বিশ্বকাপ ফুটবলের স্মৃতিময় দিনগুলো

মাহবুব আলম, অতিথি লেখক

  • Font increase
  • Font Decrease

 

বিশ্বকাপ ফুটবলের স্মৃতিময় দিনগুলোর উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ এখনো শিহরণ জাগায়। টিভি সম্প্রচারের হাত ধরে আমাদের চোখের সামনে তখন চলে আসেন এক ঝাঁক ফুটবল তারকা।

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে মাতামাতি, উৎসাহ বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শুরু হয় ছিয়াশি বিশ্বকাপ থেকে। টিভিতে খেলা দেখার প্রচলনও হয় সে সময়। সমর্থকদের মাতামাতি, উন্মাদনা, অন্যদলের সমর্থকদের টিটকারী দিয়ে ঝগড়ার শুরু হয় এই বিশ্বকাপ থেকেই।

টিভি তখন সুলভ ছিল না। তখন ঘরে বসে খেলা দেখার সুযোগ অনেকেই পায় নি। আমরা সে সময়  দলবদ্ধ হয়ে ক্লাব বা বাজারে বা কোন প্রতিষ্ঠানে খেলা দেখেছি।

এতে খেলা দেখার আনন্দ আরো বেড়ে যেতো। তখন নিজগ্রামে টিভি থাকলেও আমরা রাজশাহীর শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদে সোলাইমান ডাক্তারের ১৭ ইঞ্চি নিক্কন সাদাকালো টিভিতে  একসাথে খেলা দেখতাম। সেখানে সমর্থকরা অনেক সময় দল অনুযায়ী সাইড হয়ে বসে খেলা উপভোগ করতো। নিজ দলের গোল দেওয়া দেখে চিৎকার, হাততালি অপর দলের সমর্থকদের টিপ্পনী উসকানী দেওয়া হতো নিয়মিতভাবে।

এখনকার মতো তখনো মূলতঃ ব্রাজিল আর্জেন্টিনার সমর্থকই ছিল বেশি। পশ্চিম জার্মানি, ইটালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, হলান্ড এর সাপোটার ছিল অনেক কম।

ছিয়াশির বিশ্বকাপ থেকে আফ্রিকার দলগোলো ভালো ফুটবল উপহার দিতে থাকে। তবে এশীয়ার দলগুলো ভালো খেলতো না তখন পর্যন্ত। এ কারণে দর্শকদের পক্ষে নিজ মহাদেশের কোনো দলকে সমর্থন করার সুযোগ ছিল সীমিত।

ছিয়াশির বিশ্বকাপে সামান্য কয়েকজন তাদের সমর্থিত দলের পতাকা বানাতো। হাজার হাজার পতাকা আকাশে উত্তোলনের প্রতিযোগিতা তখনো শুরু হয় নি। বিশ্বকাপ খেলা, দল ও খেলোয়াড় সম্পর্কে তথ্য জানার একমাত্র মাধ্যম ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকার 'বিশ্বকাপ অ্যালবাম'। 

বিচিত্রা, রোববার অ্যালবাম বের করতো। সেখানে দল ও খেলোয়াড় পরিচিতির পাশাপাশি লোভনীয় রঙিন ছবি থাকতো। দৈনিক পত্রিকাগুলো তখন খেলার জন্য বেশি পৃষ্ঠা বরাদ্দ করতো না। ফলে সাপ্তাহিকগুলোই ছিল জানার একমাত্র মাধ্যম। 

 

আজকের দিনের মতোন ইন্টারনেট, নিউজপোর্টালের যুগ তখন ছিল না। বিশ্বকাপ ফুটবলের ব্যাপক তথ্যও ছিল মানুষের অজানা। শুধু একটি মিল তখনো ছিলো, এখনো আছে। তা হলো, খেলা নিয়ে টানটান উত্তেজনা, রোমাঞ্চ ও শিহরণ। 

 

লেখক, যুগ্ম সচিব, নির্বাহী কর্মকর্তা, গাজিপুর জেলা পরিষদ

 

আপনার মতামত লিখুন :