ছোট হয়ে আসছে বানারীপাড়ার ভাসমান ধানের হাট

সিদ্দিকুর রহমান, ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট
বানারীপাড়ার ভাসমান ধানের হাট। ছবি: বার্তা২৪.কম

বানারীপাড়ার ভাসমান ধানের হাট। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল: কেউ দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ধান মাপছে, কেউ বস্তায় ভরছে, কেউ খোশগল্প করছে, কেউ বা আবার দরকষাকষিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এসব কিছুই বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিমপাড়ে দান্ডয়াটের ভাসমান ধানের হাটের চিত্র।

তবে পূর্বের তুলনায় বর্তমানে বাজারের পরিধি ছোট হয়েছে। নানা কারণে দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ী, কৃষক ও মহাজনরা ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

গ্রাম থেকে ধান সংগ্রহ করে সেগুলো নিয়ে আসা থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে যে দামে বিক্রি হয় তাতে লাভের পরিমাণ খুবই কম। আবার মাঝে মাঝে নিম্ন মানের ধান থাকায় লোকসান দিয়েও বেচাবিক্রি করতে হয় বলে জানিয়েছে মহাজনরা।

শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ভাসমান ধানের হাট ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক থেকে মহাজন পর্যন্ত সকলেই ধান কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছে। রৌদ্রের খরতাপে ক্লান্তি চলে আসলেও জীবিকার তাগিদেই বিরতিহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/15/1537006430585.jpg

মহাজন রহমান গাজী বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে এই হাটে নিয়ে আসি। আর সপ্তাহে দুদিন (শনি ও মঙ্গলবার) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ হাট বসে। এছাড়াও প্রায় শতাধিক ট্রলার ও নৌকায় বিভিন্ন স্থান থেকে ধান বিক্রি করতে আসে মহাজন-কৃষকরা।’

তিনি জানান, ধানের হাটে আউশ ধান প্রতি মণ ৫২০ থেকে ৬০০ টাকা এবং শুকনা ভোজন ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া এই হাটে প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মণ ধান বিক্রি হয়। তবে বেচাবিক্রি বেশি হলেও লাভ থাকে সীমিত।

এ সময় আক্ষেপের সুরে রহমান গাজী জানান, এক সময় দান্ডয়াট থেকে শুরু করে রায়েরহাট পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার জুড়ে নদীতে ভাসমান অবস্থায় হাজার হাজার নৌকায় ধান-চালের হাট বসত। কিন্তু এখন সবই স্মৃতি। তবে বেচাবিক্রির যা অবস্থা, কদিন পর এই হাট থাকবে কিনা সেটাও এখন ভাবার বিষয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/15/1537006460980.jpg

দান্ডয়াটের কুটিয়ালি (ধান কিনে চাল করে বিক্রি করেন) আব্দুস ছত্তার (৬০) জানান, বানারীপাড়ার এই হাটটি ছিল দেশের ঐতিহ্য। ছোট বেলায় যা দেখেছেন, এখন তার ১ ভাগও নাই। সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন তারা। এর ফলে অনেকেই এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে।

এ সময় তিনি আরও জানান, সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ পাওয়া যায় না। তাই অতিরিক্ত সুদে স্থানীয়দের কাছ থেকে ধার নিতে হয়। এর ফলে ব্যবসা করে যা আয় হয়, তার অর্ধেকের বেশি টাকা সুদ বাবদ দিতে হয়।

আপনার মতামত লিখুন :