বেশ জমজমাট মৌসুমি এই চারার হাট



নূর আহমদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সিলেটের গোয়াইনঘাটে। ছবি: বার্তা২৪.কম

সিলেটের গোয়াইনঘাটে। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট: বর্ষার শেষ আর শরতের শুরুর দিকে গাছের মৌসুমি চারার হাট বসে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের প্রেসক্লাবের সম্মুখে। এ বছরও হাট বসেছে সেখানে। গাছ প্রেমিক ক্রেতারা সব সময়ই ছুটে আসেন এই হাটে। সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে খুটে খুটে সংগ্রহ করেন নানা প্রজাতির গাছ।

হাটে ৫ থেকে ৭ জন বিক্রেতা গাছের চারা নিয়ে বসে থাকেন। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনই ভালোই বিক্রি হয় ফলদ ও বনজ গাছের চারা।

এদিকে বর্ষার মৌসুম চলে গেলেও এখনো সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারিতে উৎপাদিত চারার বেচাকেনা বেশ জমজমাট এই হাটে।

সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর এবং সিলেটের বিভিন্ন নার্সারিতে উৎপাদিত চারাগাছ বিক্রি করার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই হাটে নিয়ে আসেন। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই চারার হাট। রেইনট্রি, মেহগনি, চাম্বল, আকাশমনি, কড়ই, সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ চারা এই হাটে বেচাকেনা হয়। এছাড়া আমড়া, পেয়ারা, আমলকি, জলপাই, বড়ই, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারি, আম, জাম, লিচু, সফেদা, কমলা, মাল্টা, লেবুসহ ২০-২৫ প্রজাতির চারার বাজারও বেশ ভালো।

গাছ কিনতে আসা লনি গ্রামের আসদ্দর আলী বলেন, ‘গাছ লাগালে তো আর ক্ষতি নেই, তাই বছর এলেই ১৫ থেকে ২০টি গাছ নিয়ে লাগাই। বিশেষ করে ফলজ গাছ আমার পছন্দ। এতে মৌসুমি ফলের জন্য বাজারে যাওয়া লাগে না। পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিক্রিও করা যায়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/09/1536475013166.jpg

তোয়াকুল গ্রামের আব্দুশ শহীদ জানান, পুকুরের পাড়ে জায়গা খালি পড়ে আছে, তাই গাছের চারা কিনতে এসেছেন। দ্রুত বর্ধনশীল কয়েকটি গাছের চারা তিনি কিনেছেন।

চারা গাছ বিক্রেতা রুহুল আমিন জানান, প্রতিবছর বৃষ্টির মৌসুমে চারা নিয়ে আসেন এই অস্থায়ী হাটে। লোকজন প্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিনই উপজেলা সদরে আসেন। অনেকেই যাওয়ার সময় ২ থেকে ৪টি গাছের চারা নিয়ে যান। আবার কেউ কেউ এক সঙ্গে ৫০ থেকে ৬০টি গাছেরও অর্ডার দেন। অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীরাও এসে দু’একটি গাছ নিয়ে যায়।

জৈন্তাপুর উপজেলা দরবস্ত এলাকায় রুহুল আমিনের নিজের একটি নার্সারি রয়েছে।

গোয়াইনঘাট সারি রেঞ্জের বন কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা গোয়াইনঘাট। এখানে অনেক নার্সারি রয়েছে। বন বিভাগেরও ভূমি রয়েছে। এলাকার মানুষ গাছ লাগাতে বেশ উৎসাহী। ফলে মৌসুম এলেই উপজেলা সদরের অস্থায়ী চারার হাট বেশ জমে উঠে।