ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছেন না লিপি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
লিপি আক্তার। ছবি: বার্তা২৪.কম

লিপি আক্তার। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নাম লিপি আক্তার। ছোট থেকেই মেধাবী। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। অনেক কষ্টে পড়ালেখা করে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছেন না। ঢাবির খ-ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে ১৮৩৮ তম স্থানে রয়েছেন তিনি।

লিপি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের মৃত আজিজার রহমান ও রহিমা বেগমের মেয়ে। এক ভাই, দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

এদিকে ২০০৫ সালে নাটোরে কর্মরত থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন লিপি আক্তারের বাবা। লিপির বাবা আজিজার রহমান ছিলেন (আনসার) ভিডিপির সদস্য। লিপি তখন ক্লাস ওয়ানে পড়তেন। ওই সময় মা রহিমা বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। সেই থেকে অনেক কষ্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সংসার চালান তিনি। ৫ শতক জমির উপর বসত-বাড়ি ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি নেই তাদের। এ অবস্থাতেও সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন তিনি।

অদম্য মেধাবী লিপি খাতুন হাতীবান্ধা শাহ গরিবুল্য মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ ও হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

লিপি আক্তার বলেন,‘শিক্ষকদের সহযোগিতায় পড়াশোনা করেছি আমি। এবার ঢাবিতে খ ইউনিটে ১৮৩৮ তম স্থান পেয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু ভর্তিসহ পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার মতো সামর্থ্য আমার মায়ের নেই। কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি আমাকে সহযোগিতা করলে আমি ঢাবিতে পড়াশোনা করার সুযোগ পেতাম। আমার ইচ্ছে আমি পড়াশোনা করে বিসিএস ক্যাডার হব।’

লিপির মা রহিমা বেগম (৩৫) বলেন,‘অনেক কষ্টে আমার সংসার চলে। মেয়ে আমার ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু পড়াশোনা চালানোর টাকা আমার নেই। জানি না মেয়ের স্বপ্নপূরণ হবে কিনা?’

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন লাভলু জানান, মেয়েটি মেধাবী। তার বাবা দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে অনেক কষ্টে তাদের সংসার চলে। কেউ সহযোগিতা করলে লিপি ঢাবিতে পড়াশোনা করার সুযোগ পেত।

আপনার মতামত লিখুন :