Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

গুডবাই গেইল, ‘দ্য এন্টারটেইনার!’

গুডবাই গেইল, ‘দ্য এন্টারটেইনার!’
ক্রিস গেইল অধ্যায় শেষ হচ্ছে আজ
স্পোর্টস এডিটর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাস তাহলে ফিরে ফিরে আসে!

অন্তত নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু এবং শেষের হিসেবে মেলাতে বসলে ক্রিস গেইলও মানবেন ইতিহাসের এই সত্যটা।

আজ থেকে ১৯ বছর আগে পোর্ট অব স্পেনে ক্রিস গেইলের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিলো। সেই মাঠে আজ বুধবার, ১২ আগস্ট জীবনের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামছেন তিনি।

যে মাঠে টেস্টের শুরু। সেই মাঠেই ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ! ইতিহাসের কাছে এমনভাবে সবাই ফিরে যেতে পারে না। গেইল ফিরছেন।

এবারের বিশ্বকাপের আগেভাগেই জানিয়েছিলেন-এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ, শুধু তাই নয়-সব ধরনের ক্রিকেট থেকেই অবসর নেবেন; সেটাও বেশ সাড়া শব্দ করে জানিয়েছিলেন।
 
 বিশ্বকাপের পর তার সিদ্ধান্তটা বদলে যায়। হঠাৎ জানিয়ে বসেন-ভারতের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সিরিজটা তিনি খেলতে চান। বিদায়টা সেখান থেকেই নিতে চান বলেই নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন গেইল। শুধু তাই নয়, পাঁচ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটে না খেলা গেইল জানান- ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও খেলার ইচ্ছে আছে তার। সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচটা হবে জ্যামাইকার কিংসটাউনে। জ্যামাইকা গেইলের জন্মভূমি।
 
নিজ শহরের মাঠ থেকে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই বলার একটা ইচ্ছে ছিলো তার। কিন্তু সেই ইচ্ছেটা অপূর্ণ রয়ে যাচ্ছে তার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নির্বাচকরা তাকে টেস্ট দলে রাখেননি। পাঁচ বছর টেস্ট না খেলা কোনো ব্যাটসম্যানকে তো আর হঠাৎ করে একটা সিরিজে শুধু তার মনের ইচ্ছে পুরুণের জন্য খেলিয়ে দেয়া যায় না! তবে গেইলের বিদায়ের জন্য তাকে ওয়ানডে দলে খেলার সুযোগটা ঠিকই করে দিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

তিন ম্যাচের ওয়ানডের সেই সুযোগের শেষ ম্যাচটা আজ বুধবার ১২ আগস্ট রাতে পোর্ট অব স্পেনে খেলতে নামছেন গেইল।

বিদায়ই ইনিংসটা কেমন হবে তার? চলতি সিরিজে ব্যাট হাতে ক্রিস গেইলের যে পারফরমেন্স তাতে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার উপায় নেই। পেছনের দুই ম্যাচে রান তার যথাক্রমে ৪ ও ১১।

তবে শেষ ইনিংসে ক্রিস গেইল যাই রান করেন না কেন-ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট ইতিহাস তাকে একটা দেশের ‘গ্রেট ক্রিকেটারদের’ মর্যাদা ঠিকই দিয়েছে। হয়তো ব্যাটিংয়ে টেকনিক্যালি অত দক্ষতা তার নেই। কিন্তু ব্যাট হাতে যে ক্রিকেট মাঠে বিনোদন দেয়ার যে উপলক্ষ তিনি তৈরি করে  দিতে পেরেছেন সেটা ক’জনা পারে? আর তাই নিজের নাম উচ্চারণের সময় ক্রিস গেইল সগর্বে বলেন-‘আই অ্যাম দ্য এন্টারটেইনার!’

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাট হাতে দু’হাত উঁচিয়ে ক্রিস গেইল যখন দাবি করেন-‘আই অ্যাম দ্য ইউনিভার্সেল বস!’ তখন পুরো বিশ্ব তার সেই দাবিটা বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নেয়। টি-টুয়েন্টির ক্রিকেটে রেকর্ডটাই তার অমন এভারেষ্টসম! রেকর্ডের সেই উচ্চতা থেকে ক্রিস গেইলকে দেখাচ্ছে পুরো দৈত্যাকৃতির। বাকিরা লিলিপুট!

ওয়ানডে ক্রিকেটেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রায় সব রেকর্ডের মালিক ক্রিস গেইল। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ। সবচেয়ে বেশি রান। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি এমনকি সবচেয়ে বেশি শূন্যের (২৪টি) রেকর্ডটি তারই!

