Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

ক্রিকেটে এবার আসছে মাইক্রো-চিপের স্মার্ট বল!

ক্রিকেটে এবার আসছে মাইক্রো-চিপের স্মার্ট বল!
ছবি: সংগৃহীত
স্পোর্টস এডিটর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রিকেটে প্রতিনিয়তই প্রযুক্তির স্ফুরণ ঘটছে। আলট্রা এজ, হক আই, হটস্পট, স্ট্যাম্পড মাইক্রোফোন, বল ট্র্যাকিংয়ের পর এবার আসছে স্মার্ট বল! অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কোকাবুরা বাজারে আনছে নতুন প্রযুক্তির এই বল।

-কি আছে এই বলে?

বলের ভেতরের অংশে একটা মাইক্রো-চিপ থাকবে। কুঠুরিতে তার দিয়ে জড়ানো একটা গোল সকেটের সঙ্গে চিপের সংযোগ থাকবে। রাবার ও কর্ক দিয়ে মোড়ানো সেই সকেটের আকৃতি থাকবে ডিমের মতো। এমনভাবে সেই সকেট বসানো হবে যাতে বলের ওজন না বাড়ে। বলের সেলাই, আকৃতি সবকিছুই থাকবে আর দশটা স্বাভাবিক ক্রিকেট বলের মতোই। শুধু ভেতরে থাকা সেই মাইক্রো- চিপের সাহায্য জানা যাবে অনেক তথ্য।

-কি ফায়দা হবে এই বলে?

বলের ভেতরে থাকা মাইক্রো-চিপের তথ্যাদি স্মার্টফোন, ফোন অথবা ট্যাবলেট অ্যাপের সাহায্য পাওয়া যাবে। একজন বোলার তার প্রতিটি বল ডেলিভারি থেকে শুরু করে উইকেটকিপারের কাছে বল জমা হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্যাদি জানতে পারবে। শুধু বলের গতি নয়, বলের সুইং, বাঁক, স্পিনের ধরণ এমনসব তথ্যের ক্ষুদ্র বিষয়গুলোও জানা যাবে। বলের পারফেক্ট রিলিজ টাইমের তথ্য মিলবে। কতটুকু বাউন্স হলো সেটা জানা যাবে। মাটিতে পিচ হওয়ার পর বলের গতি কেমন ছিলো তারও সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। পিচ হওয়ার পর কতখানি গতি নিয়ে উইকেটকিপারের কাছে গেলো সেই সম্পর্কেও ধারণা মিলবে। বর্তমানে স্পিডগানে শুধুমাত্র বলটা প্রথমবার ল্যান্ড করার পর যে গতি পায় সেটাই পাওয়া যায়। কিন্তু স্মার্ট বলের প্রযুক্তিতে বাউন্সের সঠিক ডিগ্রী, সুইং, বাঁক বা নিচু হওয়া সম্পর্কে পুরো বিস্তারিত তথ্য দেবে।

এসব তথ্য নির্দিষ্ট বোলারের বোলিং সম্পর্কে ডাটা বিশ্লেষকদের কাজ অনেক সহজ করে দেবে। বোলারের ভুল কোথায় হচ্ছে বা কোন জায়গায় বাকিদের চেয়ে তার পার্থক্য-এমনসব বিষয় নিরূপণ করার কাজ স্মার্ট বল প্রযুক্তি অনেক সহজ করে দেবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/14/1565755242266.jpg

-আম্পায়ারদের কাজে সহায়ক হবে কি?

হ্যাঁ হবে। এই বলের প্রস্তুতকারকরা জানাচ্ছেন-বলে ব্যাটের সামান্যতম খোঁচাও এই প্রযুক্তির সহায়তায় ধরা পড়বে। অনেক সময় স্নিকোমিটারেও ক্ষুদ্রতম খোঁচা ধরা পড়ে না। তবে স্মার্ট বলে সেই সুযোগ নেই। খোঁচা হলে ধরা পড়বেই। তাছাড়া লো ক্যাচ নিয়েও অনেক সময় দ্বিধায় পড়েন আম্পায়াররা। আলট্রা ম্যাগনিফাইং ক্যামেরা জুম করেও বোঝা যায় না ফিল্ডারের আঙ্গুল বলের নিচে ছিলো নাকি বল আগে মাটি ছুঁয়েছে? স্মার্ট বলে এই আউটপুট একেবারে নিখুঁত আসবে। ক্যাচটা ঠিক হয়েছে কিনা- তা একশভাগ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

