বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে বিসিবি’র পরিকল্পনায়ই ছিলেন না মাশরাফি!

এম. এম. কায়সার, স্পোর্টস এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মাশরাফি বিন মর্তুজা, ছবি: সংগৃহীত

মাশরাফি বিন মর্তুজা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সবাই মাঠে। অনুশীলনে। লর্ডসে খেলা। অথচ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা অনুশীলনেই নেই! হ্যাঁ, দলের সঙ্গে তিনি মাঠে এসেছেন। কিন্তু অনুশীলনে নামেননি। পরদিন ম্যাচ। আর কিনা আগের দিনের অনুশীলনে স্বয়ং অধিনায়ক নেই।

-কেন?

ইনজুরিতে নাকি অধিনায়ক? খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, না ইনজুরিজনিত কোনো সমস্যা নেই অধিনায়কের। সমস্যাটা তখন অন্য। লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেই ম্যাচে পরিকল্পনার মধ্যেই যে নেই অধিনায়ক!

১১ জনের দল সাজানো হচ্ছে তাকে ছাড়াই! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশেই এই পরিকল্পনা। ম্যাচের আগের দিন সকাল-দুপুর এমনকি রাত পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই স্থির থাকে। অর্থাৎ অধিনায়ক মাশরাফিকে ছাড়াই একাদশ নামবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে।

কিন্তু বিসিবি’র শীর্ষ কর্তাদের নেয়া সেই সিদ্ধান্ত পরদিন সকালে আর টিকলো না! অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফিই নামলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে টস করতে। লর্ডসের সেই ম্যাচে শুধু মাশরাফি নয়, মুশফিকুর রহিমেরও খেলার কথা ছিল না। মুশফিক অবশ্য ইনজুরিতে ছিলেন। ম্যাচের আগে মুশফিক হাতে ¯িøং ঝুলিয়েছিলেন! সেই মুশফিকও ঠিকই লর্ডসের ম্যাচে নেমে পড়লেন পরদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে।

লর্ডসে বাংলাদেশ সেই ম্যাচ খেলেছে ৫ জুলাই। আর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এতদিন পরে এসে সেই ম্যাচের একাদশ নিয়ে নাখোশ জানালেন বুধবার, ২৪ জুলাই। বিশ্বকাপ শেষে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বিসিবি হেড কোচ স্টিভ রোডসকে যে বিদায় করে দেয়। কোনো সন্দেহ নেই আগের রাতে ঠিক করা লর্ডসের একাদশ বদলে যাওয়ার ঘটনাও তার চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের অন্যতম একটা কারণ!

নাজমুল হাসান বুধবার ধানমন্ডিতে তার অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলাপে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে মুশফিক রহিমের হাতে ব্যান্ডেজ বাধা ছিল। মাশরাফিও সেই ম্যাচের পরিকল্পনায় ছিল না। আমরা তাদেরকে ছাড়াই পরের দিনের একাদশ সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অথচ পরদিন আমরা কি দেখলাম অন্য একটা দল ম্যাচে খেলছে! এমন ঘটনা আগে কখনোই ঘটেনি।’

বিসিবি’র শীর্ষ কর্তাদের দেয়া একাদশ বদলে যাওয়া এবং আফগানিস্তানকে হারিয়ে বার্মিংহ্যামে পৌঁছানোর পর পুরো দলকে বিশ্বকাপের মাঝেই পাঁচদিনের ছুটি দেয়া-মূলত এই দুই ঘটনায় কোচের ওপর থেকে আস্থা হারায় বিসিবি।

হেড কোচ স্টিভ রোডসের এই ‘কোচিং পদ্ধতিই’ বিসিবির পছন্দ হয়নি। তাই ছাঁটাই। যে ছাঁটাইয়ের শুদ্ধাচার ভঙ্গিতে একটা নাম দেয়া হচ্ছে, ‘পারস্পারিক সমঝোতায় চাকরি সমাপ্ত!’

প্রশ্ন হলো বিসিবির আগের রাতে নেয়া একাদশ বদলের সিদ্ধান্ত কি কোচ একাই নিয়েছিলেন? নাকি অধিনায়কও নিজের ক্ষমতা খাটিয়েছিলেন? সেই একাদশ নিয়ে দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন সেদিন না করেননি।

কারণ সেই একাদশের তালিকার অফিসিয়াল কাগজে ম্যানেজারের ঘরে স্বাক্ষরটা যে তারই! একজোট হয়ে বিসিবির বিরুদ্ধে কোচ, অধিনায়ক, ম্যানেজার তথা টিম ম্যানেজমেন্ট সবাই সিদ্ধান্ত নিলেন। অথচ কোপটা পড়লো শুধু কোচের ঘাড়ে!

রিভিউ এখন চাইতেই পারেন বাংলাদেশের ছাঁটাই হওয়া হেড কোচ স্টিভ রোডস!

আপনার মতামত লিখুন :