ফাইনালে কে, ইংল্যান্ড নাকি ক্রোয়েশিয়া?

স্মৃতিকাতর হয়ে উঠেছেন তিনি। বয়স হয়েছে, তারপরও ৫২ বছর আগের দৃশ্যপট এখনো তরতাজা! সেরা অর্জনের সেই মুহুর্তগুলো ভুলবেনই বা কী করে। ১৯৬৬ সালে ইংলিশদের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক জিওফ হার্স্ট স্মৃতির বারান্দা ধরেই হাঁটছেন এখন। আর জানিয়ে রাখছেন, 'এবারের বিশ্বকাপটা ইংল্যান্ডই জিতবে।' বিশ্লেষকদের রায়েও এগিয়ে আছে তারা। তবে তার আগে বুধবার (১১ জুলাই) রাতেই ফাইনালে উঠার পথে কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাদের। প্রতিপক্ষ আরো চনমনে ক্রোয়েশিয়া। দেশটির সোনালী প্রজন্মের একঝাঁক ফুটবলার এরইমধ্যে ঝড় তুলেছে রাশিয়া বিশ্বকাপে। তাদের হাতেও শিরোপা উঠল কিছুতেই অবাক হওয়ার থাকবে না!

আরেকটি রুদ্ধশ্বাস ছড়ানো সেমিফাইনালের মঞ্চ তৈরি। বুধবার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষচারে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া। অল ইউরোপিয়ান এই সেমিফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়। সরাসরি দেখাবে বিটিভি, মাছরাঙা, নাগরিক টিভি,

সনি ইএসপিএন, সনি টেন টু ও সনি টেন থ্রি!

এই ম্যাচের বিজয়ী দল ১৫ জুলাই ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। যারা বেলজিয়ামকে হারিয়ে উঠে এসেছে সেরা দুইয়ে।

ম্যাচটা খেলার আগে ইতিহাসই বড় অনুপ্রেরণা দিচ্ছে ইংল্যান্ডকে। তাদের রয়েছে এর আগেও ফাইনালে খেলা আর ট্রফি জয়ের অভিজ্ঞতা। সেদিক থেকে পিছিয়েই আছে ক্রোয়াটরা। অবশ্য বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে প্রথমবার পা দিয়েই রীতিমতো বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল দেশটি। উঠে এসেছিল সেমিফাইনালে। তারপর ফ্রান্সের কাছে হেরে ফাইনালে খেলা হয়নি। তবে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ডেভর সুকাররা বুঝিয়েছিল, একদিন তারা ওই সোনার ট্রফিটি জিতবেই।

গোল্ডেন বুট জেতা সেই ডেভর সুকারেরই উত্তরসুরী লুকা মডরিচরা। গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনালে উঠে আসার পথে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েছে বলকান অঞ্চলের এই দেশটি। ইভান রাকিতিচ, মারিও মানজুকিচ, ইভান পেরিসিচরা আছেন দুর্দান্ত ফর্মে।

এমন একটা ম্যাচ খেলার আগে দারুণ আত্মবিশ্বাসী বিস্ময় জাগানিয়া দেশটি। ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ অবশ্য প্রতিপক্ষের গোল মেশিন হ্যারি কেইনকে নিয়ে ভাবছেন। যিনি এরইমধ্যে ৬ গোল করে রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তবে দালিচ মনে করেন তাকেও আটকানো যাবে। ‘এটা ঠিক হ্যারি কেইন দুর্দান্ত খেলছে। ওকে আটকানো কঠিন।  কিন্তু আমার দলের সেন্টারব্যাকরা এর আগে লিওনেল মেসিকে আটকে দিয়েছে। এমন কী ডেনমার্কের ক্রিশ্চিয়ান এরিকেসেনকেও ভয়ঙ্কর হতে দেয়নি। আশা করছি এবার কেইনকেও আটকে দেবো আমরা।’

প্রতিপক্ষের ভাবনার সঙ্গে নিজেদের ওপরও পুরো আস্থা আছে ক্রোয়াটদের। তার বিশ্বকাব এবার আর স্বপ্নভঙ্গ হবে না। দল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পেয়ে যাবে ফাইনালের টিকিট।

অবশ্য একইভাবে ভাবছে ইংল্যান্ডও। ১০ বছর পর নক আউট বাধা পেরিয়ে এখন শিরোপার সুবাস পাচ্ছে দল। দলটির কোচ গ্যারেথ সাউথগেট জানিয়ে রাখলেন, ‘এই বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি ইতিহাস গড়া হয়ে গেছে। ১০ বছরে প্রথমবার নকআউটের বাধা পেরিয়েছি আমরা। পেনাল্টিতে প্রথমবার বিশ্বকাপে জয় এসেছে। ছেলেরা প্রাণভরে উপভোগ করছে। আমি এটাই চাই। নিজেদের সেরাটা দিয়ে এভাবেই এগিয়ে যাও। সাফল্য আসবেই।’

ক্রোয়েশিয়ার মতো ইংল্যান্ডের দলটাও তারুন্যে ভরপুর। হ্যারি কেইনের সঙ্গে হ্যারি মাগুইরি, ডেলে আলি, রাহিম স্টার্লিং আর গোল পোস্টের নীচে প্রাচীর হয়ে আছেন জর্ডান পিকফোর্ড। অাবার হেড টু হেড-ও তাদের সাহস দিচ্ছে। দুই দলের দেখা হয়েছে ৭ বার। এরমধ্যে ৪বার জিতেছে থ্রি লায়ন্সরা। দুইবার ক্রোয়েশিয়া। আরেকটি ম্যাচ ড্র!

তবে এটাও ঠিক রাশিয়া বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত হল ক্রোয়েশিয়া। হারতেই ভুলে গেছে মরডিচরা। এই ভুলে যাওয়াটা ধরে রাখতে চায় আরো দুই ম্যাচ। ১৯৯৮-এর সাফল্য শুনে বড় হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার এই প্রজন্ম। এবার সময় নতুন ইতিহাস লিখতে চাইছে তারা। আর

হার্স্ট, ববি মুর, ববি চার্লটনদের স্পর্শের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন হ্যারি কেইনরা! তারাও গড়তে চায় নতুন এক রূপকথা!

খেলা এর আরও খবর