দ্রুতগতিতে ফাইনালের পথে ইংল্যান্ড

এম. এম. কায়সার, স্পোর্টস এডিটর,বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বার্মিংহ্যাম, ইংল্যান্ড থেকে
জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোর ব্যাটে দাপটে এগিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ড

জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোর ব্যাটে দাপটে এগিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ড

  • Font increase
  • Font Decrease

টার্গেট মাত্র ২২৪। ইংল্যান্ডের যে লম্বা ও মারকাটারি ব্যাটিং লাইনআপ তাতে এটা ভীষণ মামুলি টার্গেট। যে গতিতে ইংল্যান্ডের শুরুর ব্যাটিং এই লক্ষ্যের পথে ছুটছিলো তাতে নিশ্চিত মনে হচ্ছিলো ম্যাচ জেতার জন্য বেশি অপেক্ষায় থাকতে হবে না তাদের!

শুরুর ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ইংল্যান্ড তুলে নেয় ৫০ রান। একটু জানিয়ে দেই, শুরুর ১০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিলো ৩ উইকেটে ২৭!

প্রথম পাওয়ার প্লে’তে দুই ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো অস্ট্রেলিয়ার বোলিংকে পাত্তা না দিয়ে আক্রমনাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। স্পিনার নাথান লায়নকে ম্যাচের ১১ নম্বর ওভারে আক্রমণে আনেন অ্যারেন ফিঞ্চ। ওপেনার জ্যাসন রয় তাকে প্রথম বলেই উইকেট সোজা ছক্কা হাঁকিয়ে স্বাগত জানান! নিজের প্রথম ওভারে নাথান লায়ন ব্যয় করেন ১৩ রান।

ঠিক যাকে বলে ছিঁড়েখুঁড়ে খাওয়া- সেই মেজাজ নিয়েই ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার অস্ট্রেলিয়ার বোলিংকে একেবারে মামুলি বানিয়ে দিচ্ছিলেন! মিচেল স্টার্ক তার শুরুর তিন ওভারে ২৩ রান খরচা করার পর বোলিংয়ে বদল আনতে বাধ্য হন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।

ম্যাচের ১৪ ওভারের সময় ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে জমা হয় কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮০ রান। ম্যাচ জিততে বাকি ৩৬ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন তখন মাত্র ১৪৪ রান। ওপেনার জ্যাসন রয়ের ব্যাট যেন হয়ে উঠছিলো খাপখোলা তলোয়ার! ৪৭ বলে ৪৫ রান নিয়ে খেলছিলেন তিনি। সঙ্গী ওপেনার জনি বেয়ারস্টো ছিলেন ২৭ রানে অপরাজিত।

টসে জিতে এজবাস্টনের এই উইকেটে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের পুরোটা সময় কাটে কষ্ট ও যন্ত্রনায় যেন! স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি ছাড়া দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান বলার মতো যে রানই পেলেন না! শুরুতে ১৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরে অস্ট্রেলিয়ার খুঁড়িয়ে চলা শুরু। ইনিংসের বাকিটা সময় আর মাথা তুলে দাড়াতেই পারেনি তারা। স্টিভেন স্মিথ একপ্রান্ত আকঁড়ে ধরে ৮৫ রান করায় কোনো মতো অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ২২৩ রানের পুঁজি পায়। তাও আবার কোটার পুরো ওভার খেলতে পারেনি তারা।

মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড তাদের পরিচিত ‘ব্র্যান্ডের’ ক্রিকেটই খেললো। ব্যাটিংয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণ এবং আক্রমণ করার দুর্দান্ত নজির তৈরি করেছে ইংল্যান্ড।

সহজ ব্যাটিং উইকেটে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েও অস্ট্রেলিয়া সেখানে গুটিয়ে গেছে মাত্র ২২৩ রানে। এজবাস্টনের এই উইকেটে যেখানে তিনশ রানকেও নিরাপদ ভাবা হয় না, সেখানে ২২৩ রান নিয়ে সেমিফাইনাল জেতার উপায় যে নেই!

অস্ট্রেলিয়া মূলত এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে ব্যাটিংয়েই। আরেকটু সুনির্দিষ্ট করে বললে-শুরুর ব্যাটিং ব্যর্থতায় আটকে গেছে অস্ট্রেলিয়ার ফাইনালে খেলার স্বপ্ন!

আপনার মতামত লিখুন :