ক্যান্সারে আক্রান্ত স্যার রিচার্ড হ্যাডলি

অন্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত নিউজিল্যান্ডের সাবেক ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার স্যার রিচার্ড হ্যাডলি। যদিও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড থেকে জানিয়েছে, এখন তিনি বিপদমুক্ত।

সেই রিচার্ড হ্যাডলি, সাদা চুলের সুদর্শন। কথাবার্তায় প্রচন্ড বিনয়ী। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট চলাকালে মাঠে এসেছিলেন তিনি। পরিপাটি এ কিংবদন্তির কাছে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সাক্ষাৎকারের আবেদন জানালে, তিনি সানন্দে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছিলেন। ঢাকা থেকে নিউজিল্যান্ডে যাওয়া সাংবাদিকরা তার সাক্ষাৎকার নিয়ে, দলগত এবং ব্যক্তিগতভাবে ছবিও তুলেছেন। ব্যস্ততার মাঝেও হাসি মুখে বিদেশি সাংবাদিকদের আবদার মেটাতে একমুহূর্তের জন্যও কুণ্ঠা বোধ করেননি হ্যাডলি।

তার অন্ত্রের ক্যান্সারের খবর বুধবার আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দেখে আঁতকে উঠেছেন অনেকেই। দিব্যি সুস্থ একজন মানুষের শরীরে যে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি বাসা বেধেছে তা কেউ কল্পনাও করেননি। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড মিডিয়াকে জানিয়েছে, তাদের কিংবদন্তি সাবেক অলরাউন্ডারের শরীরে অস্ত্রোপচার করে টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। তিনি বিপদমুক্ত, কেমো নিলেই পুরোপুরি বিপদমুক্ত হবেন।

হ্যাডলি কি সত্যিই পুরোপুরি সস্থ হয়ে উঠবেন? ভাগ্য ভালো থাকলে হয়তো সুস্থ হয়ে উঠবেন। আবারও খেলার মাঠে দেখা যাবে তাকে। ৮০’র দশকের সেরা অলরাউন্ডার হ্যাডলি। নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে দেখা হয় তাকে। অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে স্যার ডন ব্র্যাডম্যান যেমন, কিউইদের কাছে স্যার রিচার্ড হ্যাডলিও তেমন সম্মানের।

এন্টি বডি লাইন, স্কিপারস ডায়েরি, রিদম সুইংসহ বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এর মধ্যদিয়ে প্রতিবাদ মুখোর হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ানদের অবজ্ঞার বিরুদ্ধে। যেটা পরবর্তীতে কাজেও দিয়েছে। হ্যাডলির উত্তরসূরীরা এখন সম্মানিত অজিদের কাছে। তিনি সুস্থ হন, দীর্ঘায়ু নিয়ে বেঁচে থাকেন ক্রিকেটে। সে কামনা কে না করে।  

হ্যাডলি কেন স্যার উপধি পেলেন, কেন তিনি কিংবদন্তি সে সম্পর্কে না লিখলেই নয়, ৮৬ টেস্ট ম্যাচ খেলে ৪৩১ উইকেট আর ৩ হাজার ১২৪ রান করেছেন। তার সময়ে তিনিই ছিলেন বিশ্বে টেস্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ১১৫ ওয়ানডেতে ১৫৮ উইকেট পেয়েছেন এ কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার। ওয়ানডে রান ১ হাজার ৭৫১। 

খেলা এর আরও খবর