পুকুর-দীঘির শহরে নেই সাঁতার শেখার সুযোগ!

নূর আহমদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পুকুর-দীঘির শহরে নেই সাঁতার শেখার সুযোগ। ছবি: বার্তা২৪.কম

পুকুর-দীঘির শহরে নেই সাঁতার শেখার সুযোগ। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট: পুকুর-দীঘির শহর সিলেটে শিশুদের জন্য সাঁতার শেখার সুযোগ নেই বললেই চলে। নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হয় না এই বিষয়টিকে। অথচ এক সময় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অন্যান্য খেলার সঙ্গে রাখা হত এই সাঁতার ইভেন্ট। তবে পুকুর না থাকায় সাঁতার ইভেন্টটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি অভিবাবকসহ সংশ্লিষ্টদের।

দেড় যুগ আগেও নগরীর মাছুদীঘিরপার ছাড়াও আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা ‘মাছুদীঘিতে’ গোসল করত। এলাকার প্রতিটি ঘরের শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীর সাঁতার শিক্ষা রপ্ত ছিল। আগের চেয়ে জনসংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। দিনে দিনে হারিয়ে গেছে বাসিন্দাদের সন্তানদের সাঁতার সেখানোর সুযোগ। বর্তমানে দীঘির দুই তৃতীয়াংশ ভরে গেছে জঞ্জালে। এক সময় শুধুমাত্র মাছুদীঘিরপার নয়, কুয়ারপার, বিলপাড়, সাগরদিঘীরপাড়, লামাবাজার, দাড়িয়াপাড়া, চারাদিঘীর পারের লোকজন দীঘি বা পুকুরে গোসল করত, সাঁতার কাটত। এখন পুরো সিলেট নগরীর চিত্র একই রকম। পুকুর নেই বললেই চলে।

ওসমানী হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক শিব্বির আহমদ জানান, সাঁতার একটি অন্যতম শরীরচর্চা। যেসব শিশু ঘরে বসে বসে ঘাড় গুঁজে পড়াশোনা করে, কম্পিউটার আর মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারা দিন দিন মোটা হয়ে যাচ্ছে। আর শিশুরা মোটা হলে শরীরে রোগ বাসা বাঁধে। মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে অল্প বয়সী শিশুরা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

মাছুদীঘির পাড় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আফজল হোসের জানান, তার তিন সন্তানসহ বাড়ির অন্তত দশ থেকে পনেরটি শিশু সাঁতার শিখতে পারেনি। এ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছে তাদের পরিবার।

শিশু কিশোরদের সাঁতার শেখানোর জন্য পুকুরের মতো সিলেটে পর্যাপ্ত পরিমাণে সুইমিংপুলেরও সংকট রয়েছে। নগরীতে প্রায় পঞ্চাশটির মতো আবাসিক হোটেল থাকলেও কয়েকটি অভিজাত হোটেল ছাড়া সুইমিংপুলও নেই সবখানে। হাতেগোনা যে কয়টিতে আছে, সেগুলোতে গিয়ে সন্তানদের সাঁতার শেখানোর সময় নেই অভিভাবকদের।

পুলিশ লাইন স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম জানান, শিক্ষার্থীদের অনেকেই সাঁতার জানে না। তাছাড়া, সাঁতার শেখার মতো উপযুক্ত পুকুরও সিলেটে নেই। ফলে স্কুলগুলো থেকে সাঁতার প্রতিযোগিতার আগ্রহটাও হারিয়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছে শিশুরা।

পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তানের কর্মী শুয়াইবুল হাসান জানান, পানিতে ডুবে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলছে। অথচ দশ থেকে পনের বছর আগেও সিলেট নগরীর প্রতিটি বাড়ির প্রাঙ্গণে অথবা পেছনে পুকুর ছিল। শিশুদের সাঁতার শেখার সুযোগ একেবারেই সংকুচিত হয়ে আসছে। তার দাবি এক কোটি মানুষের সিলেট নগরীতে ৫০টি পুকুর খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার হোটেল নির্ভানা ইন এর কর্ণধার তাহমিন আহমদ জানান, ২০১৩ সালের দিকে সেখানে শিশুদের সাঁতার শিখানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই উদ্যোগ বেশ সাড়া ফেলে সচেতন মহলে।

তাহমিন আহমদের দেয়া তথ্য মতে, ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার শিশু তাদের কাছে এসে সাঁতার শিখেছে।

একইভাবে সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা রেখেছে আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও কমপ্লেক্সের পাশের গার্ডেন ক্লাবে।