বিচার পাচ্ছে না মাধবীর পরিবার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হত্যার শিকার মাধবীর বাবা-মা। ছবি: বার্তা২৪.কম

হত্যার শিকার মাধবীর বাবা-মা। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘আমরা দলিত সম্প্রদায়ের লোক। সমাজের চোখে অবহেলিত, উপেক্ষিত। মানুষ আমাদের কথা শুনতে চায় না, জানতেও চায় না। এ কারণে আমার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মাধবী হত্যার বিচার হচ্ছে না। শ্বাসরোধে হত্যা করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। তবুও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। আমি এখন কোথায় যাব, কার কাছে বিচার চাইব?’

অশ্রুসিক্ত চোখে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার মানিক দাস।

গত ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নেহার স্কুলপাড়াতে মাদকাসক্ত স্বামী খোকন দাসের পরিবারে হত্যার শিকার হন তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মাধবী রাণী দাস।

এদিকে ওই হত্যাকে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাধবীর লাশ রেখে পালিয়ে যায় স্বামী খোকন দাসসহ পরিবারের অন্যরা।

এ ঘটনায় মাধবীর বাবা মানিক দাস বদরগঞ্জ থানায় হত্যার অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা না নিয়ে ইউডি মামলা করে দায়িত্ব এড়িয়ে যায়। এরপর থেকে ওই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংগঠন আন্দোলন করছে।

মাধবীর বাবা মানিক দাস বার্তা২৪.কমকে জানান, প্রায় চার বছর আগে মাধবী রাণী দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় বদরগঞ্জ পৌরশহরের বালুয়াভাটা এলাকার নেহার স্কুলপাড়ার খিতিশ চন্দ্র দাসের ছেলে খোকন দাসের। বিয়ের পর এক বছরের মাথায় তাদের ঘরে জন্ম নেয় ছেলে দেবদাস। এরপর খোকন দাস মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করত। এছাড়া যৌতুকের টাকার জন্যও মারধর করত।

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা চলতে থাকায় আমি মাধবীকে দিয়ে বদরগঞ্জ থানায় স্বামী খোকন দাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করি। কিন্তু পুলিশ অভিযোগটি আমলে না নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মীমাংসা করে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে।’

অন্যদিকে মাধবীর মা ভারতী রাণী দাস বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গত ২৬ আগস্ট আমার মেয়ে ফোন করে বলে, মা আমাকে খুব মারধর করেছে। আমি এখানে আর থাকব না। আমাকে এসে নিয়ে যাও। আমি জামাইয়ের বাড়িতে গেলে মাধবীর স্বামী খোকন আমার মেয়েকে নিয়ে আসতে বাধা দেয়। সেখান থেকে চলে আসার দুইদিন পর মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) সকালে মোবাইল ফোনে সংবাদ আসে আমার মেয়ে মারা গেছে। ওই ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে বদরগঞ্জে এসে দেখি আমার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, ওকে হত্যা করা হয়েছে।’

এদিকে মাধবীর তিন বছর বয়সী একমাত্র সন্তান দেবদাস কোনো কথা না বললেও শুধু মাকে খুঁজছে। নানা-নানিকে বলছে, ‘আমার মা কোথায়? মাকে এনে দাও।’

স্থানীয় নারী নেত্রী বদরগঞ্জ নারী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আফরোজা বেগম বার্তা২৪.কমকে জানান, মাধবীকে হত্যা করে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি পালাতক রয়েছে। পুলিশ মামলাটি গ্রহণ না করে অপরাধীদেরকে সহযোগিতা করেছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মুস্তারিন জাহান মওলা জানান, গত ২৮ আগস্ট মাধবীকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় দাগ ছিল, কিন্তু এটা ফাঁসের চিহ্ন কিনা তা বোঝা যাচ্ছিল না।

হত্যা মামলা না নেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মাধবীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :