ভারত মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ২১ কোটি টাকা স্কলারশিপ দিয়েছে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের স্কলারশিপের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ছবি: বার্তা২৪

মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের স্কলারশিপের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশিপ প্রকল্পের আওতায় ১২ হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রীকে ২১ কোটি টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সিলেটে ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে সিলেট বিভাগ ও কিশোরগঞ্জ জেলার ২ হাজার ১৬ জন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের হাতে স্কলারশিপের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান।

হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বৃত্তি প্রকল্পের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সিলেট হযরত শাহজালালের পবিত্র ভূমি। এই সুন্দর সিলেট অঞ্চলে আমি অনেকবার ভ্রমণ করেছি। সিলেটের চা বাগান আমার নিজ শহর দার্জিলিংয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দুই দেশের এক পবিত্র বন্ধন। এই মহান জাতির পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় চরম কষ্ট সহ্য করেছেন। বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্ম তাদের অবদানের প্রতি চিরঋণী।

ভারত সরকার এই ভূমির বীর ‘পুত্র-কন্যাদের’ আত্মদানকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্মরণে এবং দেশের একটি উন্নত ভবিষ্যতের লক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের অমূল্য অবদানকে সম্মান জানাতে কয়েকটি কল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল মুক্তিযোদ্ধার জন্য পাঁচ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা, অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতে সশস্ত্র বাহিনীর হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা, নতুন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান বৃত্তি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড আয়োজিত বিজয় দিবস উদযাপনে অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেক বছর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রতিনিধিদলকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তিনি বলেন, ভারত সরকার ২০০৬ সালে প্রথম মুক্তিযোদ্ধা বৃত্তি প্রকল্পটি চালু করেছিল এবং ২০১৭ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দেন। এই প্রকল্পগুলো একত্রিত হলে, ভারত সরকারের মোট ৫৬ কোটি টাকা ব্যয় করবে। ভারত সরকার স্নাতক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে অধ্যয়নরত মুক্তিযোদ্ধা উত্তরাধিকারীদের শিক্ষা সহায়তা হিসেবে বৃত্তি প্রদান করে। এ বৃত্তি প্রকল্প থেকে ২১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ভারতের সরকারের ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ এবং 'প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা' ও ‘ডিজিটাল ভারত’-এর মতো কিছু ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প অনুযায়ী এই বৃত্তি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ভারতের সরকারের এই প্রকল্পগুলোর মতো পরের বছর হতে বৃত্তির পরিমাণ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি হস্তান্তর করা হবে। এই প্রকল্পসমূহের লক্ষ্য সুবিধাভোগীদের শ্রম লাঘব ও এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। গত কয়েক বছরে আমাদের দুই মহান দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের পর যে উন্নয়ন হয়েছে সেগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছিটমহল সমস্যাসহ দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত স্থল ও সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি, মহাকাশ, তথ্য প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, সাইবার নিরাপত্তা এবং বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির মতো উচ্চতর প্রযুক্তি ক্ষেত্রসহ ৯০টিরও বেশি চুক্তি সম্পাদন, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২৮.৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত, ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, গত বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১১৫% বৃদ্ধি পেয়ে ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত, ভারতীয় বিনিয়োগ ৩ বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি (আসন্ন বিনিয়োগসহ), বর্তমানে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণচুক্তি বাস্তবায়ন) ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভৈরব ও তিতাস সেতু নির্মাণ, অতিরিক্ত ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইনসহ ১৬টি উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্পের উদ্বোধন, নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মকর্তার ভারতে প্রশিক্ষণ, ১ হাজার ৫শ’ বাংলাদেশি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান তিনগুণ বৃদ্ধি (২০১৫ সালে ৫ লাখ থেকে ২০১৭ সালে ১৪ লাখে উন্নীত) মুক্তিযোদ্ধা, জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও মহিলা আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ২০১৭ সালে ঢাকা-খুলনা-কলকাতা বাস সার্ভিস ও খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস চালু, ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস-এর প্রান্তিক কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন সেবা।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’দেশের সম্পর্কের বর্তমান সময়কে ‘সোনালী অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন বলে জানান তিনি।

ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়েছে সেগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এর আগে এই সপ্তাহের ১০ সেপ্টেম্বর, ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে কুলাউড়া-শাহবাজপুর বিভাগের রেলপথের পুনঃনির্মাণে কাজের উদ্বোধন করেন। এই রেলপথ পুনঃস্থাপনে আসামের করিমগঞ্জ জেলার সঙ্গে এবং ভারতের অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে সরাসরি সংযুক্ত করবে।

এসময় তিনি সিলেটে সহকারী হাইকমিশন অফিস চালুর কথা উল্লেখ করে বলেন,  আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে সহকারী হাইকমিশনের কাজ শুরু হবে। এতে সিলেটবাসীকে দ্রুত ভিসা প্রদান করা সম্ভব হবে।

এসময় তিনি বৃত্তিপ্রাপ্তদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সফল শিক্ষাজীবন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :