া করে জেতাও যাবে। তবে তিনশ প্লাস রান দেয়ার ক্ষেত্রে যে বাংলাদেশ বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে সেটা কে ভেবেছিলো?

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের ৮ ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিংই সবচেয়ে বেশি খরুচে। তিনশ’ প্লাস রান খরচা দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু (ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ৩০৯)। আবার ঠিক একই কায়দায় তিনশ রানের ব্যয়ে বিশ্বকাপ শেষও (লর্ডসে পকিস্তান, ৩১৫)।
৮ ম্যাচের ছটিতেই বাংলাদেশ তিনশর বেশি রান খরচ করেছে। আফগানিস্তান ছাড়া আর কোনো প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশ ম্যাচে অলআউট করতে পারেনি। এই পরিসংখ্যানই জানাচ্ছে বোলিংয়ে বিশ্বকাপটা মোটেও ভালো কাটেনি বাংলাদেশের।

অধিনায়ক মাশরাফির ব্যাখাও মিললো সেই সত্যতা-‘আমি মনে করি বোলিং আমাদের আপ টু দ্য মার্ক ছিলো না। আমার থেকে শুরু করে বাকিদেরও। বিশেষ করে প্রথম ১০-১৫ বা ২০ ওভার পর্যন্ত আমাদের বোলিং ভালো হয়নি। সেই সময়ে আমাদের অবশ্যই উইকেট পেতে হতো।’

পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশের বোলিং তেমন ‘পাওয়ার’ দেখাতে পারেনি। মাত্র একটি ম্যাচে শুরুর দশ ওভারে বাংলাদেশ দুটি উইকেট পায়। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে শুরুর বোলিং ভালো হলেও শেষের বোলিংয়ে ম্যাচের হিসেব মেলাতে পারলো না বাংলাদেশ!
এই বোলিং নিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা যায়। একটা-দুটো ম্যাচে লড়াই করা যায়। সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া যায় না-এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের বোলিংয়ের ফুটনোট এটাই!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/07/1562503676985.JPG

মাশরাফির ম্রিয়মান পারফরমেন্স:

বোলিংয়ে বাজে সময় নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা বোলার মাশরাফির আর সুসময় এলোই না! ৮ ম্যাচে অর্জন মাত্র ১টি উইকেট! লম্বা ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত পারফরমেন্সে এতো বাজে সময় কাটেনি মাশরাফির।

ছন্দ ফিরে পেলে ম্যাচে মানিয়ে নেয়াটা মাশরাফির জন্য নেহাতই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে সেই ছন্দের দেখাই যে পেলেন না অধিনায়ক। অনুশীলনে চেষ্টা করেছেন বেশ। ম্যাচের আগের দিন লম্বা সময় নেটে কাটিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে বিস্তর গবেষণাও চলেছে। বোলিং কোচ কোটর্নি ওয়ালসের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে নিজের ফর্ম এবং পারফরমেন্সের শুরুর সঙ্কট শেষ পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেননি মাশরাফি।

অধিনায়কের পারফরমেন্স ক্রিকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে বোলার মাশরাফি ছিলেন প্রভাবহীন। শুরুতে বোলিং করেন। আবার মাঝ থেকেও শুরু করেন। কোনো সময় শেষের দিকেও বল হাতে আক্রমণে নামেন। কিন্তু কোনোকিছুতেই সাফল্যের দেখা যে পেলেন না বোলার মাশরাফি। টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে কোনো উইকেট না পেলেও ৮ ওভারে ১ মেডেনসহ তার ৩৭ রানকে ‘ভালো’ পারফরমেন্স মানতেই হচ্ছে।

৮ ম্যাচে সবমিলিয়ে ৫৬ ওভার বল করেন মাশরাফি। রান খরচ ৩৬১। শিকার ১ উইকেট। তাও আবার সাত ম্যাচে নিজের বোলিং কোটা শেষ না করা- দলের স্ট্রাইক বোলারের জন্য এটা ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতোই। অধিনায়ক হিসেবে তিন ম্যাচ জিতেছেন। কিন্তু বোলার হিসেবে এই বিশ্বকাপ মাশরাফিকে যা দিলো তার নাম-দুঃস্বপ্ন!

এবং ফিটনেস সমস্যা:

বিশ্বকাপ দল ঘোষণার সময়ই শঙ্কটা জেগেছিলো-১৫ জনের দলে ইনজুরির সংখ্যাই যে বেশি! বিশেষ করে পেস বোলিং বিভাগের প্রায় সবাই চোটে ছিলেন। রুবেল হোসেনের সাইড স্ট্রেইন। সাইফুদ্দিনের পিঠে ব্যথা। গোড়ালিতে চোট ছিলো মুস্তাফিজের। আবু জায়েদ রাহীও ইনজুরিতে ছিলেন। সামান্য চোট ছিলো মাশরাফিরও। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ইনজুরি তালিকায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কাঁধে এমন চোট যে জোরে থ্রো করতেও সমস্যা হয় তার। বোলিং করা যাবে না-শুধু ব্যাটিং, এমন শর্ত মেনেই তিনি ফিটনেস পান!

