সুপার ওভার দেখতে গিয়ে মারা যান নিশামের কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ডেভিড গর্ডন ও জিমি নিশাম, ছবি: সংগৃহীত

ডেভিড গর্ডন ও জিমি নিশাম, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লর্ডসের অবিশ্বাস্য ও মহানাটকীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল হৃদ-কম্পন বাড়িয়ে দিয়েছিল ক্রিকেট প্রেমীদের। উচ্চ রক্তচাপে ভোগা বয়স্ক ও হৃদরোগীদের জন্য এমন স্নায়ুচাপ ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ প্রায়ই প্রাণঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাস্তবে হয়েছেও তাই। ফাইনালের সুপার ওভার খেলার সময়ই মারা গেছেন কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশামের সাবেক কোচ ডেভিড গর্ডন।

এমনিতেই অকল্পনীয় ও অভাবনীয় হাইভোল্টেজ ফাইনালে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে জিমি নিশামের। হৃদয় ভেঙে হয়েছে চুরমার। তারওপর কোচের মৃত্যুর মতো বিয়োগান্তক খবর হজম করতে হল নিউজিল্যান্ডের এ তারকা ক্রিকেটারকে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে সুপার ওভারে মার্টিন গাপটিলের সঙ্গে দলকে যখন জেতানোর চেষ্টা করছিলেন নিশাম, তখন তার হাইস্কুল শিক্ষক ও বাল্যকালের কোচ ডেভিড গর্ডন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ছিলেন গর্ডন। তার মৃত্যু নিয়ে কন্যা লিওনি বলেন, ‘ফাইনাল ওভার, সুপার ওভারে একজন নার্স আসেন। ওই নার্স বলেন, আমার বাবার শ্বাস-প্রশ্বাসে পরিবর্তন এসেছে। জিমি নিশাম ছক্কা হাঁকানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’

লিওনি জানান, তার বাবা ছিলেন একজন বিচিত্র রসিক মানুষ। রসবোধের সত্যিকারের এক চরিত্র। সব সময় ক্রিকেট খেলা দেখতে দেখতে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে চাইতেন। বাস্তবে তিনি তেমনটাই করতে পেরেছেন।

টুইট বার্তায় প্রয়াত কোচকে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান জিমি নিশাম, লেখেন- ‘ডেভ গর্ডন, আমার হাই স্কুল শিক্ষক, কোচ ও বন্ধু। ক্রিকেটের প্রতি আপনার ভালোবাসা সংক্রামক। বিশেষ করে আমাদের জন্য। আপনার অধীনে যাদের খেলার সৌভাগ্য হয়েছে। এমন ম্যাচ নিয়ে আপনি যেভাবে স্তুতি গেয়ে গেছেন। নিশ্চিত আপনি গর্ব নিয়ে গেছেন। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ। শান্তিতে চির নিদ্রায় ঘুমান।’

জিমি নিশামের শ্রদ্ধাঞ্জলি বার্তা ছুঁয়ে গেছে গর্ডনের মেয়েদের মনকে, ‘বার্তাটি ছিল ভালবাসামাখা। আমার বাবা সব সময় জিমির খোঁজ খবর রাখতেন। তিনি একই সঙ্গে জিমির বাবার বন্ধুও ছিলেন। মন থেকে সব সময় জিমি নিশামকে ভালো জানতেন। তার জন্য আমার বাবা ছিলেন গর্বিত। স্বর্গে বসে তিনি অবশ্যই তার শিষ্যের ক্যারিয়ারকে অনুসরণ করবেন।’

নিউজিল্যান্ডের সমান ২৪১ রান তোলে ফাইনালটা টাই করে বসে ইংল্যান্ড। যেকারণে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় সুপার ওভারে। ইংলিশদের সমান ১৫ রান করে সেখানে টাই করে বসে কিউইরা। কিন্তু বাউন্ডারি বেশি হাঁকানোর সুবাদে প্রথম বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় ইংল্যান্ড।

আপনার মতামত লিখুন :