ইউরোপের সাতটি দেশের আদি উদ্যোগ

ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক, শাসক, নিয়ন্ত্রা সংস্থা ’ফিফা’ইংরেজিতে ‘ওয়ার্ল্ড  ফুটবল ফেডারেশন’ হলেও অফিসিয়ালি নামটি ফরাসি ভাষায় ‘‘দ্য ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি-ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সাতটি  ইউরোপিয়ান দেশ নিয়ে ১৯০৪ সালের ২১ মে ফিফার জন্ম প্যারিসে।

 প্রতিষ্ঠাতা সাত দেশের যে প্রতিনিধিরা জন্মলগ্নে ফিফার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তারা হলেন: রবার্ট গুঁই এবং আন্দ্রে এসপার (ফ্রান্স), লুই মুহলিঙহাম এবং ম্যাক্স ক্যান (বেলজিয়াম), লুডভিগ সাইলো (ডেনমার্ক), কার্ল অ্যানটন এবং উইলহেম হার্সম্যান (নেদারল্যান্ড), ভিক্টর স্কেনেইডার (সুইজারল্যান্ড), আন্দ্রে স্প্যারস (মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব, স্পেন) এবং লুভেগ স্পাইলো (সুইডেন)।

১৯৩২ সাল থেকে ফিফার স্থায়ী ঠিকানা প্যারিস থেকে চলে আসে সুইজারল্যান্ড। ১৯৭৯ সালের ২১ মে ফিফার ৭৫তম জন্মদিনে পুরনো বাড়ি ভেঙে ‘ফিফা হাউস’ নামে বিশাল কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে ১১, হিটজিওয়েগ, জুরিখ, সুইজারল্যান্ডে।

সুইজারল্যান্ড ছোট্ট দেশ। বাংলাদেশের পাঁচ-ছয়টির জেলার চেয়ে আয়তনে বড় হবে না দেশটি। সারা বিশ্ব জুড়ে সুইজারল্যান্ডের কদর নিসর্গ ও সৌন্দযের জন্য। চারদিকে তাকালে প্রাকৃতিক সুন্দরের আবেশে প্রাণ জুড়িয়ে যাবেই। আর দেখা যাবে দু পাশেই সবুজে মোড়া দিগন্তপ্রসারী মাঠ। অসংখ্য ফুটফুটে ছেলের দল রঙিন পোশাকে ফুটবল খেলছে। সেই দেশেই জুরিখ শহরের একটি উঁচু টিলার ওপর দাঁড়িয়ে আছে নবনির্মিত ফিফা হাউস। ফিফার প্রশাসন, ফিনান্স, প্রেস অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন, মেডিকেল, রেফারি, টেকনিক্যাল কমিটিসহ বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার আলাদা আলাদা দফতর রয়েছে নতুন ভবনের এক-একটি অংশে।

/uploads/files/YNCWk5rmhkXtwNJS22JnjdFe0ryd68f0EMCDjbQ2.jpeg

শতবর্ষের উত্তরণ ও প্রগতির রথে চড়ে সবকিছু বদলে গেলেও নামের সঙ্গে ফরাসি ঐতিহ্যটুকু রয়ে গেছে আর রয়েছে সাত প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একমাত্র ফরাসিদেরই বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডটি।

মাত্র সাতটি দেশকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ফিফার সদস্য সংখ্যা ২০০-র কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আর বিশ্বব্যাপী ফিফার অধীনে রেজিস্টার্ড ক্লাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় চার লক্ষ! আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারও ঘটেছে, ফিফার আদি উদ্যোক্তা ইউরোপের দেশগুলো হলেও গুরুত্বের দিক দিয়ে এগিয়ে এসেছে ল্যাটিন অ্যামেরিকান রাষ্ট্রগুলো। ল্যাটিন অ্যামেরিকাকে ছাড়া ফিফা কেন, ফুটবলকেই আজকাল আর ভাবা যায় না।

ফিফার উদ্দেশ্য ও আদর্শ হল, ফুটবল খেলার মাধ্যমে বিশ্বপরিবারকে এক ও ঐক্যবদ্ধ করে রাখা। নানা ভাষা, ধর্ম, অঞ্চল, সংস্কৃতি, বৈশিষ্ট্য ও বিভেদের মধ্যেও এই ফুটবল খেলার মাধ্যমেই বিশ্বপরিবারের সবাই কথা বলেন, যোগাযোগ রাখেন, একাত্ব হন। ‘সাহস ও ইচ্ছাশক্তি’, ‘টিম স্পিরিট’, ‘আত্মসংযম’ এবং ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা অর্জন করাই’ বিশ্বব্যাপী ফুটবলমৈত্রীর মূল কথা।

এই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার বিষয়টি ফিফার গঠনতন্ত্র ও কার্যক্রমে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ফিফা চায় ফুটবলের মাধ্যমে  জাতি-ধর্ম-সমাজব্যবস্থা-রাজনৈতিক আদর্শ নির্বিশেষে সকল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা আনতে এবং বন্ধুত্ব স্থাপন করতে। সেজন্য ফিফার গঠনতন্ত্রে ছোট-বড় সব দেশেরই মাত্র একটি ভোট। কারোরই একাধিক ভোটাধিকার নেই।

আপনার মতামত লিখুন :