Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘খলনায়ক’ থেকে মহানায়ক বেন স্টোকস!

‘খলনায়ক’ থেকে মহানায়ক বেন স্টোকস!
নতুন এক উচ্চতায় ইংলিশ ক্রিকেটার বেন স্টোকস
স্পোর্টস ডেস্ক
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

একটা সময় ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ‘খলনায়ক’ বনে গিয়েছিলেন বেন স্টোকস। নাইটক্লাবে গিয়ে মারামারি করে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিতর্কে। এক বছর আগে ব্রিস্টল ক্রাউন কোর্ট থেকে সেই অঘটনের দায় মুক্তি পান এ ইংলিশ তারকা অলরাউন্ডার। কিন্তু তার সত্যিকারের পাপ মোচনটা বোধ হয়ে গেল রোববার লর্ডসে। ওয়ানডে ক্রিকেটের মহাযজ্ঞের ফাইনালের মঞ্চে। ব্রিটিশ ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে তার এ দায় মুক্তির স্মৃতিটা যে অনন্য ও অসাধারণ!

ইংল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার স্বাদ উপহার দিয়ে সেই ‘খলনায়ক’ বেন স্টোকস এখন ইংলিশ ড্রেসিরুমের মহানায়ক! তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় এসেছে ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্ব শিরোপা। এক সময়ের ‘ঘৃণিত’ স্টোকস এখন তো রীতিমতো ইংলিশ ক্রিকেটের মহাবীর।

অসাধারণ এ কীর্তি গড়ে স্টোকস যেন ফুটবলার পাওলো রসিকেই মনে করিয়ে দিলেন। পাতানো ম্যাচ খেলার অভিযোগে নির্বাসন থেকে ফিরে ইতালিকে এনে দিয়ে ছিলেন ১৯৮২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ। স্টোকস যেন তেমনই মারামারির ঘটনা থেকে মুক্তি পেয়ে ইংল্যান্ডকে এনে দিলেন ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ।

৮৪ রানের হার না মানা অনন্য এক ক্রিকেটীয় ইনিংস খেলে লর্ডসের ফাইনাল টাই করেন স্টোকস। ইংলিশদের দলীয় স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ডের সমান ২৪১ রানে। সুপার ওভারে ব্যাট হাতে নেমে ফের দ্যুতি ছড়ান স্টোকস। ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে দলীয় ১৫ রানের মধ্যে ম্যাচসেরা স্টোকস একাই তোলেন ৮। পরে জোফরা আর্চারের ওভারে ১৫ রান তুলে সুপার ওভারেও টাই করে বসে কিউইরা। কিন্তু ম্যাচে বাউন্ডারি বেশি হাঁকানোর পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় ইয়ন মরগানরা।

ইংল্যান্ডের মাটিতে স্টোকস ‘খলনায়ক’ থেকে নায়ক বনে গেছেন হয়তো। কিন্তু তার জন্মভূমি নিউজিল্যান্ডে সেই ‘খলনায়ক’ই রয়ে গেলেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে তার জন্ম। কিন্তু সেই স্টোকস নিজের দেশকেই হারিয়ে দিলেন অসাধারণ ব্যাটিং নিপুণতায়।

ম্যাচে একটি ‘অঘটনের’ জন্মও দিয়েছেন স্টোকস। তবে সেটা ইচ্ছে করে নয়। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে দ্বিতীয় রানের জন্য দৌড় দেন স্টোকস। মিডউইকেট বাউন্ডারি থেকে বল ছুড়েন মার্টিন গাপটিল। বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে ছুঁয়ে ফেলে রাউন্ডারি। হতবাক হয়ে শূন্যে দুহাত তোলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। আর আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে দুহাত ওপেরে তুলে বসে পড়েন বেন স্টোকস। ইংল্যান্ড ওই বলে ছয় রান পেলে শিরোপা তখনই হাতছাড়া হয়ে যায় কিউইদের।

তাই তো ফাইনাল শেষে ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন স্টোকস, ‘আমি কেনকে বলেছি, ওই ঘটনার জন্য আজীবন ক্ষমা চেয়ে যাব।’

