মুহম্মদ নূরুল হকের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মুহম্মদ নূরুল হক। ফাইল ছবি।

মুহম্মদ নূরুল হক। ফাইল ছবি।

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সিলেট: গ্রন্থাগার আন্দোলনের পথিকৃত, ভাষা সৈনিক, সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সম্পাদক এবং মাসিক আল ইসলাহ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক মরহুম মুহম্মদ নূরুল হকের আজ (২ সেপ্টেম্বর) ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী। নুরুল হক ১৯০৭ সালের ১৯ মার্চ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হাজী মুহম্মদ আয়াজ ফার্সি সাহিত্যে পারদর্শী ছিলেন।

সাহিত্য সাধনার নিরলস কর্মী মুহম্মদ নুরুল হক সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসায় অধ্যয়নকালে প্রথমে‘অভিযান’ নামে একটি হাতে লেখা পত্রিকা বের করেন। ১৯৩১ সালে এই পত্রিকাই ‘মাসিক আল ইসলাহ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে মুদ্রিত আকারে বের হয়। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি বাংলা ও আসাম অঞ্চলের সাহিত্য চর্চায় যুগান্তকারী অবদান রাখেন। তিনি প্রায় অর্ধশতাব্দীরও অধিককাল আল ইসলাহ প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন।

১৯৩৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নূরুল হকের আগ্রহ ও ব্যাপক প্রচেষ্টায় এবং স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কথা সাহিত্যিক সরেকওম এ,জেড আব্দুল্লাহর বাস ভবনে এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ‘সিলহেট মুসলিম সাহিত্য সংসদ’এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। সভায় খান বাহাদুর দেওয়ান একলিমুর রেজা চৌধুরীকে সভাপতি, সরেকওম এ জেড আব্দুল্লাহকে সম্পাদক এবং আল ইসলাহ সম্পাদক মুহম্মদ নূরুল হকসহ দশজনকে সদস্য করে সর্বমোট ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বার্ষিক অধিবেশনে নূরুল হক সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। তিনি অর্ধশতাব্দীকাল নিজ মেধা, শ্রম ও একাগ্রতা নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদকে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগারে রূপ দিয়ে যান। বহু প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে সাহিত্য সংসদকে তিনি দেশের একটি উল্লেখযোগ্য মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেন।

মুহম্মদ নূরুল হককে সাহিত্য ও সমাজসেবায় স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, বাংলা একাডেমিসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠন পদক ও সম্মানে ভূষিত করে। তিনি মরহুম আমীনুর রশিদ চৌধুরী স্মৃতি স্বর্ণপদকও লাভ করেন। নূরুল হক ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সরকার থেকে তমঘা-ই-খেদমত উপাধি লাভ করেছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি এই উপাধি পরিত্যাগ করেন। তিনি সিলেট বেতারের জন্মলগ্ন থেকে নিয়মিত কথক ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে মুহম্মদ নূরুল হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নীরব সমাজকর্মী মরহুম মুহম্মদ নূরুল হক একজন দক্ষ সাহিত্য সংগঠক, আল ইসলাহ সম্পাদক, ভাষা সৈনিক কিংবা গ্রন্থাগার আন্দোলনের পথিকৃৎ-ই ছিলেন না, একজন সৃজনশীল লেখক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। তার ৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য সাধনার নিরলস কর্মী প্রচার বিমুখ এই বিরল ব্যক্তিত্ব ১৯৮৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরের পায়রা-৫৪, ঝরনার পারস্থ তার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।