বিশ্বকাপের মাঠে এসেও ইনজুরি এবং চোট নিয়ে সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ। ট্রেন্টব্রিজ ম্যাচের আগে সাইফুদ্দিন ও মোসাদ্দেক জানান- খেলার মতো ফিটনেস নেই তাদের। আফগানিস্তান ম্যাচেও চোট নিয়ে খেলায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ইনজুরির মাত্রা আরো বাড়ে। বার্মিংহ্যামে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মিস করেন তিনি।

পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ দলের নড়াচড়ায় ক্ষিপ্রতার অভাবেই স্পষ্ট ফিটনেস সঙ্কট!

আরো পড়ুন-

 

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-১)

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-২)

 

আপনার মতামত লিখুন :

পগবার পেনাল্টি মিস, আটকে গেল ম্যানইউ

পগবার পেনাল্টি মিস, আটকে গেল ম্যানইউ
পল পগবাকে আটকাতে ব্যস্ত উলভারহ্যাম্পটনের ফুটবলাররা

শেষ অব্দি ভিলেন পল পগবা। তার পেনাল্টি মিসেই আক্ষেপে পুড়ল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্তরা। চেলসিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে শুরু করা দলটাই কীনা এবার মুদ্রার অন্য পিঠটাও দেখল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের মাঠে খেলতে নেমে জয় অধরা ম্যানইউর।

প্রতিপক্ষের মাঠে সোমবার রাতে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে রেড ডেভিলরা।

অবশ্য ম্যাচের শুরু থেকে শেষ, পুরোটা জুড়েই দাপট ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরই। খেলার ২৭ মিনিটে এগিয়েও যায় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি। মার্কাস র‌্যাশফোর্ডের পাসে নিশানা খুঁজে নেন অ্যান্তোনিও মার্সিয়াল। ম্যানইউর হয়ে সব মিলিয়ে এটি তার পঞ্চাশ নম্বর গোল!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566269665180.jpg

তবে এই ব্যবধানটা ধরে রাখা হয়নি। ৫৫তম মিনিটে খেলায় সমতা ফেরান রুবেন নেভেস (১-১)। তবে খেলার ৬৭তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো রেড ডেভিলরা। কিন্তু হতাশ করেন দলের ফরাসি মিডফিল্ডার পগবা। তার পেনাল্টি শট আটকে দেন উলভারের গোলরক্ষক রুই পাত্রিসিও। পেনাল্টি অবশ্য আদায় করে নিয়েছিলেন পগবাই!

এভাবেই বল দখলে এগিয়ে (৬৫%) থেকেও পয়েন্ট হারাল ম্যানইউ। নিজেদের মাঠে এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে  উলভারহ্যাম্পটন।

প্রিমিয়ার লিগে আগের রাতেই লেস্টার সিটির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল চেলসি। কোচ হিসেবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরে টানা দুই ম্যাচে জয় অধরা থাকল ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের। ম্যানইউর বিপক্ষে বড় হারে শুরু হয় তার মিশন!

প্রীতি ম্যাচে মেসিহীন আর্জেন্টিনা

প্রীতি ম্যাচে মেসিহীন আর্জেন্টিনা
নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারছেন না মেসি, ছবি: সংগৃহীত

লিওনেল মেসিকে ছাড়াই প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। শুধু মেসি নন। দলে নেই সার্জিও আগুয়েরো এবং অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। তাদের অনুপস্থিতিতে আলবিসেলেস্তের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিবেন পাওলো দিবালা।

৫ সেপ্টেম্বর চিলির বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। পাঁচ দিন পর মোকাবেলা করবে মেক্সিকোকে। এই দুই প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে ২৭ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে কোচ লিওনেল স্কালোনি।

সম্প্রতি শেষ হওয়া কোপা আমেরিকা চলাকালে দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বেফাঁস মন্তব্য করে ছিলেন মেসি।

সে অপরাধে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন আর্জেন্টাইনে এ ফুটবল জাদুকর। একারণেই দল থেকে ছিটকে গেছেন বার্সার প্রাণভোমরা।

অক্টোবরে জার্মানির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ ও বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের একটি ম্যাচও মিস করবেন মেসি।

প্রীতি ম্যাচের আগে বার্সার হয়ে লা লিগায় প্রথম ম্যাচ মিস করেছেন মেসি। ম্যাচে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে অবশ্য ১-০ গোলে হেরে যায় তার দল। কাফ ইনজুরি কাটিয়ে এখন একা একা অনুশীলন করছেন তিনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করতে প্রস্তুত এখন মেসি।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র