ইংলিশ ড্রেসিংরুমে কোনো ব্রেক্সিট নেই!

স্পোর্টস ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন বেয়ারস্টো, রশিদ আর মঈন আলিরা

কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন বেয়ারস্টো, রশিদ আর মঈন আলিরা

  • Font increase
  • Font Decrease

তিন বছর আগে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয় যুক্তরাজ্য। সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসার। ব্রেক্সিটের ডেটলাইন শেষ হয়েছে ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ। কিন্তু পুরোপুরি ইইউ থেকে আলাদা হতে পারেনি তারা। তাই সময়টা বাড়িয়ে নিয়েছে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত। তবে দেশটির জনগণ থেকে শুরু করে প্রশাসকরা ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই ভাগ হয়ে পড়েছে। তাই কার্যকর কোনো সিদ্ধান্তেই পৌঁছতে পারেনি দেশটির সরকার।

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা তৈরী হওয়ায় যুক্তরাজ্যের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে পুরো দেশ এখন একই পতাকা তলে। ক্রিকেটই এখন দেশের সব কিছু পাল্টে দিতে পারে। তবে তার আগে রোববার লর্ডসের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে তাদের হারাতে হবে। একদিনের ক্রিকেটে ধরে রাখতে হবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব।

‘হোম অব ক্রিকেটে’ ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন আইরিশম্যান ইয়ন মরগান। যে কী জাতীয় সঙ্গীত ‘গড সেভ দ্য কুইন’ গান না (এমনকি আইরিশ জাতীয় সঙ্গীতও তিনি গান না)। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ম্যাচে তিনি ইংলিশদের অধিনায়ক। ৩২ বছরের এ তারকা ক্রিকেটার এর আগে নিজের দেশ ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও খেলেছেন। কিন্তু এখন ইংল্যান্ড ড্রেসিংরুমের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও ত্যাগী খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম তিনি। ড্রেসিংরুমে যার রয়েছে যথেষ্ট সম্মান।

ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেটে রেঁনেসা যুগে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান মরগান। তার অধীনে বিভিন্ন ব্রান্ডের সাদা বলের ক্রিকেট খেলছে ইংল্যান্ড। খেলছে তারা ঝুঁকিপূর্ণ, দুঃসাহসিক, আক্রমণাত্মক ও ভয়ডরহীন ক্রিকেট।

ইংল্যান্ডের বহুজাতিক দল মরগানকেও ছাড়িয়ে গেছে। ইংলিশ টিমের হয়ে পেস ঝড় তুলে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছেন জোফরা আর্চার। তার বাউন্সারে কুপোকাত হয়েছেন হাশিম আমলা ও অ্যালেক্স ক্যারির মতো ব্যাটসম্যান।

সিমার ডেভিড উইলি ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলে শেষ মুহূর্তে ইংলিশদের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন এ বার্বাডিয়ান পেসার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়েও খেলে এসেছেন তিনি।

আছেন কার্যকরী তারকা অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। যার জন্মই নিউজিল্যান্ডে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এখন ইংল্যান্ডের হয়ে। ব্যাটিং পাওয়ার ইঞ্জিন জেসন রয় আবার এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।

মঈন আলি আর আদিল রশিদ ইংল্যান্ডে জন্মেছেন ঠিকই। কিন্তু তারা দুজনেই পাকিস্তানি প্রবাসীর সন্তান।

ক্রিকেটে কে কোন দেশের। কে কোন বর্ণের। যে কোন ধর্মের। এনিয়ে নেই কোনো ভেদাভেদ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বুনে চলেছেন বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন।

ইংল্যান্ডের এমন ইতিহাস অনেক পুরনো। ভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা তাদের ক্রিকেটে অবদান রেখেছে গেছেন। ভিন দেশি হলেও গ্রাহাম গুচ, রবিন স্মিথ ও গ্রায়েম হিককে ইংল্যান্ড তাদের সাদরে গ্রহণ করেছে।

কিন্তু যখন তারা ইউরোপ থেকে আলাদা হচ্ছে। তখন একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বৃহত্তম জয় ছিনিয়ে নেওয়ার দৌড়ে নেতৃত্ব ও মাঠের পারফরম্যান্সে অবদান রাখতে যাচ্ছেন প্রবাসীরা। ব্যাপারটা পরিষ্কার। ক্রিকেটের বেলায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ও ভক্তরা ব্রেক্সিটে বিশ্বাস করে না। ইংলিশ ড্রেসিংরুমে সাদরে গ্রহণ করা হচ্ছে সবাইকে!

আপনার মতামত লিখুন :