টি-টুয়েন্টিতেও ক্রিস গেইল ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সেরা। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ। সবচেয়ে বেশি রান। দুটি সেঞ্চুরির মালিক। এখন পর্যন্ত গেইল ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর কোনো ব্যাটসম্যানের আর্ন্তজাতিক টি-টুয়েন্টিতে সেঞ্চুরি নেই। সবচেয়ে বেশি ফিফটি (১৩) তার। সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড (১০৬) ও তারই।

১০৩ টেস্টের ক্যারিয়ারও তার বেশ সমৃদ্ধ। ১৫টি সেঞ্চুরির মধ্যে আছে দুটো ট্রিপল সেঞ্চুরি। টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে শুধু ব্রায়ান লারা ও ক্রিস গেইলের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট ইতিহাসে একজন সত্যিকারের ম্যাচ উইনারের তালিকা তৈরি করলে সেখানে অতি অবশ্যই ক্রিস গেইলের নাম রাখতে হবে।

গেইল ব্যাট হাতে যেদিন খেলেন, সেদিন গ্যালারির দর্শকদের কাছ থেকে শুধু হাততালি শোনা যায়। প্রতিপক্ষের বোলারদের শুকনো মুখের দেখা মিলে। ফিল্ডারদের কাজ হয়ে দাড়ায় শুধু বল কুড়িয়ে আনা।

ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেও কি সেই ‘ধামাকা’ দেখাচ্ছেন ক্রিস গেইল?

আপনার মতামত লিখুন :

প্রথম জয়ের খোঁজে ল্যাম্পার্ড

প্রথম জয়ের খোঁজে ল্যাম্পার্ড
লেস্টার সিটির মুখোমুখি আজ ল্যাম্পার্ডের চেলসি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির কোচ হিসেবে অভিষেক হলেও এখনো জয়ের দেখা পাননি ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। আজ রোববার ঘরের মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজে অভিষেকের রাতটা তাই স্মরণীয় করে রাখতে চান এই ইংলিশ কোচ। জয়ের রঙে রাঙিয়ে নিতে চান বিশেষ দিনক্ষণটা। 

ক্লাব চেলসির হয়ে প্রথম জয়ের খোঁজে কোচ ল্যাম্পার্ড আজ মাঠে নামাচ্ছেন সেরা একাদশ। রাত সাড়ে ৯টায় লেস্টার সিটিকে নিজেদের মাঠে আতিথ্য দিবে দ্য ব্লুজ শিবির।

এদিকে লা লিগার নতুন মৌসুমে নতুন মিশন শুরু করছে আজ কোচ দিয়েগো সিমিওনের অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। নিজেদের মাঠে নবাগত স্ট্রাইকার জোয়াও ফেলিক্সকে আক্রমণে রেখে তারা লড়বে গেতাফের বিপক্ষে।

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ-গেতাফের লড়াই ক্রীড়াপ্রেমীরা টিভিতে সরাসরি উপভোগ করবেন রাত ২টা থেকে। ফরাসি লিগ ওয়ানে নেইমারকে ছাড়াই রেঁনের মাঠ সফরে যাচ্ছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি )।

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের লাল বলের লড়াই শুরু বিকেল ৪টা থেকে। গল টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে শ্রীলঙ্কা।

দর্শকদের জন্য থাকছে কাবাডির লড়াইও। প্রো-কাবাডি লিগের ম্যাচ সরাসরি দর্শকরা টেলিভিশনের পর্দায় উপভোগ করতে পারবেন রাত ৮টা থেকে।

চলুন দেখে নেই রোববার টেলিভিশনের পর্দায় কখন কী থাকছে-

ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
শেফিল্ড ইউনাইটেড-ক্রিস্টাল প্যালেস
সরাসরি সন্ধ্যা ৭টা
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট এইচডি ওয়ান

চেলসি-লেস্টার সিটি
সরাসরি রাত সাড়ে ৯টা
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট এইচডি ওয়ান

লা লিগা
আলাভেজ-লেভান্তে
সরাসরি রাত ৯টা
ফেসবুক লাইভ

এসপানিওল-সেভিয়া
সরাসরি রাত ১১টা
ফেসবুক লাইভ

রিয়াল বেটিস-রিয়াল ভ্যালাদোলিদ
সরাসরি রাত ১টা
ফেসবুক লাইভ

অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ-গেতাফে
সরাসরি রাত ২টা
ফেসবুক লাইভ

বুন্দেসলিগা
ফ্রাঙ্কফুর্ট-হোফেনহেইম
সরাসরি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট এইচডি টু

ইউনিয়ন বার্লিন-আরবি লিপজিগ
সরাসরি রাত ১০টা
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট এইচডি টু