নতুন এই স্মার্ট বলের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষণের সময় লাগবে প্রায় বছর খানেকের মতো। তারপর এই বল আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে ব্যবহার করা যাবে কিনা-তা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। তবে সমস্যাও কিন্তু কম নয়। কোকাবুরা বলের স্থায়িত্ব খুব বেশি নয়। খেলার স্বাভাবিকত্ব এবং মান যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে এই বলের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এর আগে টেস্ট ক্রিকেটে গোলাপি বলের ব্যবহার বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো। ফ্লাডলাইটের আলোয় গোলাপি বলে সুইং নাকি অতিমাত্রায় হয়। তাছাড়া লাল বল ৮০ ওভারের মধ্যে দুই থেকে তিনবার বদল করতে হয়। টেস্ট ম্যাচে বোলাররা ডিউক বলই বেশি পছন্দ করেন। কোকাবুরার সাদা বলের আকৃতিও দ্রæত নষ্ট হয়ে যায়। টি-টুয়েন্টি ধাঁচের ক্রিকেটে বল একটু বেশি পিটুনি খায়! অতিরিক্ত সেই পিটুনির চোটে উন্নত প্রযুক্তির দামি মাইক্রো-চিপ যে
ক্ষতিগ্রস্ত হবে না- সেই নিশ্চয়তা কোথায়?

বানিজ্যিক একটা ব্যাপারও আছে। মাইক্রো-চিপ সম্বলিত এই বলের দামও নিশ্চয়ই কম হবে না। নেট অনুশীলনের জন্য এমন বলের ব্যবহার বেশ ব্যয়বহুল হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় সামনের মৌসুমের বিগব্যাশ ক্রিকেটে এই স্মার্ট বল ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদি সেই পরীক্ষণ সফল হয় তবে টেস্ট ক্রিকেটেও এই স্মার্ট বল ব্যবহার করতে চায় কোকাবুরার প্রস্তুতকারক অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান।

আপনার মতামত লিখুন :

গোল্ডেন গার্ল সুলতানা কামাল খুকী

গোল্ডেন গার্ল সুলতানা কামাল খুকী
সুলতানা কামাল খুকী : বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র

বেঁচে থাকলে ৬৭-তে পা রাখতেন তিনি। ক্রীড়াঙ্গনের অদ্বিতীয়া এক নারী অ্যাথলিট- সুলতানা আহমেদ খুকী! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের স্ত্রী। ক্ষণজন্মা এই নারী ছিলেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে যখন এ দেশের রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের ঘরের বাইরে বেরোনোই কঠিন ছিল সে সময়টাতে তার অ্যাথলেটিকসে যাত্রা।

১৯৬২-৬৩ সালে ঢাকার বকশীবাজার মুসলিম গার্লস স্কুলে পড়াকালীন আন্তঃবিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে শুরু এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অ্যাথলেটিক ট্র্যাক দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। অ্যাথলিট হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য অসাধারণ। হার্ডলস, হাইজাম্প এবং ব্রডজাম্প ছিল তার প্রিয় ইভেন্ট। এই তিন ইভেন্টে বরাবরই তিনি দেশে ও বিদেশের মাটিতে অসামান্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।

জন্ম ১৯৫২ সালের ১০ ডিসেম্বর। বেড়ে উঠা পুরান ঢাকার বকশিবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে। বাবা দবির উদ্দিন আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী। মা জেবুন্নেছা বেগম গৃহিণী। নয় ভাই-বোনের মধ্যে ছিলেন অষ্টম এবং বোনদের মধ্যে সবার ছোট। মধ্যবিত্ত পরিবারে ছিলেন সবার খুব আদরের। মাত্র ২৪ বছর বয়সী সুলতানা কামালের ক্যারিয়ার ছিল বর্ণাঢ্যময়। পড়তেন পুরান ঢাকার মুসলিম গার্লস স্কুলে। তারপর গভ: ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বেগম বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজ)। ১৯৬৯ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। অনার্স শেষে একই বিভাগে ভর্তি হন মাস্টার্সে। ১৯৭৫ সালে মাস্টার্সের লিখিত পরীক্ষাও দেন। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566105689273.png

