শ্যালক-দুলাভাইয়ের আগাম সবজি চাষ

ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শ্যালক-দুলাভাইয়ের আগাম সবজি চাষ। বার্তা২৪.কম

শ্যালক-দুলাভাইয়ের আগাম সবজি চাষ। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শ্যালক-দুলাভাই মিলে অন্যের জমি লিজ নিয়ে গত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। এতে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি জেলার অর্থনৈতিক উন্নতিতে ব্যাপক অবদান রাখছেন তারা। তাদের উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

বলছিলাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের শীবরাম এলাকার চাষি নুরল ও জহুরুল হকের কথা।

তারা জানান, সাড়ে তিন একর জমি ৭০ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে সারা বছর বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেন তারা। আর সবজির কদর সব সময় থাকে। তবে তা আগাম চাষ করতে পারলে আরও বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষ করা সম্ভব। তাই তারা শীতকালীন সবজির বাজার ধরতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা রোপণ করেছেন। কার্তিক মাসের শেষ দিকে তাদের সবজি বাজারে যাবে। এ জন্য নার্সারি থেকে সবজির চারা সংগ্রহ করে ২০ থেকে ২৫ দিন আগে রোপণ করেছেন। তাদের সাড়ে তিন একর জমিতে প্রায় ৩৫-৩৮ হাজার কপির চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি চারার পেছনে তাদের খরচ হয় প্রায় ৫-৭ টাকা। আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি কপি ক্ষেতেই বিক্রি হবে ১৫-২০ টাকা মূল্যে। এ কপি ক্ষেত থেকে মাত্র তিন মাসে সাড়ে তিন থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন তারা। এ সবজির পাশাপাশি লাউ, বেগুনসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/01/1538384210328.jpg

এদিকে শ্যালক-দুলাভাইয়ের সবজি বিপ্লব দেখে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে চাষির সংখ্যা। বড়বাড়ি ব্লোকেই রয়েছে প্রায় অর্ধশত সবজি চাষি। যারা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষ করে।

ওই এলাকার চাষি কামাল ও মহিদুল ইসলাম জানান, সবজির চারা রোপণের আগে বেড করে কিছু দিন রাখা হয়। এতে কপির চারা রোগ বালাই প্রতিরোধের ক্ষমতা সঞ্চয় করে এবং গাছগুলো সবল হয়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন তারা। তবে এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় তাদের নিজের চারাগুলো নষ্ট হয়নি। ফলে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হবে।

শুধু বড়বাড়ি এলাকায় নয়, জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি চাষ হচ্ছে। আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি, সারপুকুর, ভেলাবাড়ি, দুর্গাপুর, সদর উপজেলার বড়বাড়ি, গোকুন্ডা, মোগলহাট, মহেন্দ্রনগর, কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা, মদাতি, চন্দ্রপুর, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, ভেলাগুড়ি, সিংগিমারী, টংভাঙ্গা এবং পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ও কুচলিবাড়ি ইউনিয়নে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের সবজি। শীতের শুরুতে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকাসহ সারা দেশে যাবে এ জেলার সবজি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/01/1538384239145.jpg

কমলাবাড়ি গ্রামের সবজি চাষি করিম মিয়া জানান, সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে মুলার বীজ বপন ও কপি চারা রোপণ করবেন তিনি। কপির চারা রোপণের পর ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে ফসল বাজারে নেয়া যায়। এ বছর তিন বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গত বছর এ জেলায় ৬ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি চাষ হয়েছে। চলতি বছর সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে চলতি সপ্তাহে প্রায় এক হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে রবি ১৮-১৯ জাতের আগাম সবজি চাষ হয়েছে। এটা রোপণ, বপন চলবে মার্চের মধ্যবর্তী পর্যন্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/01/1538384281016.jpg

লালমনিরহাট সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, চাষিরা যে ফসলে মুনাফা পায়, সেটাতে ঝুঁকে পড়ে। শুধু এ জেলায় নয়, সারা দেশে সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই চাষিরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় আগাম সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিদু ভূষণ রায় জানান, কৃষি বিভাগের লোকজনের নিয়মিত মনিটরিংয়ে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ায় চাষিদের মুনাফাও বেড়েছে কয়েকগুণ। চাষিরা এখন বাণিজ্যিক ভাবে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষাবাদ করে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

আপনার মতামত লিখুন :