খেলে পরাজিত হয়ে নয়, মাঠে নামার আগেই স্বপ্ন ভাঙল তাদের

নাহিদ রেজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঠাকুরগাঁও
রাঙ্গাটুঙ্গির নারী ফুটবল খেলোয়াড়রা। ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গাটুঙ্গির নারী ফুটবল খেলোয়াড়রা। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্ন ছিল ফাইনালে খেলবে তারা। নিজ জেলার জন্য ছিনিয়ে আনবে চ্যাম্পিয়নের কাপ। সেই স্বপ্ন প্রায় পূরণের পথেই ছিল। কিন্তু শুক্রবার (১৯ জুলাই) খেলোয়াড়দের চোখের জলে ভাসল সেই স্বপ্ন। তবে খেলে পরাজিত হয়ে নয়, মাঠে নামার আগ মুহূর্তে দলটিকে বাদ দেয়া হয়েছে।

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে ঢাকা থেকে বুকে কষ্ট ও চোখে পানি নিয়ে নিজ জেলায় ফিরে এসে ঠাকুরগাঁও রেলস্টেশনে বসে এসব কথা জানান রাঙ্গাটুঙ্গির নারী ফুটবল খেলোয়াড়রা।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার কমলাপুরস্থ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ময়মনসিংহ জেলাকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোল ব্যবধানে হারিয়ে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৯ এর ফাইনালে উঠে ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে ফুটবলাররা। কিন্তু ফাইনাল খেলার ঠিক কিছুক্ষণ আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কর্তৃপক্ষ জানায়, ফাইনাল খেলতে পারবে না ঠাকুরগাঁও।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563625534412.jpg

এ সময় স্টেডিয়ামে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল ঠাকুরগাঁওয়ের এসব নারী খেলোয়াড়, পরিচালকসহ সবাই। এক পর্যায়ে কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু এগিয়ে আসেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কেউ। ঠাকুরগাঁওয়ের এই টিমটির কোনো কথাই শুনেনি তারা।

বাফুফের নিয়ম অনুযায়ী এই টুর্নামেন্টে একই খেলোয়াড় দুইবারের বেশি অংশ নিতে পারবে না। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের ৪ জন ফুটবলার খেলেছে এই টুর্নামেন্টে। মূলত এ অভিযোগের কারণেই ফাইনালে খেলতে পারেনি ঠাকুরগাঁও।

কিন্তু বাফুফের সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের এই টিমটি।

অভিযুক্ত সেই খেলোয়াড় রঞ্জনা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাফুফে বলেছে আমি এর আগে দুইবার খেলেছি। কিন্তু তারাতো প্রমাণ দিতে পারেনি। আমি শুধু একবারই খেলেছি, সেটা নীলফামারীতে। তারা মিথ্যা বলেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563626294620.jpg

মমতাজ নামের আরেক খেলোয়াড় বলেন, ‘বাফুফের কিরণ ম্যাডাম আমাদের সঙ্গে যে খারাপ আচরণ করেছে, তা খুবই কষ্টদায়ক। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই।’

ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গির নারী ফুটবল দলের পরিচালক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘ফাইনাল খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বাফুফে চিঠি দেয় যে, আমাদের টিম খেলতে পারবে না। কী কারণে খেলতে পারবে না জানতে চাইলে তারা জানায় আমাদের চারজন খেলোয়াড় দুইবারের অধিক খেলেছে। এরপর আমি তাদের প্রশ্নের জাবাব দিলে তারা আমার কোনো কথাই শোনেনি। তারা একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা অন্যায় হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে যারা খেলেছে তাদের খেলোয়াড়দের বয়স বেশি। কিন্তু তাদের কিছু বলা হয়নি। আমাদের জেলার মেয়েদেরকে অপমান করা হয়েছে। কোথাও এমন নিয়ম নেই যে, কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে পুরো টিমকে বাদ দিয়ে দেবে।’