উদ্বোধনী ম্যাচের ফেভারিট রাশিয়া

আর একটি সূর্যোদয় এবং অস্তগমনের অপেক্ষা, এরপরই বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠবে। একমঞ্চে প্রবেশ করবে পুরো বিশ্ব। বিশ্বে একমাস একদিন থাকবে ফুটবল ঈশ্বের দাপট। টাইমজোনের বিভেদ ভুলে, একসঙ্গে জেগে থাকবে বিশ্ব। উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিত কোনো দিকেই পুরোপুরি অন্ধকার হবে না। আলো জ্বলবে, টিভি পর্দায় চোখ রাখবে কোটিকোটি মানুষ। প্রিয় দলের সমর্থন দেবে ঘরে বসে, দেশের সীমানা অতিক্রম না করেও।

ব্রাজিল আর্জেন্টিনা, জার্মানির সমর্থক বিশ্বজোড়া। তাদের খেলোয়াড়রা সেটা ভালো করেই জানে। কিন্তু টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে, যাদের ম্যাচ দিয়ে যাত্রা করবে ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপ, সেই রাশিয়া-সৌদির সমর্থক কতজনই পাওয়া যাবে বিশ্বে? তবুও এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক। কারণ, রাশিয়া স্বাগতিক, আর সৌদি খেলছে এশিয়া থেকে। এরচেয়েও বড় বিষয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে তারা।

সুতরাং অপেক্ষার পালা শেষ। বৃহস্পতিবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব। দ্যা গ্রেটেটস্ট শো অন আর্থের একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও রেখেছে ফিফা। ৩০ মিনিটের এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ঢাকার সময় রাত ৯টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

বিশ্বকাপের প্রথম আয়োজন স্মরণীয় করে রাখতে জিততে মরিয়া থাকবে রাশিয়া। টুর্নামেন্ট জমাতে হলে স্বাগতিকদেরও অনেক দূর পর্যন্ত যেতে হয়। টিকে থাকতে হয় লড়াইয়ে। তারই মিশন শুরু করছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ বাদ দিলে স্বাগতিকরা বরাবরই ভালো করেছে। রাশিয়াকে নিয়েও তেমনই শঙ্কা করছে ফুটবল বিশ্ব। যদিও স্বাগতিকরা সে পথে হাঁটতে রাজি নয়। কিন্তু রেকর্ড বলছে, গত কয়েক আসরে রাশানদের বিশ্বকাপ রেকর্ড হতাশার। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। ১৬ বছর আগে তিউনিশিয়ার বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচ জিতেছে।

১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপে খেলা স্ট্যানিস্লাভ চেরচেসোভের অধীনে মাঠে নামছে স্বাগতিক শিবির। সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা ছন্দে নেই তারা। বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বলছে কোনো স্বাগতিক দলই উদ্বোধনী ম্যাচে হারেনি। সে দিক থেকে আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারে রাশিয়া। দলের ভরসা মিডফিল্ডার আলেকজান্ডার গোলোভিন ও চেলসির সাবেক তারকা ঝিরকোভ।

অপরদিকে,১২ বছর পর বিশ্বকাপের মাঠে নামছে সৌদি আরব। ১৯৯৪ সালে প্রথম অংশ নিয়ে নকআউট পর্বে উঠলেও বাকি তিন আসরে বাদ পড়েছে গ্রুপ পর্বে। বাছাই পর্বে দুর্দান্ত খেলে এশীয় অঞ্চল থেকে অস্ট্রেলিয়ার আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিলো তারা। বিশ্বকাপ মঞ্চে তাদের ভালো কোনো স্মৃতি নেই। সম্প্রতিক তারা হারের বৃত্তে।

উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সৌদি আরবের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার ক্ষমতা কতটুকু তাই দেখার বিষয়। রাশানদের বিপক্ষে সৌদি আরবের ভরসা হতে পারেন আল আবিদ,আল মাওয়াল ও আল শেহরি। রাশিয়ার সঙ্গে ১৯৯৩ সালেই কেবল একবার মুখোমুখি হয়েছিলো তারা। যেখানে রাশিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় সৌদি।

খেলা এর আরও খবর