ফাইনালে আগ্রাসী ও স্মার্ট ক্রিকেট খেলতে চান মরগান

এম. এম. কায়সার, স্পোর্টস এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, লন্ডন, ইংল্যান্ড থেকে
শিরোপা লড়াইয়ে আরো ভাল ক্রিকেটের অপেক্ষায় ইয়ন মরগান

শিরোপা লড়াইয়ে আরো ভাল ক্রিকেটের অপেক্ষায় ইয়ন মরগান

  • Font increase
  • Font Decrease

সেমি-ফাইনাল ম্যাচ দেখতে পারেননি ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। নিজ দল নিউজিল্যান্ড বা বন্ধু ইয়ন মরগানের ইংল্যান্ড দলের কোনোটাই না। তার আগেই দেশে ফিরে যেতে হয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। কিন্তু বিশ্বকাপের মাঝপথে বাড়ি ফেরার বিমান ধরার আগে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগানের সঙ্গে সাক্ষাত হয় তার। দীর্ঘদিনের বন্ধু মরগানকে শুভ কামনা জানিয়ে সেদিন ম্যাককালাম বলেছিলেন, ‘নিউজিল্যান্ড যদি ফাইনালে উঠে তাহলে আবার আসবো।’

নিউজিল্যান্ড ফাইনালে খেলছে। ম্যাককালামও এসেছেন ফাইনাল দেখতে। লর্ডসের ফাইনালের আগে বন্ধুবর মরগানের সঙ্গেও দেখা হয়ে গেলো তার। দুই বন্ধু মিলে বেশ মজা করে আড্ডা দিলেন। ফাইনালের প্রিভিউ করতে আসা গোটা বিশ্বের ক্রিকেট সাংবাদিকদের দৃষ্টি এড়ালো না তা।

-দুই বন্ধু’র গল্পের বিষয়বস্তু কি ছিল?

সংবাদ সম্মেলনে মরগানকে প্রশ্নটা শুনতে হলো। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বললেন, ‘ম্যাককালাম খুব খুশি নিউজিল্যান্ড ফাইনালে খেলছে। আর সে ফাইনাল দেখতে তাই চলে এসেছে। আর এই ফাইনালে খেলছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। এসব নিয়েই আমরা কথাবার্তা বলছিলাম।’

মাঠের বাইরে ভালো বন্ধু হলেও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম নিশ্চয়ই আজ মরগানের মন্দটাই চাইবেন যে! গেলবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ফাইনালে তুলে আনলেও ট্রফি জিততে পারেননি। চার বছর আগে তার সেই দলে থাকা কেন উইলিয়ামসন কি পারবেন প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডকে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এনে দিতে?

গ্রুপ পর্যায়ের খেলায় চেষ্টার-লি-স্ট্রিটে নিউজিল্যান্ডকে ১১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারালেও ফাইনালের নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে ভীষণ সতর্ক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান, ‘নিউজিল্যান্ড অনেক শক্তিশালী দল। ভীষণ দক্ষ, সামর্থ্যবান এবং একই সঙ্গে অভিজ্ঞও। গ্রুপ পর্যায়ের ক্রিকেটে তারা অন্যতম সেরা দল ছিলো। গ্রুপ পর্যায় থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত তাদের পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা ইংল্যান্ডের মতোই ছিলো। এখন ফাইনালে আমরা আমাদের পারফরমেন্সের উৎকর্ষতার অপেক্ষায় আছি। কোনো সন্দেহ নেই নিউজিল্যান্ডও সেই তেমন কিছুর খোঁজেই আছে।’

দু’দলই সেমি-ফাইনালে যে পারফরমেন্স দেখিয়েছে সেটাই তাদের ফাইনাল ম্যাচে সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাসের মূলমন্ত্র। মরগানও মানলেন সেই সত্য। যে কায়দায় ইংল্যান্ড বার্মিংহ্যামের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ক্রিকেটের পরিভাষায় তাকে বলে একতরফা ম্যাচ। ৮ উইকেটে জয় এবং তখনো ম্যাচের বাকি ১০৭ বল!

মরগান টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচেও তেমন আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার অপেক্ষায়। লর্ডসের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটীয় ধরণটা কি হবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে বেশ লম্বা-চওড়া বাক্য আওড়ে গেলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। যেখানে তিনটি শব্দই মূল নির্যাস- আরও ইতিবাচক, আরও আগ্রাসী এবং আরও স্মার্ট ক্রিকেট!

আপনার মতামত লিখুন :