সংসদ নির্বাচনে ইভিএম থাকছে!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত হয়।

এই তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর হবে ভোটগ্রহণ, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ২২ নভেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ৫ ডিসেম্বর বলেও জানান তিনি।

সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘পুরাতন পদ্ধতির পাশাপাশি ভোটগ্রহণে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেকগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার সফল হয়েছে। জেলা বা অঞ্চল পর্যায়ে ইভিএম এর প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইভিএম-এর উপকারিতা সম্পর্কে ভোটারগণকে অবহিত করা হয়েছে। ইভিএম ব্যবহারে তাদের মধ্যে উৎসাহব্যঞ্জক আগ্রহ দেখা গিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইভিএম ব্যবহার করা গেলে নির্বাচনের গুণগত মান উন্নত হবে এবং সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হবে। সে কারণে শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বৈচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেওয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।’

ইভিএম ব্যবহারে আপত্তি তুলেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে। জোটটির পক্ষে বলা হয়েছিল, অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির মুখে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিতর্কিত ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের কোনো অবকাশ নেই।

বিএনপি ইভিএমে ডিজিটাল কারচুপি ‘সম্ভব’দাবি করে একাদশ নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে না। সেই দাবি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে পক্ষে জানানো হয়। সর্বশেষ ইভিএম মেশিন কেনার টাকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

সিটি নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার করা সফল হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় নির্বাচনে এর ব্যবহার অব্যাহত রাখার কথা বলছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা; সেসময় সংসদ নির্বাচনে তা রাখা হবে না। কিন্ত দুই মাস আগে জাতীয় নির্বাচন ইভিএম ব্যবহার করা কথা জানান তিনি।

এই ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতার নো অব ডিসেন্ট দিয়ে সভা কক্ষও ত্যাগ করেছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

জাতীয় এর আরও খবর