কথাবার্তা, আচার-আচরণ, পারফরম্যান্স সবকিছুতেই ছিলেন অনন্য অসাধারণ। ছিলেন বেশ চটপটে, ছটফটে, হাসিখুশি! দুষ্টুমিতে ছিলেন সেরা। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও খেলার মাঠে তার মানবিক গুণাবলি সবাইকে মুগ্ধ করত। ছোটদের যেমন স্নেহ করতেন আবার বড়দের প্রতিও ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। ছিলেন সবার প্রিয় মানুষ, প্রিয় মুখ। মুখে সবসময় হাসি থাকত আর হাসি দিয়েই সবার মন জয় করে নিতেন। ছিল না কোনো অহংকার। এমনকি বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ হওয়ার পরও ছিলেন সাধারণের মতোই।

বিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালের সঙ্গে। নিজেদের মধ্যে চেনা জানা থাকলেও বিয়ে হয় পারিবারিক ভাবে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই। দুই পরিবারের মধ্যে সখ্য ছিল আগে থেকেই। বিয়ের পর সুলতানা আহমেদ হন সুলতানা কামাল। থাকতেন ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়ির তিন তলায়। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও ঘাতকদের নির্মমতার শিকার হন। বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় মেহেদির রঙ মুছে যাওয়ার আগেই নিহত হন তিনি। ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়ির দোতলার শোবার রুমে ঘাতকের বুলেটের আঘাতে (বুক ও পেটে) রক্তাক্ত অবস্থায় সুলতানা কামালের নিথর দেহটি পড়েছিল অন্য সবার মাঝে। তখনও তার দু’হাতে শোভা পাচ্ছিল সদ্য বিয়ের মেহেদির আলপনা। রক্তের রঙ আর মেহেদির রঙের মাখামাখি হয়ে একাকার হয়ে গিয়েছিল সেদিন।

ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন খেলাধুলায় ছিলেন দারুন পারদর্শী। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শুধু মেধাবী ছাত্রীই ছিলেন না, ছিলেন সবার সেরা অ্যাথলিট। আন্তঃস্কুল ও কলেজ প্রতিযোগিতায় বরাবর শীর্ষস্থান ধরে রাখতেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তৎকালীন পাকিস্তান অলিম্পিকে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে স্বর্ণপদক জয়লাভ করেছিলেন (১৯৬৭-৬৮)। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মূলত তার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় দল জাতীয় পর্যায়ের লড়াইয়ে একাধিক পদক জয় করেছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা ব্লু ছিলেন (১৯৬৯-৭০)। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ১৯৭৩, ’৭৪ এবং ’৭৫ সালে পর পর  অংশ নেন এবং রের্কড গড়েন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566105712059.jpg

‘অলইন্ডিয়া রুরাল গেমসে’ লাভ করেন রৌপ্যপদক (১৯৭৩)। ক্রীড়া জগতে অসামান্য অবদানের জন্য ডাকসু তাঁকে বিশেষ পদকে সম্মানিত করে (১৯৭৩)। ১৯৭৩ সালে জাতীয় ক্রীড়ালেখক সমিতি কর্তৃক তিনি সেরা অ্যাথলিটও নির্বাচিত হন। তাছাড়াও নিজ কলেজের শ্রেষ্ঠ অ্যাথলিট পুরস্কার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা অ্যাথলিটের পুরস্কার, ব্যাডমিন্টন পুরস্কারসহ আরো অনেক সাফল্য ছিল তার ঝুলিতে। ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পরে তাকে একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক ও ক্রীড়ালেখক সমিতির পুরস্কারেও ভূষিত করা হয়। এসব পুরস্কার থরে থরে সাজানো ছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক বাড়ির একটি কক্ষে। আফসোস, ঘাতকরা তাকে মারার পাশাপাশি তার অর্জনগুলোকেও ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

ক্রীড়াক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও অবদানের স্বীকৃতি সরূপ তার নামে ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স’, বকশিবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোয়ার্টারে থাকতেন, সেখানেও গড়ে তোলা হয়েছে ‘সুলতানা কামাল স্মৃতি কমপ্লেক্স’, তার স্মরণে ঢাকার ডেমরা-তারাবোতে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে ‘সুলতানা কামাল সেতু’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566105733582.jpg

