সুপার ওভারে জিতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন

এম. এম. কায়সার, স্পোর্টস এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর, লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, লন্ডন, ইংল্যান্ড থেকে
জয়ের আনন্দে ভাসছে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা- ছবি:আইসিসি

জয়ের আনন্দে ভাসছে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা- ছবি:আইসিসি

  • Font increase
  • Font Decrease

৫০ ওভারে দুই দলের রান ঠিক সমানে সমান ২৪১। ট্রফি যাবে কার ঘরে- সেই সমাধানের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনাল গড়ালে সুপার ওভারে। দারুন নাটকীয়তার সেই সুপার ওভারে শেষ পর্যন্ত জিতলো ইংল্যান্ড। 

জয়ের নায়ক এখানেও জস বাটলার ও বেন স্টোকস!

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে জস বাটলার ও বেন স্টোকসের জুটি ১৫ রান তোলেন। স্টোক ৩ বলে ৮ ও বাটলার ৩ বলে ৭ রান  করেন। সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের হয়ে বোলিং করেন ট্রেন্ট বোল্ট। নিউজিল্যান্ডের জয়ের টার্গেট দাড়ায় ১৬ রানের। কিন্তু আটকে যায় ঠিক ১৫ রানে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচে বাউন্ডারির সংখ্যা বেশি থাকায় ফাইনাল জেতে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের খেলা সুপার ওভার:

প্রথম বল: বোল্টের বলে তিন রান নিলেন বেন স্টোকস।
দ্বিতীয় বল: বাটলারের ব্যাটে ইংল্যান্ড পেলো ১ রান।
তৃতীয় বল: বেন স্টোকস বাউন্ডারি হাকাঁলেন। মিডউইকেট দিয়ে বল বাউন্ডারি লাইন পার করলো।
চতুর্থ বল: স্টোকস পেলেন ১ রান।
পঞ্চম বল: বাটলারের ব্যাটে এলো দুই রান। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হলোও দ্বিতীয় রানটা পুরো করেন বাটলার।
ষষ্ঠ বল: বোল্ট ইয়র্কার করেন। বাটলার জায়গায় দাড়িয়ে সেই বল দারুণ দক্ষতার সঙ্গে বাউন্ডারিতে পাঠালেন।
সুপার ওভারে ইংল্যান্ডের সঞ্চয় দাড়ালো ১৫ রান।

সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ব্যাট করতে নামেন মারটিন গাপটিল ও  জেমস নিসাম। সুপার ওভারে বল হাতে দলকে জেতানোর দায়িত্ব চাপে জোফরা আর্চারের ওপর।

নিউজিল্যান্ডের খেলা সুপার ওভার:

প্রথম বল: জোফরা আর্চার অফস্ট্যাম্পের বাইরে বল দিলেন। আম্পায়ার জানালেন ওয়াাইড বল।
প্রথম বল: দ্রুতগতিতে দুই রান নিলেন জেমস নিসাম।
দ্বিতীয় বল: মিডউইকেট দিয়ে জেমস নিসামের ছক্কা!
তৃতীয় বল: আবারো মিডউইকেটে বল ঠেলে নিসাম দৌড়ে নিলেন দুই রান।

পরের তিন বলে বিশ্বকাপ জিততে চাই ৫ রান!

চতুর্থ বল: ফের একই জায়গায় বল পাঠালেন নিসাম। একই কায়দায় দৌড়ে নিলেন দুই রান।
শেষ দুই বলে ৩ রান নিলেই বিশ্বকাপ নিউজিল্যান্ডের!
পঞ্চম বল: পুল শট খেলেন জেসম নিসাম। কিন্তু বল তার ব্যাটের কানায় লেগে সামনে পড়ে। এক রানের বেশি এলো না এই বলে।
শেষ বলে নিউজিল্যান্ডের জিততে প্রয়োজন ২ রান।

ষষ্ঠ বল: জোফরা আর্চার অনেকক্ষণ পরামর্শ করলেন। স্ট্রাইকে তখন মারটিন গাপটিল। মিডউইকেটে ঠেলে গাপটিল দুই রানের জন্য দৌড়ালেন। প্রথম রান ঠিক নিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে পারলেন না। মিড উইকেট থেকে দুর্দান্ত থ্রো করলেন জেসন রয়। উইকেটকিপার জস বাটলার থ্রোটা ধরেই রান আউট করলেন। সুপার ওভারেও টাই। কিন্তু ফাইনালে বেশি বাউন্ডারি মারায় চ্যাম্পিয়ন ইয়ন মরগানের ইংল্যান্ড!

পুরো মাঠ জুড়ে তখন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা পাগলের মতো ছোটাছুটি করছে। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে সবাই মাঠে লুটোপুটি করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :