হিমেল পরশে জমেছে ভাপা পিঠার দোকান

ইলিয়াস আরাফাত, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হিমেল পরশে জমেছে ভাপা পিঠার দোকান। ছবি: বার্তা২৪.কম

হিমেল পরশে জমেছে ভাপা পিঠার দোকান। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে বছর ঘুরে বাংলার প্রকৃতিতে এসেছে শীত। সেই সঙ্গে হিমেল পরশ। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হিম বেড়ে যায় আরও। শীত নিবারণ করতে মানুষ শরীরে জড়াচ্ছে বাড়তি কাপড়। তাইতো কদর বেড়েছে গরম কাপড়ের। একই সঙ্গে কদর বেড়েছে নানা প্রকার শীতের পিঠারও।

শীত এলেই মনে পড়ে যায় পিঠার কথা। পিঠা ছাড়া বাঙালির জীবনে শীত যেন পরিপূর্ণ হয় না। শীতের সকালে কাঁপতে কাঁপতে মায়ের উনুনের পাশে বসে পিঠা খাওয়া গ্রামের অতি পরিচিত একটি দৃশ্য। সকাল-সন্ধ্যায় শীতে গায়ে গরম কাপড় জড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠার স্বাদ পেতে ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। সুস্বাদু ও মুখরোচক ভাপাপিঠা বাঙালি জীবনের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার।

শহুরে ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ঘরে পিঠা বানানোর সময় তেমন মেলে না। সে কারণে বর্তমানে বাইরের দোকানের পিঠাই একমাত্র ভরসা। আর তাইতো শহরের বিভিন্ন উপজেলার রাস্তার মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান।

বর্তমানে রাজশাহী নগরীতে চলছে ভাপা পিঠা কেনাবেচার ধুম। শীতকে ঘিরে নগরীর প্রায় প্রতিটি মোড়ে, গলিতে ছোট ছোট ভাপা পিঠার দোকান নিয়ে বসেছে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও। খেজুরের গুড়, নারিকেল ও চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি করা হয় ভাপা পিঠা। প্রতিটি পিঠা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। আবার কোথাও কোথাও ৫ টাকা দামেও বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে শীতে জমে উঠেছে ভাপা পিঠার দোকান।

নগরীর বিনোদপুর বাজারের পিঠা বিক্রেতা আশরাফ আলী (৬০) বলেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে পিঠা বিক্রি করছি। একই পেশায় ছেলেও কাজ করছে। নিজের ভালো লাগা থেকেই বেছে নিয়েছে এই পেশা। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার পিঠা বিক্রি হয়। শীত বেশি পড়লে আরও বেশি বিক্রি হবে।’

রাজশাহী মহানগরীর মির্জাপুর হানুফার মোড়ের পিঠা বিক্রেতা নিরুফা বেগম (৫০) বলেন, ‘পিঠা ভালোই বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ২ কেজি চালের গুঁড়া, ৫০০ গ্রাম গুড় ও একটা নারিকেল দিয়ে পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছি। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো পিঠা বানায়। তাই আমার কাছে ছেলে-মেয়েরা পিঠা খেতে আসে। চাহিদা থাকার কারণে অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে।’

বিনোদপুর বাজারে পিঠা খেতে এসেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিপন কুমার দাশ (২২)। তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্রাবাসে থাকি। বাড়িতে যাওয়ার তেমন সুযোগ হয়ে উঠে না। তাই এখানে পিঠা তৈরি করা দেখে নিজেকে সামলাতে পারি না।’

আপনার মতামত লিখুন :