রুপালি ইলিশের আশায় হতাশ জেলেরা

মানজারুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ইলিশের আশায় নদীতে নৌকা ভাসিয়ে হতাশ হচ্ছে খুলনার জেলেরা। ছবি: বার্তা২৪.কম

ইলিশের আশায় নদীতে নৌকা ভাসিয়ে হতাশ হচ্ছে খুলনার জেলেরা। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা: রুপালি ইলিশের আশায় নদীতে নৌকা ভাসিয়ে হতাশ হচ্ছে খুলনার জেলেরা। খুলনার বটিয়াঘাটার শৈলমারি, কাজিবাছা, পানখালী আর পশুর নদীর একাংশে ইলিশ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে শতাধিক জেলে পরিবার। গত বছর এমন সময়ে এ নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পরেছিল, কিন্তু এ বছর আশানুরূপ ইলিশ ধরা না পরায় জেলেদের অনেক কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

জেলেদের ধারণা, নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে ইলিশের উৎপাদন কম হচ্ছে। এছাড়া সাগরের সঙ্গে পানি প্রবাহ কম হওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে জালে ইলিশ ধরা পরছে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/04/1536040504795.jpg

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) কাজিবাছা নদীতে ইলিশের জাল ফেলতে ফেলতে জেলে সুদির রায় বলেন, ‘প্রতিদিনই জোয়ারের সময় জাল নিয়ে ইলিশ ধরতে নাও ভাসাই। ৪-৫ ঘণ্টা ধরে জাল বেয়ে মাত্র ২টা মাছ পাইছি। আমি বিশ বছরের বেশি সময় ধরে এ নদীতে মাছ ধরি। এ বছরের মতো কম ইলিশ কখনো পাই নাই।’

আরেক জেলে সঞ্জয় বলেন, ‘ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে যে মাছ পাই তাতে তেলের পয়সাও ওঠে না। তাই ঘাটে বসে অলস সময় কাটাই।’

বটিয়াঘাটার নদী থেকে যে ইলিশ ধরা হচ্ছে তার ওজন ৩০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে। জেলেরা প্রতি কেজি ছোট ইলিশ বিক্রির জন্য ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা আর বড় সাইজের ইলিশ ৭০০ থেকে হাজার টাকা দাবি করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/04/1536040539342.jpg

সামনে ইলিশ ধরার উপরে নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়ে চিন্তিত অনেক জেলে পরিবার। এমনিতেই প্রতি মৌসুমের তুলনায় এবার অনেক কম ইলিশ ধরা পরছে। তার উপরে নিষেধাজ্ঞার সময়ে পুরোপুরি মাছ ধরা বন্ধ থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে বলে জানান জেলেরা। সরকারি জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও অনেকেই কোনো সাহায্য পাননা বলে অভিযোগ রয়েছে।

বটিয়াঘাটা উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন জানান, প্রাকৃতিক কারণে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়াসহ মিষ্টি পানি প্রবাহ কমেছে। তাই এ অঞ্চলে ইলিশের উৎপাদন অনেকটা কমে গেছে। অনেক নদী ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে বিধায়ও ইলিশের বিচরণ কম হচ্ছে। কিন্তু ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের মধ্যে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খাদ্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :