Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

‘নিরাপত্তার নামে কণ্ঠরোধ কোনো সমাজের জন্যই ভালো না’

‘নিরাপত্তার নামে কণ্ঠরোধ কোনো সমাজের জন্যই ভালো না’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুভ ফাউন্ডেশনের কর্মশালা, ছবি: বার্তা২৪.কম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অপতথ্য ব্যবস্থাপনা বর্তমান বিশ্বে খুব গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয় পরিণত হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নতুন হলেও গুরুত্বপূর্ণ। আর ইন্টারনেটের কল্যাণে প্রচলিত মিডিয়ার বাইরে স্যোশাল মিডিয়া এখন মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাই এর ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মিস ইনফরমেশন ম্যানেজম্যান্ট: জাজিং ফ্যাক্ট ফ্রম ফিকশন’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুভ ফাউন্ডেশন এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

মুভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত এবং ডিইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।

অতিথি বক্তা হিসেবে কর্মশালা পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ওয়াশিংটন ডিসির ‘নিউজিয়ামইডি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিজ বারবারা ম্যাকরম্যাক।

সমাপনী পর্ব পরিচালনা করেন মার্কিন দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা নিকোলাস পপ।

কর্মশালায় সাংবাদিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক সেনাপ্রধান ও সংখ্যালঘু এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মিজ বারবারা ম্যাকরম্যাক কর্মশালায় বলেন, নিরাপত্তার নামে কন্ঠরোধ কোনো সমাজের জন্য ভালো হয় না।

তিনি বলেন, বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ৫৯ ভাগ সংবাদই মানুষ হেডিং দেখেই শেয়ার করে থাকে। ভেতরের বিষয়টা তারা পড়েন না। তাই সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। কারণ একটি ভুল তথ্য বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

মাহফুজ আনাম তার বক্তব্যে বলেন, অবাধ স্বাধীনতা আমাদের মাঝে দায়িত্বহীনতা তৈরি করে। আর সামাজিক মাধ্যম আমাদের মাঝে অবাধ স্বাধীনতার সুযোগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে পরাধীন মানুষ কিছুই করতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি উম্মুক্ত পরিবেশে আমরা ভুল তথ্যই বেশি পাচ্ছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আমরা দেখতে পাই যে, রাষ্ট্রও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন
অভিযুক্ত মানব পাচারকারী জামাল হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজনকে মিথ্যা আশা দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতা জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন জমা দিয়েছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সিআইডির বিশেষ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শারমিন জাহান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'আজ (মঙ্গলবার) চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা খুব শিগগিরই কক্সবাজার আদালতে দাখিল করা হবে।'

সিআইডির অনুমোদনকৃত চার্জশিটে বলা হয়েছে, জামাল হোসেনের মানবপাচারের মাধ্যমে আয় করা অবৈধ টাকা ইসলামী ব্যাংকের টেকনাফ শাখায় নিজের নামে করা একটি একাউন্টে রাখতেন। তার একাউন্ট থেকে ২০১৪-২০১৫ সাল পর্যন্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ২০১৩ সালের শেষ দিক মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন তিনি। এছাড়া মানব পাচার সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন শুরু করেন। বাংলাদেশের ১৬টি জেলা থেকে তার একাউন্টে মানব পাচার সম্পৃক্ত টাকা আসত।

আরও বলা হয়েছে, জামাল হোসেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার লোকজনদের সমুদ্র পথ দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠাতেন। বিদেশে লোক পাঠানোর বৈধ কোনো লাইসেন্স নেই তার। লোকজনদের সমুদ্র পথ দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পর তাদের আটকিয়ে রাখা হতো। আটক ব্যক্তিদের আত্মীয় স্বজনদের ফোন করে জামাল হোসেন মুক্তিপণ আদায় করতেন।

জামাল হোসেন টাকা পেলে মালয়েশিয়া থেকে আটকদের ছেড়ে দেয়া হতো। জামাল হোসেন মানব পাচার সংক্রান্ত অপরাধলব্ধ আয়ের ১ কোটি ৮৩ কোটি টাকার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য, টেকনাফ থানার শাহপরীরদ্বীপ থেকে ২০১৮ সালের পহেলা নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি অনুযায়ী বরাদ্দ নেই: খলীকুজ্জমান

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি অনুযায়ী বরাদ্দ নেই: খলীকুজ্জমান
ছবি: বার্তা২৪

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, প্রতিবছর দুর্যোগের কবলে পড়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় সেটার জন্য প্রত্যেক বছর আমাদের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়, কিন্তু ক্ষতির পরিমাণমতো বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয় না।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে বাজেট ২০১৯-২০ এর পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড (সিএসআরএল) ও ঢাকা স্কুল ইকোনমিকস (ডিএসসিই) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সিএসআরএল -এর সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন পরিবেশের একটা অংশ। আর এই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা প্রতিবছর অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। প্রতিবছর আমাদের বিভিন্ন দুর্ভোগের সামনা-সামনি হতে হয়। এতে যেমন দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি আমাদের নানা রকম ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় চাহিদার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাজেটে বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সঠিকভাবে বাজেট বরাদ্দ, ব্যয় ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করলে সেটি বেশি ফলপ্রসূ হয়।

খলীকুজ্জমান জানান, জলবায়ু ও পরিবেশ বাজেট বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে এখনও সময় আছে, আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস এম মনজুরুল হান্নান খান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০০ বছরের ডেল্টা প্লান করেছে। সেখানে মডেলিং করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

কিন্তু বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া অপরাপর পরিবেশগত বিষয় যথাযথভাবে উল্লেখ করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকার অভিযোজন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে গৃহীত জলবায়ু প্রকল্পগুলোর তথ্য স্থানীয় জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকারকে অবহিত করে জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকারকে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন সিএসআরএল -এর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক মুক্তা। বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, ডিএসসিই -এর ড. এ কে এম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র