তার মূল বাড়ি ঢাকার মাতুয়াইলে পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে চলছে ”সুলতানা কামাল স্মৃতি পাঠাগার” কার্যক্রম। এই কৃতি অ্যাথলিটের সুনাম ও দ্যুতি সারা দেশে বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রীড়ামোদী নতুন মেয়েদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া দরকার। যা এই প্রজন্মের মেয়েদের খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ যোগাতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে সুলতানা কামালের অবদান অনেক। দেশের জন্য তিনি অনেক সুনাম বয়ে এনেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী খেলাধুলোয় নিজেকে উৎসর্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লড়াই, সাহস আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ছিল তাঁর চরিত্রে। তাঁর হাস্যোজ্জ্বল দীপ্তিময় মুখাবয়ব এখনও এ দেশের নারী খেলোয়াড়দের জন্যে অন্যরকম এক অনুপ্রেরণার উৎস। তখনকার প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন রোল মডেল । আমাদের দুর্ভাগ্য, তার মতো গুণী অ্যাথলিটকে আমরা অকালেই হারিয়েছি। পচাঁত্তোরের পনের আগস্টে ঘাতকদের হাতে ক্রীড়াক্ষেত্রের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবনপ্রদীপ চিরতরে নিভে যায়। তাই শোকের এই মাসে বঙ্গবন্ধু, তার পরিবারের সকল শহীদসহ শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি এই কৃতি অ্যাথলিটকে, যিনি মন, মননে, চলায়, বলায়, দর্শনে, অর্জনে সত্যিই ছিলেন একজন গোল্ডেন গার্ল। স্যালুট প্রিয় অ্যাথলিট সুলতানা কামাল খুকি।

লেখক: ভিজিটিং সায়েনটিস্ট, এনাসটাসিয়া মসকিটো কন্ট্রোল, সেন্ট অগাস্টিন, ফ্লোরিডা, আমেরিকা ও সহযোগী অধ্যাপক (ডেপুটেশন), কীটতত্ত্ব বিভাগ, পবিপ্রবি, বাংলাদেশ।

দুর্দান্ত জয়ে লা লিগা শুরু রিয়ালের

দুর্দান্ত জয়ে লা লিগা শুরু রিয়ালের
জয় দিয়েই এবারের লা লিগা মিশন শুরু হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের

নতুন মৌসুমে এরচেয়ে ভাল শুরু বুঝি আর হতেই পারতো না! স্প্যানিশ লা লিগায় শুরুতেই অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার সেল্টা ভিগোকে উড়িয়ে পথচলা শুরু হলো জিনেদিন জিদানের দলের। আগের দিনই অবশ্য আথলেতিক বিলবাওয়ের কাছে লা লিগা মিশন শুরু হয় চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার।

এবারের লা লিগায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল। ম্যাচে দলটির হয়ে গোল তিনটি করেন করিম বেনজেমা, টনি ক্রুস ও লুকাস ভাসকেস।

তবে এই জয়েও লেগে আছে কলঙ্ক। লালকার্ড দেখে এদিন মাঠ ছাড়েন রিয়াল তারকা লুকা মডরিচ। যদিও দশজন নিয়ে খেললেও তেমন সমস্যা হয়নি তাদের।

খেলার ১২তম মিনিটেই এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। গ্যারেথ বেলের ক্রস থেকে বল পেয়ে ব্যবধান গড়ে দেন বেনজেমা। প্রথমার্ধেই মডরিচের গোলে আরও এগিয়ে যেতে পারতো সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু তাকে সফল হতে দেননি সেল্টা ভিগোর গোলকিপার রুবেন ব্লানকো।

এরইমধ্যে স্রোতের বিপরীতে রিয়ালের জালে বলও পাঠিয়ে দেয় সেল্টা। যদিও ইয়াগো আসপাসের সেই গোল ভিএআর প্রযুক্তিতে বাতিল হয়ে যায়। খেলার ৫৬তম মিনিটে এসে দশজনের দল হয়ে যায় রিয়াল। প্রতিপক্ষের ফুটবলার দেনিস সুয়ারেসের পায়ে পিছন থেকে আঘাত করেন লুকা মডরিচ। এরপরই ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে রেফারি লালকার্ড দেখান মরডিচকে। প্রথমবারের মতো লা লিগায় লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এই তারকা ফুটবলার।

তারপরও দাপুটে ফুটবল থেকে সরে যায়নি রিয়াল। ৬১তম মিনিটে দলকে আরও এগিয়ে দেন টনি ক্রুস। এরপর ৮০তম মিনিটে বেনজেমার পাস থেকে বল পেয়ে গোল তুলে নেন ভাসকেস (৩-০)। তবে এই ব্যবধান নিয়ে মাঠ ছাড়া হয়নি রিয়ালের। ইনজুরি সময়ে ইকের লোসাদা গোলে কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেল্টা ভিগো।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র