সন্দেহ নেই নিউজিল্যান্ডের সবাই স্টোকসকে ঘৃণাই করবে। তার বাবা জেরার্ড স্টোকস নিউজিল্যান্ডের নাগরিক হওয়ায় পড়েন উভয় সংকটে। কৌতুক করেই নিজেকে নিউজিল্যান্ডের সব চেয়ে ‘ঘৃণিত’ বাবাই মনে করছেন জেরার্ড, ‘দু-একজন বলেছে, এ মুহূর্তে আমি নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ঘৃণিত বাবা। তবে কেউ সীমা ছাড়ায়নি।’

ছেলের জয় আর নিজের দেশের হার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্টোকসের বাবা জেরার্ড, ‘ব্ল্যাক ক্যাপদের জন্য সত্যি খারাপ লাগছে। একই সঙ্গে বেনের জন্য আনন্দে আত্মহারা। তবে আমি এখনো নিউজিল্যান্ডেরই সমর্থক। এটা আমার দেখা অন্যতম সেরা ক্রিকেট ম্যাচ। নাটকীয় সব রকম উপাদানই ছিল এ ম্যাচে।’

সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই হওয়ার পর বেশি বাউন্ডারি মারার নিয়মে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। এটা মানতে পারছেন না জেরার্ড স্টোকস, ‘সিদ্ধান্ত নিতে ওই নিয়মকে (বাউন্ডারি হাঁকানোর নিয়ম) এতো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়নি। শিরোপাটা ভাগ করে দেওয়া যেত, যদিও এখন আর এসবের প্রচলন নেই।’

ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন স্টোকসের মা ডেবোরাহ, ‘খেলা শেষে খুব কেঁদেছি। ব্ল্যাক ক্যাপসের জন্য খারাপ লাগছে। এটা ড্র হলে সবচেয়ে ভালো হতো।’

আপনার মতামত লিখুন :

শ্রীলঙ্কার জালে ৭ গোল বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার জালে ৭ গোল বাংলাদেশের
আরেকটি জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল

বয়সভিত্তিক ফুটবলে দাপটের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বপ্নের ফুটবল খেলছে কিশোররা। তার পথ ধরে এবার উড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। দ্বীপ দেশটির বিপক্ষে তুলে নিয়েছে দুর্দান্ত এক জয়।

ছেলেদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ পেয়েছে টানা দ্বিতীয় জয়। কলকাতার কল্যাণী স্টেডিয়ামে রোববার বাংলাদেশের কিশোররা ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। আল আমিন সরকার করেছেন পাঁচ গোল!

ভারতে চলমান এই টুর্নামেন্টে শুরু থেকে শেষ অব্দি অপ্রতিরোধ্য গতিতেই খেলে গেছে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। তবে প্রথম গোলটি পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩২তম মিনিট পর্যন্ত। গোল উৎসবের শুরুটা করেন আল আমিন সরকার।

তারপর ৪২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দলের অধিনায়ক রাকিবুল ইসলাম। বিরতির আগেই আরেকটি গোল পেয়ে যায় দল। এবার ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন আল আমিন। দ্বিতীয়ার্ধে দলের পক্ষে চার নম্বর গোলটি করেন আল মিরাদ।

কিন্তু এরপরই স্রোতের বিপরীতে একটি গোল হজম করে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার গোলদাতা ইনসান মোহাম্মদ মিহরান। কিন্তু ৫৯তম মিনিটে ঠিকই আরও এগিয়ে যায় দল। এবার  পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আল আমিন। পরে আরেকটি গোল করেন তিনি। ৬৭তম মিনিটে নিশানা খুঁজে নেন ফরোয়ার্ড রাব্বী হোসেন। ৭০তম মিনিটে শেষ গোলটি করেন আল আমিন সরকার।

এর আগে টুর্নামেন্টে ভুটানকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা। বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচটি খেলবে ২৭ আগস্ট, প্রতিপক্ষ নেপাল।

দক্ষিণ এশিয়ার ৫টি দেশ খেলছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে। লিগ লড়াই শেষে শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে।

আফগান চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় মিরাজ

আফগান চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় মিরাজ
বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ

বাংলাদেশ যখন তাদের প্রথম টেস্ট খেলছে, তখন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান দুধের শিশু; বয়স তার দুই! টেস্ট ক্রিকেট বাংলাদেশের অভিষেক ২০০০ সালে। আর আফগানিস্তান টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখলো, এই তো সেদিন-গত বছরের ১৪ জুন। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচের অভিজ্ঞতা ১১৪ ম্যাচ। আর আফগানিস্তান খেলেছে মাত্র দুটি টেস্ট ম্যাচ।

অভিজ্ঞতা, অর্জন, দক্ষতা- সব ‘বিভাগেই’ বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে আফগানিস্তান। তাই বলে বাংলাদেশ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট সিরিজ নিয়ে আয়েশি হাই তুলছে-এমন কিছু নয়।

বরং একটু বেশিই সিরিয়াস বাংলাদেশ!

