এশিয়াডের ফুটবলে বাংলাদেশের রূপকথা শেষ!

এম. এম. কায়সার, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশ ১ : উত্তর কোরিয়া ৩, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ১ : উত্তর কোরিয়া ৩, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ১ : উত্তর কোরিয়া ৩

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের রূপকথার গল্প ফুরাল!

জানাই ছিল উত্তর কোরিয়া বেশ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ম্যাচেও সেই প্রমাণই রাখল উত্তর কোরিয়া। জিতল ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে। প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে থাকা উত্তর কোরিয়া দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি ‘কিলার গোল’ করে বেশ সহজেই ম্যাচ জিতে নেয়।

এই ম্যাচে ‘যুদ্ধের’ কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। তবে পুরো ম্যাচের ৯০ মিনিটে বাংলাদেশের খেলায় এবং পরিকল্পনায় ‘যুদ্ধের’ কোনো ছাপ মেলেনি। যা মিলেছে তার নাম অপরিকল্পনা এবং অহেতুক বলের পেছনে দৌড়াদোড়ি!

ম্যাচের ইনজুরি টাইমে সাদউদ্দিনের গোলে ম্যাচে বাংলাদেশ একটা সান্তনাসূচক গোল পায়। পুরো ম্যাচে এটাই উত্তর কোরিয়ার পোস্টে বাংলাদেশের একমাত্র শট। আর সেই শটেই গোল!

৩-১ গোলের এই বড় হারে বাংলাদেশের এবারের এশিয়ান গেমস ফুটবলের মিশন শেষ হল। গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে কাতারকে হারিয়ে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে। স্বপ্ন দেখছিল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার। সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল!

সবচেয়ে বড় সমস্যা কোথায় বাংলাদেশ ফুটবল দলের? এই প্রশ্নে উত্তরটা খুব বেশি অজানা নয়।

সমস্যার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্রটা হল স্ট্রাইকিং জোনে। গোল করার মতো ফুটবলারই যে তেমন নেই দলে! জেনুইন এই স্ট্রাইকারের সঙ্কট বড্ড বেশি আরো স্পষ্ট হলো- উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে। বেশি না একটা উদাহরণ দিয়েই এই সমস্যার মাত্রাটা কত বড় সেটা বুঝিয়ে দেয়া যায়। ম্যাচের প্রথম নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পুরো সময়টায় উত্তর কোরিয়ার গোলপোস্টে একটা শটও নিতে পারেনি বাংলাদেশ!

শট নেয়ার মতো অমন স্ট্রাইকারই বা কই দলে?

বিরতির আগে ২-০ গোলে উত্তর কোরিয়ার এগিয়ে যাওয়ার পর এই ম্যাচে ফিরে আসতে বাংলাদেশ দলের প্রয়োজন ছিল একটা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ! কিন্তু গোটা ম্যাচে পরিকল্পিত আক্রমণের সেই আলো জ্বালাতেই পারেনি বাংলাদেশ। আর তাই ৩-১ গোলে হারের অন্ধকার নিয়েই শেষ হল ম্যাচটা।

ম্যাচের ১৩ মিনিটে প্রথম গোল পায় উত্তর কোরিয়া। বাম প্রান্তের আক্রমণ থেকে বাংলাদেশের ডি বক্সে ক্রস উড়ে আসে। সেই ক্রস হাত দিয়ে ঠেকিয়ে বড় ভুল করেন সুশান্ত ত্রিপুরা। রেফারি পেনান্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শট করে উত্তর কোরিয়াকে ম্যাচে এগিয়ে নেন কিম ইয়ুং সং। ম্যাচের শুরুতে গোল পেয়ে আরো উদ্বীপ্ত হয়ে উঠে উত্তর কোরিয়া। মাঝমাঠ থেকে বেশ কয়েকটি বিল্ডআপ গড়ে তোলে। এমনই একটি আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলটি প্রায় পেয়েই গিয়েছিল তারা। ভাগ্য ভালো বাংলাদেশের সাইডপোস্টে লেগে বল ফিরে আসে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণটা উত্তর কোরিয়া নিয়ে ফেলায় বাংলাদেশের কোনো প্রচেষ্টাই প্রতিপক্ষের থার্ডজোনের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি। ম্যাচের ৩১ মিনিটের সময় গোল শোধের একটা সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফ্রিকিক থেকে উড়ে আসা বলে মাথার পেছন দিক দিয়ে হেড দেন তপু বর্মন। তার সেই হেড পাশে দাঁড়ানো উত্তর কোরিয়ার এক ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে কিছুটা দিক বদলে দেয়। বল চলে যায় জালের ওপর দিয়ে। ব্যাস বাংলাদেশের জন্য গোলের সুযোগ বলতে পুরো ম্যাচে ওই একটাই!

ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটা খেল বাংলাদেশ পুরোপুরি রক্ষণভাগের ভুলে। ফাঁকায় দাঁড়ানো হুন ইয়ংকে মার্কে রাখতেই যেন ভুলে গেলেন আশেপাশে থাকা বাংলাদেশের তিন ডিফেন্ডার। পেছন থেকে বাড়ানো পাস ধরেই ইয়ং দেখলেন তার সামনে কেউ নেই। শুধু গোলকিপার! একা গোলকিপারকে পেয়ে প্রায় ফাঁকা পোষ্টে গোল করতে তেমন কষ্ট করতে হলো না হুন ইয়ংকে। ঘড়িতে তখন ম্যাচের সময় ৩৮ মিনিট।

তৃতীয় গোলের জন্য এককভাবে দায়ী ডিফেন্ডার তপু বমর্ন। ৬৯ মিনিটের সময় ডি বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন তিনি। সেই বল ধরে উত্তর কোরিয়ার জিম কং কোনাকুনি ভাবে পোস্টের একেবারে কাছে চলে যান। নিজে শট না নিয়ে তিনি মাইনাস করেন। আড়াআড়ি দাড়িয়ে থাকা বদলি খেলোয়াড় ক্যাং সেই বলে পা লাগিয়ে জালে পাঠান (৩-০)।

৩ গোলে পিছিয়ে থাকার পর বাংলাদেশ দু’জন বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণে তেজ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আক্রমণের জন্য যে পরিকল্পনা, যে সমন্বয় প্রয়োজন তেমন কোনোকিছুই যে বাংলাদেশ এই ম্যাচে করে দেখাতে পারেনি।

অহেতুক কিছু ফাউল এবং জার্সি ধরে টানাটানি করে ম্যাচে বাংলাদেশের পাঁচ ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেন।

আপনার মতামত লিখুন :