ফরাসি লিগ ওয়ান
রেঁনে-পিএসজি
সরাসরি রাত ১টা
বেট৩৬৫

ক্রিকেট
অ্যাশেজ সিরিজ
ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া
দ্বিতীয় টেস্ট, পঞ্চম দিন
সরাসরি বিকেল ৪টা
সনি সিক্স ও সনি টেন টু

শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড
প্রথম টেস্ট, পঞ্চম দিন
সরাসরি সকাল সাড়ে ১০টা
সনি সিক্স, সনি টেন থ্রি ও জিটিভি

কাবাডি
প্রো-কাবাডি লিগ
সরাসরি রাত ৮টা
স্টার স্পোর্টস টু

গোল্ডেন গার্ল সুলতানা কামাল খুকী

গোল্ডেন গার্ল সুলতানা কামাল খুকী
সুলতানা কামাল খুকী : বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র

বেঁচে থাকলে ৬৭-তে পা রাখতেন তিনি। ক্রীড়াঙ্গনের অদ্বিতীয়া এক নারী অ্যাথলিট- সুলতানা আহমেদ খুকী! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের স্ত্রী। ক্ষণজন্মা এই নারী ছিলেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে যখন এ দেশের রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের ঘরের বাইরে বেরোনোই কঠিন ছিল সে সময়টাতে তার অ্যাথলেটিকসে যাত্রা।

১৯৬২-৬৩ সালে ঢাকার বকশীবাজার মুসলিম গার্লস স্কুলে পড়াকালীন আন্তঃবিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে শুরু এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অ্যাথলেটিক ট্র্যাক দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। অ্যাথলিট হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য অসাধারণ। হার্ডলস, হাইজাম্প এবং ব্রডজাম্প ছিল তার প্রিয় ইভেন্ট। এই তিন ইভেন্টে বরাবরই তিনি দেশে ও বিদেশের মাটিতে অসামান্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।

জন্ম ১৯৫২ সালের ১০ ডিসেম্বর। বেড়ে উঠা পুরান ঢাকার বকশিবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে। বাবা দবির উদ্দিন আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী। মা জেবুন্নেছা বেগম গৃহিণী। নয় ভাই-বোনের মধ্যে ছিলেন অষ্টম এবং বোনদের মধ্যে সবার ছোট। মধ্যবিত্ত পরিবারে ছিলেন সবার খুব আদরের। মাত্র ২৪ বছর বয়সী সুলতানা কামালের ক্যারিয়ার ছিল বর্ণাঢ্যময়। পড়তেন পুরান ঢাকার মুসলিম গার্লস স্কুলে। তারপর গভ: ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বেগম বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজ)। ১৯৬৯ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। অনার্স শেষে একই বিভাগে ভর্তি হন মাস্টার্সে। ১৯৭৫ সালে মাস্টার্সের লিখিত পরীক্ষাও দেন। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566105689273.png

কথাবার্তা, আচার-আচরণ, পারফরম্যান্স সবকিছুতেই ছিলেন অনন্য অসাধারণ। ছিলেন বেশ চটপটে, ছটফটে, হাসিখুশি! দুষ্টুমিতে ছিলেন সেরা। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও খেলার মাঠে তার মানবিক গুণাবলি সবাইকে মুগ্ধ করত। ছোটদের যেমন স্নেহ করতেন আবার বড়দের প্রতিও ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। ছিলেন সবার প্রিয় মানুষ, প্রিয় মুখ। মুখে সবসময় হাসি থাকত আর হাসি দিয়েই সবার মন জয় করে নিতেন। ছিল না কোনো অহংকার। এমনকি বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ হওয়ার পরও ছিলেন সাধারণের মতোই।

বিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালের সঙ্গে। নিজেদের মধ্যে চেনা জানা থাকলেও বিয়ে হয় পারিবারিক ভাবে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই। দুই পরিবারের মধ্যে সখ্য ছিল আগে থেকেই। বিয়ের পর সুলতানা আহমেদ হন সুলতানা কামাল। থাকতেন ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়ির তিন তলায়। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও ঘাতকদের নির্মমতার শিকার হন। বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় মেহেদির রঙ মুছে যাওয়ার আগেই নিহত হন তিনি। ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়ির দোতলার শোবার রুমে ঘাতকের বুলেটের আঘাতে (বুক ও পেটে) রক্তাক্ত অবস্থায় সুলতানা কামালের নিথর দেহটি পড়েছিল অন্য সবার মাঝে। তখনও তার দু’হাতে শোভা পাচ্ছিল সদ্য বিয়ের মেহেদির আলপনা। রক্তের রঙ আর মেহেদির রঙের মাখামাখি হয়ে একাকার হয়ে গিয়েছিল সেদিন।

ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন খেলাধুলায় ছিলেন দারুন পারদর্শী। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শুধু মেধাবী ছাত্রীই ছিলেন না, ছিলেন সবার সেরা অ্যাথলিট। আন্তঃস্কুল ও কলেজ প্রতিযোগিতায় বরাবর শীর্ষস্থান ধরে রাখতেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তৎকালীন পাকিস্তান অলিম্পিকে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে স্বর্ণপদক জয়লাভ করেছিলেন (১৯৬৭-৬৮)। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মূলত তার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় দল জাতীয় পর্যায়ের লড়াইয়ে একাধিক পদক জয় করেছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা ব্লু ছিলেন (১৯৬৯-৭০)। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ১৯৭৩, ’৭৪ এবং ’৭৫ সালে পর পর  অংশ নেন এবং রের্কড গড়েন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566105712059.jpg

‘অলইন্ডিয়া রুরাল গেমসে’ লাভ করেন রৌপ্যপদক (১৯৭৩)। ক্রীড়া জগতে অসামান্য অবদানের জন্য ডাকসু তাঁকে বিশেষ পদকে সম্মানিত করে (১৯৭৩)। ১৯৭৩ সালে জাতীয় ক্রীড়ালেখক সমিতি কর্তৃক তিনি সেরা অ্যাথলিটও নির্বাচিত হন। তাছাড়াও নিজ কলেজের শ্রেষ্ঠ অ্যাথলিট পুরস্কার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা অ্যাথলিটের পুরস্কার, ব্যাডমিন্টন পুরস্কারসহ আরো অনেক সাফল্য ছিল তার ঝুলিতে। ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পরে তাকে একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক ও ক্রীড়ালেখক সমিতির পুরস্কারেও ভূষিত করা হয়। এসব পুরস্কার থরে থরে সাজানো ছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক বাড়ির একটি কক্ষে। আফসোস, ঘাতকরা তাকে মারার পাশাপাশি তার অর্জনগুলোকেও ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

ক্রীড়াক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তার নামে ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স’, বকশিবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোয়ার্টারে থাকতেন, সেখানেও গড়ে তোলা হয়েছে ‘সুলতানা কামাল স্মৃতি কমপ্লেক্স’, তার স্মরণে ঢাকার ডেমরা-তারাবোতে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে ‘সুলতানা কামাল সেতু’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566105733582.jpg

তার মূল বাড়ি ঢাকার মাতুয়াইলে পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে চলছে ‘সুলতানা কামাল স্মৃতি পাঠাগার’ কার্যক্রম। এই কৃতি অ্যাথলিটের সুনাম ও দ্যুতি সারা দেশে বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রীড়ামোদী নতুন মেয়েদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া দরকার। যা এই প্রজন্মের মেয়েদের খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ যোগাতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে সুলতানা কামালের অবদান অনেক। দেশের জন্য তিনি অনেক সুনাম বয়ে এনেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী খেলাধুলায় নিজেকে উৎসর্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লড়াই, সাহস আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ছিল তাঁর চরিত্রে। তাঁর হাস্যোজ্জ্বল দীপ্তিময় মুখাবয়ব এখনও এ দেশের নারী খেলোয়াড়দের জন্যে অন্যরকম এক অনুপ্রেরণার উৎস। তখনকার প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন রোল মডেল । আমাদের দুর্ভাগ্য, তার মতো গুণী অ্যাথলিটকে আমরা অকালেই হারিয়েছি। পঁচাত্তরের পনের আগস্টে ঘাতকদের হাতে ক্রীড়াক্ষেত্রের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবনপ্রদীপ চিরতরে নিভে যায়। তাই শোকের এই মাসে বঙ্গবন্ধু, তার পরিবারের সকল শহীদসহ শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি এই কৃতি অ্যাথলিটকে, যিনি মন, মননে, চলায়, বলায়, দর্শনে, অর্জনে সত্যিই ছিলেন একজন গোল্ডেন গার্ল। স্যালুট প্রিয় অ্যাথলিট সুলতানা কামাল খুকি।

লেখক: ভিজিটিং সায়েনটিস্ট, এনাসটাসিয়া মসকিটো কন্ট্রোল, সেন্ট অগাস্টিন, ফ্লোরিডা, আমেরিকা ও সহযোগী অধ্যাপক (ডেপুটেশন), কীটতত্ত্ব বিভাগ, পবিপ্রবি, বাংলাদেশ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র