দলের অফস্পিনার কাম লেটঅর্ডার ব্যাটসম্যান মেহেদি হাসান মিরাজও সেই কথাই বললেন-‘মানছি যে অভিজ্ঞতার দিক থেকে আমরা আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। আমরা টেস্ট খেলছি প্রায় ২০ বছর হতে চলছে। আর ওরা মাত্র বছর খানেক আগে থেকে টেস্ট খেলছে। তবে মনে রাখতে হবে ক্রিকেট ম্যাচে সেই দলই জেতে যারা মাঠের ক্রিকেটে ভালো খেলে। আফগানিস্তানকে হালকা ভাবে নেয়ার কিছু নেই। আমরা আমাদের স্কিল নিয়ে কাজ করছি। দক্ষতা আরো বাড়ানোর চেষ্টা করছি। র‌্যাঙ্কিংয়ে ওরা পিছিয়ে আছে এসব চিন্তা আমরা মাথায় রাখছি না। ভাবছি যে টেস্ট সিরিজে আমাদের প্রভাব বিস্তার করে খেলতে হবে। নিয়ন্ত্রনটা নিজেদের হাতে রাখতে হবে।’

চট্টগ্রাম টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পূর্বশর্ত জানিয়ে দিলেন মিরাজ। এক ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ এবং জিম্বাবুয়েকে নিয়ে তিনজাতি টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশ দল ঈদের পর থেকে জোরে সোরে কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু করেছে। ব্যাটিং- বোলিং- ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে প্ল্যানিংয়ের কাজও একত্রিতভাবে সেরে ফেলছে বাংলাদেশ।

র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নামলে উপরে থাকা দলের একটা আশঙ্কা থাকে, আরে পা না আবার পিছলে যায়! তেমন কোনো চাপ কি বাংলাদেশ অনুভব করছে আফগান সিরিজের আগে?

এই প্রশ্নের উত্তরে মিরাজের সহজ ব্যাখা-‘আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট মানেই তো চাপ। সেই চাপ যারা সইতে পেরে নিজেদের পারফরমেন্স দেখাতে পারে-তারাই ম্যাচ জিতে।’

দেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ মানেই তো বাংলাদেশ একাদশে স্পিনারে ঠাসা। কিন্তু প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান বলেই সম্ভবত বাংলাদেশ এবার একটু ভিন্ন চিন্তায়, ভিন্ন পরিকল্পনায়। স্পিন উইকেট তৈরি করলেও উল্টো ফলও হতে পারে! আফগানিস্তানের স্পিনাররাও যে দুর্দান্ত।

 এই প্রসঙ্গে মিরাজ রোববার মিরপুরে অনুশীলন শেষে জানান-‘এই ম্যাচে চ্যালেঞ্জের মাত্রাটা আরো বাড়ছে। এই ম্যাচে আমাদের স্পিনারদের ওপরও বাড়তি দায়িত্ব থাকবে যাতে আমরা ম্যাচে প্রভাব ছড়িয়ে খেলতে পারি। দেশের মাটিতে আমরা যাদের সঙ্গেই খেলেছি, আমাদের স্পিনাররা ভালো করেছে। এবারও সেই লক্ষ্যটাই থাকবে। টেস্ট ক্রিকেটে উইকেট থেকে সহায়তা মিললে বোলারদের জন্য কাজটা কিছুটা সহজ হয়ে যায়। তবে উইকেট যেমনই থাক, টেস্ট ক্রিকেটে একই স্পটে লাইন লেন্থ বজায় রেখে বল করতে হয়। তাহলেই উইকেট শিকারের পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমার কাছে তো মনে হয় এই ম্যাচটা আমাদের মাটিতে হচ্ছে, আমরা স্পিনাররা তো অবশ্যই কিছুটা সুবিধা পাবো।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র