রাতে ভাল ঘুম হয়েছে উইলিয়ামসনদের

স্পোর্টস ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ফাইনালে পৌঁছে দারুণ খুশি কিউইরা

ফাইনালে পৌঁছে দারুণ খুশি কিউইরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সত্যি করে বলুন তো, নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষে কে ভেবেছে, দুই দিন খেলে ৮ উইকেটে তোলা তাদের ২৩৯ রান ভারতকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট?

কিউইদের ড্রেসিং রুমের অনেকেই হয়তো এটা নিয়ে ভাবেনি। কিন্তু বিরাট কোহলিদের বিদায় করে নিউজিল্যান্ড ঠিকই ফাইনালের টিকিট কেটে ফেলেছে। কিন্তু কী ভাবে সম্ভব হল এটা?

পিচ খানিকটা ভেজা ছিল। কিছুটা আঠাল হয়ে পড়েছিল। যে কারণে স্ট্রোক খেলা কঠিন হয়ে পড়েছি। বাউন্ডারি হাঁকানো দুদলের জন্যই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ কঠিন লড়াইটাই ব্ল্যাক ক্যাপ শিবির জিতে নিয়েছে বুদ্ধিমত্তা আর মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে।

পিচটা ব্যাটিং বান্ধব ছিল না। যেখানে খেলাটা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। ৩০০ রান করার মতো ছিল না। স্বীকার করে নিলেন উইলিয়ামসন, ‘৩০০ রানের ভালো একটা স্কোর গড়ার মতো উইকেট ছিল না এটি। ২৫০ রান হওয়ার মতো ছিল। আমরা এ ব্যাপারটা নিয়ে সতর্ক ছিলাম। তাই ভারতের ভয়ঙ্কর বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ২৪০-২৫০ তে পৌঁছানো চেষ্টা করেছি আমরা।’

কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেন, ‘আমার মনে হয় ছেলেরা রাতে ভালো ঘুম দিয়েছে। শেষ চার ওভারে নিজেদের প্রয়োজনের ওপরই মনোযোগী ছিলাম আমরা। ৫ উইকেটে ২১১ রান সংগ্রহ করেই আমরা বুঝে যাই আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে যেটা আমরা অর্জন করার জন্য চেষ্টা করেছি।’

নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী বোলারদের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। প্রথম পাওয়ারপ্লেতেই ২৪ রানেই তারা ভারতের চার উইকেট ফেলে দেয়। স্পিনার মিচেল স্যান্টনারের প্রথম আট ওভার থেকে আসে দুই উইকেট। বিপরীতে দেন মাত্র ১৫ রান। সঙ্গে ছিল দুটি মেডেন ওভার।

যদিও শেষ দিকে রবীন্দ্র জাজেদার মারমুখো ব্যাটিংয়ে তার বোলিং ফিগারটা খারাপ হয়ে যায়। সেটা বাদ দিলে কিউইদের জয়ে স্যান্টনারের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

তাই স্যান্টনারের জয় গান গাইলেন ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন, ‘স্লো বোলারদের উপযোগী পিচে স্যান্টনারের স্পেলটা ছিল অসাধারণ। আমাদের ইনিংসেও দেখেছি। ভারতীয় স্পিনাররা ভালো করেছে। স্যান্টনার বিশ্ব মানের একজন বোলার। তাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল সে ভালো করবে।’

উইলিয়ামসন প্রশংসা করেছেন দলীয় পারফরম্যান্সের, ‘এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলের জন্য খুবই স্পেশাল। মাঠের লড়াই চলাকালে যেটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুরো ম্যাচে ব্যাট-বল হাতে ও ফিল্ডিংয়ে অনেকে অবদান রেখেছে। আজ (বুধবার) সেমি-ফাইনালের সীমা অতিক্রম করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে তারা।’
 
লিগ পর্বের শেষ দিকে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাছে টানা তিন ম্যাচ হেরেও শেষ চারে জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড। সেমি-ফাইনালে উঠা যে কোনো দলের চেয়ে তাদের পারফরম্যান্স ছিল খারাপ। কিন্তু তারপরও ওয়ানডে ক্রিকেটের মহাযজ্ঞে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছে টানা দুই বারের ফাইনালিস্টরা।

কিন্তু উইলিয়ামসন মনে করেন, যে কোনো দল যে কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য রাখে, ‘আমরা অনেক দেখেছি র‌্যাঙ্কিংয়ের নিচে থাকা দল ওপরে থাকা দলকে হারিয়ে দিয়েছে। যে কেউ যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। এটাই ক্রিকেটের বৈশিষ্ট্য। কোনো নিশ্চয়তা নেই যে আপনি সব ম্যাচে জিততে পারবেন।’