টাকার কাছে বিক্রি, খুন হতে হল আফরোজাকে



ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বায়ে গ্রেফতারকৃত জসিম, ডানে পাইতা। ছবি: বার্তা২৪.কম

বায়ে গ্রেফতারকৃত জসিম, ডানে পাইতা। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়া: এমনও দিন যায় যেদিন মনিকার বাবা ঘরে ফেরে না, ফিরলেও রাত ভোর হয়। বাঁশের ঝাড় বিক্রি করেই চার সদস্যের সংসার চালায় আব্দুল মান্নান। দুই মেয়ে মনিকা ও মিম। মনিকার বয়স ১৪ আর মিমের ৫। একদিকে মনিকা দেখতে বেশ সুন্দর, অন্যদিকে এক গরিব বাবার মেয়ে সে।

এ কারণে লোভের দৃষ্টি ফেলে প্রতিবেশী জসিমের ছেলে মোহন। সুযোগ বুঝে মনিকার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মোহন। ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। প্রভাবশালী জসিম ছেলের অপকর্ম টাকা দিয়ে স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করে। কিন্তু মনিকার মা তাতে রাজি হয় না। মনিকার বাবা থানায় মামলা করলে জসিমের ছেলে মোহনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মোহনের বয়স ১৬ হওয়ায় তাকে আদালতের নির্দেশে পাঠানো হয় যশোর কিশোর সংশোধনাগারে। আর এ কারণেই জসিম ক্ষুব্ধ হয় মনিকাদের পরিবারের ওপর। তারাও বিষয়টি বুঝতে পেরে মনিকাকে পাঠিয়ে দেয় তার নানার বাড়িতে।

এদিকে মোহনের বাবা জসিম মনিকার মা আফরোজাকে খুন করার জন্য পরামর্শ করে একই গ্রামের বাচ্চু ওরফে পাইতা, আমিনুর ওরফে আনু এবং আতিকুরের সঙ্গে। মনিকার মা আফরোজাকে খুন করতে পারলে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দিতে চায় মোহনের বাবা জসিম। ধর্ষণের চেষ্টা মমলার প্রধান সাক্ষী ছিল বাচ্চু ওরফে পাইতা। বাচ্চুর ছিল মনিকাদের বাড়িতে অবাধ যাতায়াত। তাকে বিশ্বাস করত আফরোজা ও তার স্বামী। মান্নানের অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের দেখভাল করত বাচ্চু ওরফে পাইতা। কিন্তু এক লাখ টাকার লোভে পাইতা হাত মেলায় জসিমের সঙ্গে। আফরোজাকে খুন করার পরিকল্পনায় সায় দেয়।

এদিকে গত বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতেও ঘরে ফেরেনি মনিকার বাবা মান্নান। পাশের গ্রামে বাঁশ ঝাড়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। আফরোজা ছোট মেয়ে মিমকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত ১১টার পর ওরা চারজন মনিকাদের ঘরের দরজার টিন কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর বাচ্চু ওরফে পাইতা আফরোজার পা শক্ত করে ধরে। জসিম মাথা চেপে ধরে। আতিকুর মুখ চেপে ধরে। আর আমিনুর ধারালো ছুরি দিয়ে আফরোজাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরদিন সকালে ছোট মেয়ে মিম প্রতিবেশীদের ডেকে বলে তার মার গলা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। এরপর প্রতিবেশীরা খবর দেয় পুলিশে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ৫ বছরের মেয়ে মিম ছাড়া আর কেউ ছিল না এ ঘটনার সাক্ষী। মিমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ বাচ্চু ওরফে পাইতাকে গ্রেফতার করে। এরপর অকপটে খুনের ঘটনা স্বীকার করেন পাইতা। পরে গ্রেফতার করা হয় জসিমকে। কিন্তু খবর পেয়ে আত্মগোপন করে অপর দুইজন। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দেয় তারা দুজন।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আশরাফ আলী ভুঞা জানান, গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বর্ননা দিয়ে খুনের দায় স্বীকার করেছে। এ ঘটনার সময় আফরোজার ছোট মেয়ে মিমের ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু খুনিরা তাকে হত্যা করেনি। মিমি বেঁচে যাওয়ায় পুলিশকে অনেক তথ্য দিয়েছে। খুব শিগগিরই খুনের সঙ্গে জড়িত অপর দুজনকে গ্রেফতার করা হবে।